মহেশপুর সীমান্ত নদীতে উদ্ধার লাশটি আফগান নাগরিকের, মানবপাচার চক্রের ফাঁদে মৃত্যু

গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার লাশটি এক আফগানিস্তান নাগরিকের বলে শনাক্ত হয়েছে

0

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ॥ ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি লাশের ভেতর একটির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি ইতালিতে বসবাসরত এক আফগান নাগরিক, যিনি দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন।গত ১৩ এপ্রিল মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা বিজিবি ও পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠায়। পিবিআই আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজে কোনো মিল না পাওয়ায় লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে ঝিনাইদহ আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ১৪ এপ্রিল ঝিনাইদহ গোরস্থানে দাফন করে ।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মরদেহের ছবি দেখে নিহতের ভাই, আমেরিকা প্রবাসী মোহাম্মদ ইরা নিশ্চিত করেন, এটি তার ভাই হাশমত মোহাম্মাদির লাশ। তিনি জানান, হাশমত আফগানিস্তানের নাগরিক হলেও ইতালির পাসপোর্টধারী ছিলেন। মূলত ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের পাথর নিয়ে ইউরোপে ব্যবসার সুবাদে তিনি ভারতে যাতায়াত করতেন। এই ব্যবসা করতে গিয়ে নিহত হাশমতের ভারতীয় পার্টনারের সাথে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব হয়। এ ঘটনায় মামলা হলে ভারতীয় পুলিশ হাশমতকে গ্রেফতার করে।তিনি আরো জানান, দীর্ঘ পাঁচ বছর মামলা চলার পর ভারতীয় আদালত হাশমতকে বেকসুর খালাস দিলেও দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে কোন নির্দেশনা দেয়নি। ফলে হাশমত জেল থেকে বের হয়ে ইটালি ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকেন। এ সময় তার সাথে যশোর এলাকার মানবপাচারকারী মাসুম ও ভারতের পাচারকারী পুরাব হেলা নামে দুইজনের পরিচয় হয়। মাসুম তাকে পরামর্শ দেন ভারতীয় সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে গেলে সেখান থেকে তিনি ইটালি চলে যেতে পারবেন।

মাসুমের পরামর্শে হাশমত গত ১১ এপ্রিল অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে মহেশপুর সীমান্তে আসেন। সীমান্তে এসে হাশমত তার আমেরিকা প্রবাসী ভাইকে ফোন করে জানান সামনে একটা নদী (ইছামতি) আছে। এটা পার হলেই তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন। এ সময় সীমান্তের মানব পাচারকারী কথিত মাসুম ও পুরাব হেলার (০১৭৯০৮৫১৭৮৫/ +৯১৯৩৩০০৮৫৮৫৩) সাথে আমেরিকা প্রবাসী ভাইয়ের কথাও হয়। মোহাম্মদ ইরার ভাষ্যমতে, কিছুক্ষণ পর ভাইয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি এ সময় মাসুমের ফোনও বন্ধ পান।

কয়েকদিন পর মাসুমের সাথে মোহাম্মাদ ইরার একবার কথা হয়। মাসুম তাকে দুটি ছবি পাঠিয়ে জানান আপনার ভাই মারা গেছেন। বাংলাদেশে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর থেকে মাসুমের ফোনটি বন্ধ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাশমতের কাছে থাকা টাকা ও সম্পদ হাতিয়ে নিতেই দুই মানব পাচারকারী মাসুম ও পুরাব হেলা নদীতে চুবিয়ে হাশমতকে হত্যা করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে মহেশপুর থানার এসআই টিপু সুলতান জানান, গত ২২ এপ্রিল জনৈক আহসানের মাধ্যমে তিনি মোহাম্মাদ ইরার সাথে কথা বলে লাশটি তার ভাইয়ের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন। তার আর এক ভাই লন্ডন প্রবাসী। তিনি বাংলাদেশে আসার জন্যে ভিসাসহ অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করছেন।

মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান শুক্রবার দুপুরে জানান, লাশের সুরতহাল প্রস্তুত করার সময়ই মনে হয়েছিল এটি কোন বিদেশির লাশ হবে। তিনি জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই টিপু সুলতানের সঙ্গে ভিকটিমের আমেরিকা প্রবাসী ভাই মোহাম্মদ ইরার কথা হয়েছে। মাসুমের মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। তদন্তও শুরু হয়েছে। দেখি কতদূর যাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন পুলিশ তাকে জানিয়েছিল নিহতের শরীরে নাকি কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। এখন পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করতে পারবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।