নড়াইলে শোকের মাতম: ডিএনডি লেকে ডুবে মারা যাওয়া দুই ভাইবোন ও জামাইয়ের দাফন

দুই সন্তান ও জামাইকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা, শোকে স্তব্ধ রঘুনাথপুর গ্রাম

0
নড়াইলে শোকের মাতম

সুলতান মাহমুদ, নড়াইল ॥ ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর আশায় প্রায় দুই বছর আগে স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে নড়াইল ছেড়ে নারায়ণগঞ্জে পাড়ি জমিয়েছিলেন আকরাম হোসেন বিশ্বাস (৫০)। সেখানে কাঁচামালের ব্যবসা করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে হারালেন একমাত্র ছেলে, ছোট মেয়ে এবং জামাইকে। ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে অসহনীয় শোকে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মারা যান আকরাম হোসেনের ছেলে গালিব (১৮), মেয়ে সুরাইয়া আক্তার (১২) এবং বড় মেয়ে তিথি বেগমের স্বামী রাশেদুজ্জামান (২২)।

রোববার ভোর প্রায় ৪টার দিকে নিহতদের মরদেহ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে পৌঁছালে শোকের মাতম নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

পারিবারিক সূত্র জানায়, রোববার সকাল ১০টায় রঘুনাথপুর আহসানিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে গালিব ও সুরাইয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গ্রামের কবরস্থানে পাশাপাশি দুটি কবরে ভাই-বোনকে দাফন করা হয়। অপরদিকে রাশেদুজ্জামানের মরদেহ দাফন করা হয়েছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ গাজীসহ প্রতিবেশীরা জানান, একই পরিবারের দুই সন্তান ও এক জামাইয়ের মৃত্যুতে পুরো রঘুনাথপুর গ্রাম শোকে স্তব্ধ। সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে পরিবার নিয়ে গ্রাম ছেড়ে নারায়ণগঞ্জে গিয়েছিলেন আকরাম হোসেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাকে ফিরতে হয়েছে তিনটি মরদেহ নিয়ে।

আকরাম হোসেন বলেন, তার একমাত্র ছেলে গালিব ও ছোট মেয়ে সুরাইয়া মাঝেমধ্যেই ব্যবসার কাজে তাকে সহযোগিতা করত। বছরখানেক আগে বড় মেয়ে তিথি বেগমের সঙ্গে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ গ্রামের দেলোয়ার মিয়ার ছেলে রাশেদুজ্জামানের বিয়ে দেন। পরিবারে আরও পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

তিনি জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। কয়েকদিন আগে সবাই আবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ফিরে যান। কাজের সন্ধানে জামাই রাশেদুজ্জামানও তাদের বাসায় অবস্থান করছিলেন। শনিবার বিকেলে তিনজন একসঙ্গে ডিএনডি লেকে গোসল করতে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যান। স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

দুই সন্তান ও জামাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ আকরাম হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের কান্নায় বারবার ভারী হয়ে উঠছে বাড়ির আঙিনা।

পুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মনি বলেন, “রঘুনাথপুর গ্রামের আকরাম হোসেনের দুই সন্তান ও জামাইয়ের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। এই ঘটনা পুরো এলাকাবাসীকেই শোকাহত করেছে।”