চৌগাছায় মোবাইল টাওয়ারের চূড়া থেকে লাফ দিয়ে যুবকের আত্মহনন

0
যশোরের চৌগাছায় মোবাইল টাওয়ারের চূড়া থেকে লাফ দিয়ে টিটো নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক অনটন, ঋণগ্রস্ততা ও মানসিক কষ্টে তিনি এ পথ বেছে নেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

স্টাফ রিপোর্টার চৌগাছা যশোর॥ যশোরের চৌগাছায় মোবাইলের টাওয়ারের উপর থেকে লাফ দিয়ে টিটো (৪০) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে। আজ ৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

টিটো চৌগাছা পৌর এলাকার ইছাপুর কলপাড়ার মৃত জামাত আলীর ছেলে। বেশ কিছু দিন ধরে তিনি মানষিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিল বলে জানান স্থানীয়রা।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টিটো সকাল ৬টার দিকে নিজ বাড়ি হতে ইছাপুর মসজিদ পাড়াতে আসেন। সেখানে কিছু সময় অপেক্ষা করে চলে আসে গ্রামের পুকুর পাড়ের মোবাইল টাওয়ারের নিকট। এরপর সে কাউকে কিছু না বলে টাওয়ারে উঠা শুরু করে। স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে তাকে নামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সে করো ডাকে সাড়া না দিয়ে টাওয়ারের সর্বোচ্চ স্থানে উঠে নিচে ঝাপ দেয়।

স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে চৌগাছা সরকারী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।

গ্রামের বাসিন্দা হাচানুজ্জামান বলেন, আমি দোকানে বসে চা পান করছি। এসময় একজন এসে বলছে টিটো টাওয়ারে উঠছে কারো ডাক শুনছে না। আমি দ্রুত সেখানে পৌঁছে একদিকে তাকে নামতে বলছি অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দিব বলে চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে সে টাওয়ারের সর্বোশেষ উপরে উঠেই ঝাপ দিছে।

আমি শুধু এই টুকু দেখলাম সে চেয়ারে বসার মতই দ্রুত নিচে পড়ছে। আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম, এরপর যা ঘটার ঘটে গেল।

স্থানীয় ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আনিছুর রহমান জানান, টিটোর বাবা বেশ আগেই মারা গেছেন। সে অভাবের সংসারের স্বচ্চলতা ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবে যায়। কিন্তু থাকতে পারেনি এক বছর পারে চলে আসে বাড়িতে।

বিদেশ যাওয়ার সময় ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গা হতে প্রায় ৫ লাখ টাকা দেনা হয়ে যায়। মা নবিছন বেগম ক্যান্সারের রোগী, ছোট ভাই সুমন হোসেন তিনিও মানষিক ভারসাম্যহীন। অপর ছোট ভাই মাসুম বিল্লাহ থাকে ঢাকাতে।

টিটোর বর্তমান অবস্থা দেখে স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে চলে গেছেন বগুড়ায় পিতার বাড়িতে। সব কিছু মিলে চরম এক মানষিক অশান্তিতে ছিলেন টিটো। ধারনা করা হচ্ছে এ সবের কারনেই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
থানা অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।