‘বাংলা বিভাগে পড়লে মরে গিয়েও বেঁচে থাকা যায়’ — এশিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক সাদেক

0
বাংলা এমন একটি বিভাগ, যেখানে তোমরা মরে গিয়েও বেঁচে থাকতে পারবে : অধ্যাপক সাদেক

স্টাফ রিপোর্টার : ‘বাংলা এমন একটি বিভাগ, যেখানে তোমরা মরে গিয়েও বেঁচে থাকতে পারবে’— এমন মন্তব্য করেছেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এইউবি) প্রতিষ্ঠাতা, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসের আয়েশা মেমোরিয়াল হলে বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই, নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক সাদেক বলেন, মাতৃভাষা বাংলার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের যাত্রার শুরু থেকে বাংলা বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলা শুধু একটি একাডেমিক বিষয় নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, চিন্তা-চেতনা ও সৃষ্টিশীলতার অন্যতম ভিত্তি।

নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে যখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগত কাঠামোও গড়ে ওঠেনি, তখন থেকেই তিনি এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। ১৯৮৮ সাল থেকে প্রচেষ্টা শুরু করে ১৯৯২ সালে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হওয়ার পর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সহকর্মী তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, কেন তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ রাখতে চান। অনেকেই মনে করতেন, বাংলা বিভাগে কেবল অন্যত্র ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীরাই পড়বে। তবে তিনি সেই ধারণার সঙ্গে একমত হননি।

অধ্যাপক সাদেক বলেন, “বাংলায় তারাই পড়বে, যাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আছে, যারা চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতাকে লালন করে এবং নিজের স্বপ্নকে অনুসরণ করার সাহস রাখে। আমি বিশ্বাস করি, বাংলা সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিভাগগুলোর একটি।”

তিনি আরও বলেন, বাংলা বিভাগ ছাড়া এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ কখনো পূর্ণাঙ্গ হতে পারত না। তাই প্রতিষ্ঠার প্রথম দিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগ রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলা বিভাগ শিক্ষার্থীদের শুধু ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ দেয় না; বরং তাদের চিন্তা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করে। ভাষা ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে একজন মানুষ নিজের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে এবং সৃষ্টিশীল কর্মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারে।

অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহ্বান জানান এবং শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, প্রফেসর ড. এ. এস. এম. ইকবাল হুসাইন এবং অ্যালামনাই অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর হানিফ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রিটা আশরাফ।

এ সময় বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই কমিটিও ঘোষণা করা হয়। কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাংবাদিক রনজক রিজভী, সহসভাপতি শাহীন আলম, সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আহমেদ রিপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক কুলসুমা আক্তার ও মাহমুদুল হাসান। এছাড়া রোকেয়া খাতুন কোষাধ্যক্ষ, তানিয়া আক্তার প্রচার সম্পাদক এবং জামিলুর রহমান সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নৃত্য, গান, কবিতা আবৃত্তি, নাট্যাভিনয় ও লোকজ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় শিক্ষার্থীরা বাঙালির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরেন। চর্যাপদের ধারা থেকে শুরু করে লোকসংস্কৃতি, আঞ্চলিক ভাষা ও মাটির গন্ধমাখা নানা উপস্থাপনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাজুল ইসলাম। তিনি বিভিন্ন চরিত্র ও পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক রূপ তুলে ধরেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের মিলনমেলায় প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হলেও অংশগ্রহণকারীদের কাছে দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রিটা আশরাফ। সঞ্চালনা করেন প্রভাষক তাজুল ইসলাম ও প্রভাষক সিনথিয়া জাহান বিথুন।