সনদ-এনআইডি জালিয়াতির অভিযোগ, কয়রায় দুই ফ্যামিলি কার্ড তথ্যসংগ্রহকারীর নিয়োগ বাতিল

0

কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা, লোকসমাজ : খুলনার কয়রা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্যসংগ্রহকারী পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত দুই প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে তাঁদের শিক্ষাগত সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যে ত্রুটি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বোর্ড এ সিদ্ধান্ত নেয়।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বোর্ডের নথি অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়। এতে বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রার্থীদের পাশাপাশি মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের শাহনাজ এবং মহারাজপুর ইউনিয়নের নিগার সুলতানা প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন।

নথিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের সময় বয়সসংক্রান্ত কারণে তাঁদের আবেদন বাতিল করা হয়েছিল। পরে তাঁরা আপিল করলে আবেদন পুনর্বিবেচনা করা হয় এবং পরবর্তীতে তথ্যসংগ্রহকারী পদে তাঁদের নির্বাচিত করা হয়।

মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের শাহনাজ আবেদনপত্রের সঙ্গে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি সনদ দাখিল করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে সনদটি যাচাই করা হয়। যাচাইয়ে সনদটিতে ত্রুটি পাওয়া যায় বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মহারাজপুর ইউনিয়নের মো. মাসুদুর রহমানের স্ত্রী নিগার সুলতানার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, আবেদনের শেষ তারিখ অনুযায়ী তাঁর বয়স ৪০ বছর ২ মাস ২১ দিন। ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর নির্দেশিকার ৫.২ ধারায় নির্ধারিত বয়সসংক্রান্ত শর্তের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে নিয়োগ বোর্ডের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে দুজনের তথ্যসংগ্রহকারী পদে নিয়োগ বাতিল করা হয়।

কয়রা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নিয়োগ বোর্ডের সদস্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়গুলো নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাইয়ে সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যে ত্রুটি পাওয়া যায়। তারা ডকুমেন্ট জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি ধরা পড়ার পর বিধি অনুযায়ী তাঁদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, কয়রায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জনবল নিয়োগের ফলাফল প্রকাশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ উপজেলাজুড়ে সমালোচনা হয়। বয়সসংক্রান্ত অসঙ্গতি ও সনদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার বিষয়টি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।