টানা বৃষ্টিতে চৌগাছার নিচু এলাকা প্লাবিত -লোকসমাজ

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর), লোকসমাজ : বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি শনিবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় যশোরের চৌগাছা উপজেলার বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে উঠতি ফসল ও আমন বীজতলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতভর ভারী বর্ষণের ফলে ভোর হওয়ার আগেই উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচনামনা বালিগর্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অন্তত ২০ থেকে ৩০টি বসতঘর অর্ধেকের বেশি পানির নিচে চলে গেছে। এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দাই আদিবাসী সম্প্রদায়ের। রাত থেকেই তারা ঘরের মালামাল সরিয়ে আশপাশের নির্মাণাধীন ভবন কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভোরের আগেই অনেক ঘরে পানি ঢুকে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা দুষ্টু সরদার বলেন, “আমাদের এলাকা তুলনামূলক নিচু। কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। প্রতি বছর বর্ষা এলেই ঘরে পানি উঠে যায়।”
বিনতি রানী সরদার বলেন, “ভোর থেকে মালামাল সরানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সবকিছু রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। অনেক জিনিসপত্র পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।”
হযরত আলী বলেন, “রাতভর বৃষ্টিতে অনেক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকেছে। অনেকেই মূল্যবান জিনিসপত্র রক্ষা করতে পারেননি।”
কৃষ্ণ সরদার বলেন, “অভাবের কারণে কম দামে জমি কিনে এখানে বসতি গড়েছি। প্রতি বছর বর্ষায় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। ঘরে পানি উঠে সবকিছু নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু যাওয়ারও কোনো জায়গা নেই।”
২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাহিদুল ইসলাম বলেন, “এলাকাটি স্বাভাবিকভাবেই নিচু। আশপাশের পানি এসে এখানে জমা হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থারও তেমন সুযোগ নেই। আমি জনপ্রতিনিধি থাকাকালীন যেমন তাদের পাশে ছিলাম, এখনও আছি।”
এদিকে টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে উঠতি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভবানীপুর গ্রামের কৃষক কবির হোসেন বাবলু বলেন, “এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে সবজি চাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।”
বেলেমাঠ, বাঘারদাড়ি ও কংশারীপুর এলাকার কৃষকরা জানান, পটল, বেগুন, বরবটি ও অন্যান্য সবজির খেতে পানি জমে গেছে। দীর্ঘ সময় পানি থাকলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পাশাপোল গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও শিমুল আক্তার জানান, রাতভর বৃষ্টিতে মাঠঘাট পানির নিচে চলে গেছে। বিশেষ করে আমন বীজতলা ও সদ্য রোপণ করা ধান ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে এবং অনেক কৃষক আর্থিক সংকটে পড়বেন।
বিকেলে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চৌগাছার আকাশ কালো মেঘে আচ্ছন্ন ছিল এবং বৃষ্টি অব্যাহত ছিল।