যশোরে স্ত্রীর নির্যাতনের অভিযোগ: কলেজ শিক্ষককে ঢাকায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে হাজির হওয়ার নির্দেশ

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : যশোরে স্ত্রীর করা নির্যাতনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক কলেজ শিক্ষককে রাজধানীর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত রহমত হোসেন যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর আলহেরা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক। তার স্ত্রী নাহিদ শারমীন (৩৫) অভিযোগ করেছেন, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে এবং সন্তান না হওয়ার জন্য তাকে দায়ী করে বছরের পর বছর মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ‘মানসিক রোগী’ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টাও চালানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নাহিদ শারমীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি আমলে নেয় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল। এর ধারাবাহিকতায় সেলের উপপরিচালক (ম্যাজিস্ট্রেট) গত ৩০ জুন অভিযুক্ত শিক্ষক রহমত হোসেনের নামে হাজিরার নোটিশ জারি করেন।

নোটিশে আগামী ২৩ জুলাই সকাল ১০টায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সাক্ষীসহ রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডে অবস্থিত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে প্রচলিত দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

রহমত হোসেন নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে লোকসমাজকে বলেন, নির্ধারিত তারিখে তিনি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে উপস্থিত হবেন।

লিখিত অভিযোগে নাহিদ শারমীন উল্লেখ করেন, তিনি ঢাকার মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ২০১৬ সালের ৯ জুলাই রহমত হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। তাকে হেয়প্রতিপন্ন করা, উচ্চশিক্ষা নিয়ে কটূক্তি, শারীরিক গঠন নিয়ে বিদ্রুপ এবং ‘অলক্ষ্মী’ বলে অপমান করার ঘটনাও নিয়মিত ঘটত বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২০ সাল থেকে তাকে মানসিক রোগী হিসেবে পরিচিত করার উদ্দেশ্যে আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও পরিচিতজনদের কাছে অপপ্রচার চালানো হয়। সন্তান না হওয়ার জন্যও এককভাবে তাকে দায়ী করা হতো।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালে যশোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসার নামে তাকে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। পরে বাবার বাড়িতে রেখে ঘরের চাবি কেড়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের প্রমাণ চাওয়া হলে স্বামী তার অবস্থান পরিবর্তন করেন বলে দাবি করেন নাহিদ শারমীন।

তিনি আরও দাবি করেন, সম্প্রতি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও কর্মক্ষম বলে প্রমাণ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জমি কেনার কথা বলে তার বাবার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বড় বোনের কাছ থেকেও ঋণের টাকা আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হতো। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চাইলে ‘বাপের বাড়ি থেকে এনে দিতে’ বলা এবং গালিগালাজ করাও ছিল নিয়মিত ঘটনা।

ভুক্তভোগী নারীর দাবি, অভিযুক্তের এসব কর্মকাণ্ড যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৮, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এবং পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন-২০১০-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ বিষয়ে রহমত হোসেন লোকসমাজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে সামাজিকভাবে আলোচনা চলছে। ২৩ জুলাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তিনি ঢাকায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে হাজির হবেন।