মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্নীতির অভিযোগ, সিন্ডিকেট চক্রের প্রভাব নিয়ে ক্ষোভ

কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

0

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা, লোকসমাজ :
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে সাধারণ কর্মীরা অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের এসব অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এতে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে এবং কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

বিশেষ করে নার্সিং বিভাগে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়র নার্সদের মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে ইনচার্জ দায়িত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত নাইট ডিউটি পালন করেন না। বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র নার্সদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও তা সমাধান হয়নি।

এছাড়া কয়েকজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের (স্যাকমো) বিরুদ্ধে হাসপাতালের বাইরে ব্যক্তিগত চেম্বারে জটিল রোগের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তারা নির্দিষ্ট কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নিম্নমানের ওষুধ দেওয়ার মাধ্যমে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

একজন নারী স্যাকমোর বিরুদ্ধে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের হিসাব বিভাগ নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত এক হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে ঘুষ ছাড়া বিল পাস না করা, বিল আটকে রাখা এবং অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, সম্প্রতি দুই নার্সের ইনক্রিমেন্ট বিল পাসের জন্য তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি শহরতলীতে বাড়ি নির্মাণ ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বেনামে কিনেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে গত ৩০ মার্চ বিষপান করা এক রোগীর চিকিৎসা নিয়ে চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, যথাযথ চিকিৎসা না দেওয়ার কারণে রোগীর অবস্থা অবনতি হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে দুজন গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং হাসপাতালের সার্বিক অনিয়মের বিরুদ্ধে গত ২ এপ্রিল স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। তবে এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মো. মাহাবুবুল আলম বলেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। একই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ইনচার্জ থাকা ও নাইট ডিউটি না করার বিষয়টিও তদন্ত করা হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।