নজরুল স্মরণ আর সুরে সুরে যশোরে বর্ষাবরণ

0
ছবি: সংগৃহীত।

বি এম আসাদ ॥ বাইরে তখন আকাশ ভাঙা বৃষ্টি। শ্রাবণের অঝোর ধারায় ভিজছে যশোর শহর। এই বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতির মাঝেই শিল্পকলা মিলনায়তের ভেতরে তখন সুরের অন্যরকম এক মায়াজাল। ‘বুলবুলি তুই দিসনে আজি দোল…’নজরুলের চেনা গানের এই চেনা সুর যখন মিলনায়তনের স্পিকারে ভেসে বেড়াল, তখন উপস্থিত সবার মন যেন এক নিমেষে চলে গেল অন্য কোনো এক ভুবনে। প্রচণ্ড বর্ষণকে উপেক্ষা করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বসেছিল এ সুন্দর আসর।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মরণ এবং ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের ‘বর্ষাবরণ’ উপলক্ষে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাটি যেন হয়ে উঠেছিল নাগরিক ক্লান্তি দূর করার এক পশলা স্নিগ্ধ বাতাস।

যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুর নিকেতন’ আয়োজন করেছিল এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের। দেড় ঘণ্টার এই নিবিড় আয়োজনে লোক ও ফোক সংগীতের সাথে নজরুল, হাসন ও লালনের গান পরিবেশিত হয়। গানের ডালির পাশাপাশি ছিল কবিতা আবৃত্তি আর নৃত্যের নান্দনিক উপস্থাপনা। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শক-শ্রোতাদের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে , যশোরের মানুষের মনের ভেতর সংস্কৃতির টান কতটা গভীর।

অনুষ্ঠানের মাঝে আয়োজন করা হয়েছিল একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার। সেখানে উঠে আসে কবি নজরুল এবং বাঙালির বর্ষা-আবেগের কথা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, যশোরের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন অর রশিদ, কিংশুক যশোরের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল করীম সোহেল, নাট্যকার মাসউদ জামান।

অনুষ্ঠানের শুরুটা হয়েছিল কবি নজরুলের সেই চেনা শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। খুদে শিল্পীদের কণ্ঠে কবির বিখ্যাত শিশুতোষ ছড়া ‘ভোর হলো’ এবং ‘সংকল্প’ কবিতার আবৃত্তি উপস্থিত সবার মুখে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে তোলে।

এরপরই শুরু হয় সুরের মূল জাদু। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত শিল্পী অংশ নেন এই আয়োজনে। একে একে মঞ্চে এসে গানে, নাচে ও ছন্দে মুগ্ধতা ছড়ান শিল্পী রিয়া, শিল্পী সঞ্জয়, শিল্পী খোকা, শিল্পী কেয়া, শিল্পী অরণ্য, শিল্পী বাণী, শিল্পী স্বস্তিকা ও শিল্পী মিথিলাসহ আরও অনেকে। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সাবলীল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে সঞ্চালনা করেন সঞ্জয় বিশ্বাস।