ভবদহে বৃষ্টিতে সদ্য খনন করা নদীর পাড় ধস, আলোচনায় প্রকল্পের কিছু অসঙ্গতি

নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে নদী খনন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ

0
ভবদহে বৃষ্টিতে সদ্য খনন করা নদীর পাড় ধস

জয়দেব চক্রবর্তী, কেশবপুর (যশোর) : টানা ভারী বৃষ্টিতে যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকার হরিহর নদীর সদ্য খনন করা কয়েকটি অংশে পাড় ধসে পড়েছে। এতে নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে নদী খনন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ এবং নদীপাড়ের মাটির গুণগত মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে দেখা যায়, পৌর এলাকার বালিয়াডাঙ্গা অংশে নদীপাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে ভাঙন ঠেকাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে বল্লি ও ডাউনশিট স্থাপনের কাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী জানান, বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় প্রায় ১৩০ মিটার নদীপাড়ের মাটির গুণগত মান তুলনামূলক দুর্বল ছিল। খননকাজ শেষ হওয়ার পর ভারী বর্ষণের কারণে ওই অংশে ধস দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দ্রুত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভবদহে বৃষ্টিতে সদ্য খনন করা নদীর পাড় ধস
বৃষ্টিতে ভবদহ এলাকার হরিহর নদীর পাড় ধসে পড়ার স্থান পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা- লোকসমাজ

তিনি বলেন, “ভবদহ এলাকার ছয় নদী পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। প্রায় ৩৭ শতাংশ কাজ এখনও বাকি রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে আগামী শুষ্ক মৌসুমে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
তবে নদী খননকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহর এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের জমি ও স্থাপনা রক্ষার স্বার্থে নদীর মূল নকশা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। এতে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দা ও আইনজীবী মফিজুর রহমান বলেন, নদীর স্বাভাবিক নকশা পরিবর্তন করা হলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা বাড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নদী ভাঙনের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে হরি-ঘ্যাংরাইল অববাহিকা জলাবদ্ধতা নিরসন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানের দাবি, অতীতে অপরিকল্পিত নদী খননের কারণে কেশবপুর-মনিরামপুর অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রকল্পটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হওয়ায় তিনি কাজের মান নিয়ে আশাবাদী। পাউবোর কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকল্পভুক্ত ছয়টি নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোর মুখ উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এমন স্থাপনাও অপসারণ করা হবে। এতে কেশবপুর, মনিরামপুর এবং সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, হরি-ঘ্যাংরাইল অববাহিকার জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে বর্তমানে হরিহর নদীর খননকাজ চলমান রয়েছে।