নওয়াপাড়া ব্যবসায়ী আনিছ হত্যা: প্রধান আসামি শাহ মাহমুদসহ ২ জন গ্রেফতার

0
অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় ব্যবসায়ী আনিছ হ্ত্যা মামলায় আটক
আটক শাহ মাহমুদ ও নাসির

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ :
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নদীবন্দর এলাকার ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ মো. মাহমুদসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। অপর অভিযুক্ত নাসিরকেও পৃথক অভিযানে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার শাহ মো. মাহমুদ নওয়াপাড়ার পীরবাড়ি এলাকার শাহ জুনায়েদের ছেলে। তাকে রোববার রাতে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে সোমবার পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে।

অভয়নগর থানা পুলিশ, ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম বলেন, দোকান ভাড়া সংক্রান্ত বিষয় ছাড়াও হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কারণ রয়েছে, যা তদন্তাধীন।

এদিকে মামলার দ্বিতীয় অভিযুক্ত নাসির (৩২)–কে ময়মনসিংহের শেরপুর এলাকা থেকে র‌্যাব-৬ এর একটি দল আটক করে। র‌্যাব জানায়, নাসিরকে তার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের এসআই শাকিল জানান, নাসির শেরপুর থানার টাকীবাড়ি চর এলাকার একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।

গত ৬ মে নওয়াপাড়া শিল্পশহরের পীরবাড়ি মসজিদের পশ্চিম পাশে নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান অবস্থান করছিলেন। এ সময় শাহ মো. মাহমুদ, নাসিরসহ ২-৩ জন সেখানে গিয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, শাহ মো. মাহমুদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনিসুর রহমানের মুখে কোপ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৭ মে রাত সোয়া ৩টার দিকে তিনি মারা যান।

গ্রেফতার শাহ মো. মাহমুদকে সোমবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনার প্রতিবাদে গত ১৩ মে নওয়াপাড়া নদীবন্দরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। পরে ব্যবসায়ী নেতারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।

যশোরের পুলিশ সুপারও এর আগে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ঘটনার তদন্তে পুলিশি তৎপরতা চলমান রয়েছে এবং খুব শিগগিরই অগ্রগতি জানানো হবে।