যশোর জেনারেল হাসপাতালে ওষুধ সংকট

বি এম আসাদ, লোকসমাজ : যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি ওষুধ না থাকায় অনেক রোগী চিকিৎসা নিয়েই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রিক, ঠান্ডা-কাশি ও সংক্রমণজনিত রোগের গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস্ট্রিকের জন্য ব্যবহৃত ওমিপ্রাজল, প্যানটোপ্রাজল ও এন্টাসিড এবং শিশুদের জন্য মন্টিলুকাস্টসহ একাধিক প্রয়োজনীয় ওষুধ বর্তমানে স্টোরে নেই। গত প্রায় এক মাস ধরে এসব ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোগীরা শুধু ব্যবস্থাপত্র নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন এবং বাইরে থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
টেন্ডার জটিলতায় সরবরাহ ব্যাহত
হাসপাতাল স্টোর ও ফার্মেসি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইডিসিএল মোট চাহিদার ৭৫ শতাংশ ওষুধ সরবরাহ করে। বাকি ২৫ শতাংশ টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা হয়। কিন্তু এমএসআর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দেওয়ায় নতুন ওষুধ ক্রয় সম্ভব হয়নি।
সূত্র জানায়, প্রথম দফার টেন্ডার ঢাকায় পাঠানো হলেও তা অনুমোদন পায়নি। পরে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ কারণে হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।

যশোর জেনালে হাসপাতালে ওষুধ না পেয়েরোগীদের ভোগান্তি চরমে
বর্তমানে হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় আড়াই হাজার এবং ওয়ার্ডে সাতশর বেশি রোগী চিকিৎসা নেন। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, হাম, ঠান্ডা-জ্বর ও কাশিসহ মৌসুমি রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় রোগীর চাপও বেড়েছে।
কিন্তু প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় বিশেষ করে দরিদ্র রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে কয়েকগুণ বেশি দামে ওষুধ কিনছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন
হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সিং শিক্ষার্থীসহ প্রায় চার শতাধিক প্রশিক্ষণার্থী এবং স্থায়ী চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী মিলিয়ে আরও ছয় শতাধিক জনবল রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওষুধ ব্যবহারে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণেও সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, “ওষুধ সংকটের বিষয়টি সত্য। নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে দ্রুতই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।”