রামপালে সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ, প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর

খালের স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে

0

রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা:
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সিংগড়বুনিয়া গ্রামে সরকারি প্রবহমান চামারখালী খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে। এতে খালের স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় খালের বাঁধ অপসারণে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সিংগড়বুনিয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত চামারখালী খালটি জোয়ার-ভাটাপ্রবণ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল। এটি মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতীতে সরকারি অর্থায়নে খালটি খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

তবে প্রায় দেড় মাস আগে স্থানীয় ব্যক্তি ওহিদুজ্জামান আকু্ঞ্জী, স্থানীয় নেতা মোতাহার আলীর সহযোগিতায় খালটিতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং এর প্রভাব পড়ছে আশপাশের পরিবেশ ও মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের ওপর।

স্থানীয়রা জানান, খালটি বহু জেলের জীবিকার একমাত্র উৎস ছিল। বাঁধ দেওয়ায় তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া কেউ বাঁধ অপসারণের কথা বললে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সিংগড়বুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য নন, তবে প্রভাব খাটিয়ে খাল দখল করেছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ওহিদুজ্জামান আকু্ঞ্জী দাবি করেন, জোয়ারের পানি যাতে বাড়িঘর ও স্কুলে না ওঠে, সে কারণেই খালে বাঁধ দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। স্থানীয় নেতা মোতাহার আলীও একই দাবি করে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে সিংগড়বুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাওলাদার কামরুজ্জামান বলেন, স্কুলে পানি ওঠার অভিযোগ সঠিক নয়।

রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী জানান, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি খাল থেকে অবৈধ বাঁধ অপসারণে নিয়মিত অভিযান চলছে। পরিবেশ ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষায় এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।