চট্টগ্রামে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ১০ জনের মৃত্যু

0
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়ক ও লোকালয়ে নৌকা ও ভেলা দিয়ে যাতায়াত করছেন পানিবন্দি মানুষ।। ছবি: সংগৃহীত
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলাজুড়ে এক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার অন্তত সাড়ে ৭ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবারের মোট ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন মানুষ বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে জেলায় এ পর্যন্ত মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।

আজ সকালে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলে ভেসে গিয়ে মিরাজ (৫) ও আশিক (৬) নামের দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বর্তমানে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। জেলার প্রতিটি উপজেলা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার জন্য নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে সাতকানিয়া উপজেলায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। সাধারণ মানুষের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ফলে অচল হয়ে পড়েছে ওই এলাকার প্রশাসনিক ও চিকিৎসা কার্যক্রম।