যবিপ্রবিতে চিকিৎসা সংকট

* প্রায় ৫০০০ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ১ জন আবাসিক মেডিকেল অফিসার * দ্রুত জনবল সংকট নিরসনের আশ্বাস যবিপ্রবি উপাচার্যের * দুটি অ্যাম্বুলেন্সের একটি নষ্ট * ল্যাব টেকনেশিয়ান নেই

0

যবিপ্রবি সংবাদদাতা॥ জনবল সংকটে রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(যবিপ্রবি) ডা. এম আর খান মেডিকেল সেন্টার। নানা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে মেডিকেল সেবা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু, অ্যাম্বুলেন্স, নারী চিকিৎসক ও চিকিৎসা বেড বৃদ্ধির দাবি তাদের।
সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪৯ জন শিক্ষক, প্রায় ৪৫০০জন শিক্ষার্থী, ১৬৩ জন কর্মকর্তা ও ৩৪৬ জন কর্মচারীদের জন্যে মাত্র ১ জন আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ মোট ডাক্তার ৪ জন রয়েছেন। প্যাথলজি বিভাগে যন্ত্রপাতি থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে যেতে হয় ১৫ কিলোমিটার দূরে যশোর শহরের হাসপাতালে। যাতায়াতের জন্যে রয়েছে দুটি অ্যাম্বুলেন্স। এর ভেতর ১ টি আবার নষ্ট থাকায় একাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হলে বিপাকে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের দিনগুলোতে মেডিকেল বন্ধ ও ২৪ ঘণ্টা সেবা না থাকায় জরুরি সেবা নিতে ছুটতে হয় শহরে। এছাড়া নারী চিকিৎসক স্বল্পতা ও তাদের অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েন অনেক নারী শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মেডিকেলে ১ টি শিফট চালাতে প্রয়োজনীয় পদসমূহের মধ্যে চিফ মেডিকেল অফিসার পদে ১ জন কর্মরত, ডেপুটি মেডিকেল অফিসারের ১টি পদ শূন্য, সিনিয়র মেডিকেল অফিসারের ২টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১ জন, মেডিকেল অফিসারের ৫টি পদের মধ্যে কর্মরত ২ জন, নার্সের ৪টি পদের মধ্যে কর্মরত ২ জন ও মেডিকেল অ্যাটেনডেন্টের ৩টি পদের বিপরীতে আছেন ২ জন। এক্স-রে টেকনিশিয়ান ( রেডিওগ্রাফি) ২টি পদের বিপরীতে ১ জন আছেন। এক্স-রে টেকনিশিয়ান ও ল্যাব টেকনোলজিস্টের ২টি পদই শূন্য, মেডিকেল সহকারী পদে ২ টির বিপরীতে ১ জন, অফিস সহকারী পদে ২ টির বিপরীতে ১ জন ও ক্লিয়ার হিসেবে ২ টির বিপরীতে ২ জন আছেন। এছাড়া ১ জন করে পিএ, স্টোর কিপার ও সিনিয়র মেডিকেল অ্যাসিসট্রান্ট রয়েছেন। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় জনবলের অর্ধেক দিয়েই চলছে মেডিকেলের ৮ ঘণ্টার এক শিফটের সেবা। অথচ ২৪ ঘণ্টায় তিন শিফটে মেডিকেল সেবা চালু থাকার কথা।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলের প্যাথলজি বিভাগে স্থায়ী পদ থাকলেও তাতে নেই কোনো জনবল। ফলে মেডিকেলে রুগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্যে করা যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষা। এছাড়া মেডিকেল সেন্টারে বেড সংকটও রয়েছে। বর্তমানে মাত্র পাঁচটি বেড থাকলেও একটি প্রকল্পের আওতায় ২০টি বেড বরাদ্দ পেয়েও স্থান সংকটের কারণে তা স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। একাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তাদের শহরের সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ডিউটি ভাগ করে প্রতি বৃহস্পতিবার ও প্রতিদিন ইভিনিং শিফট রাত ৮ টা পর্যন্ত চালু রেখেছেন তারা। এছাড়া তাদের ওষুধেরও সংকট রয়েছে।
ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার রাফিদ বলেন, ২৪ ঘণ্টা মেডিকেল সেবা চালু থাকার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারসহ যেকোনো ছুটির দিন বন্ধ থাকে মেডিকেল সেন্টার। রাতে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তাকে শহরে যেতে হয়। কারণ মেডিকেল বন্ধ থাকে। আবার অনেক সময় ডাক্তাররা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে না থেকে শহরের বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখেন।
ইএসটি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার মিথি বলেন, মেডিকেল সেন্টারে সার্বক্ষণিক নারী চিকিৎসক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি চিকিৎসা সেবার মান উন্নত করতে হবে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে।
চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার বলেন, বর্তমানে এক শিফট সেবা দিতে যে লোকবল প্রয়োজন তার অর্ধেক রয়েছে। কিন্তু সেই জনবল দিয়ে আমরা ইভিনিং শিফটও চালু করেছি। তবে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু করতে আমাদের এক শিফটের লোকবলের দ্বিগুণ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, মেডিকেল সেন্টারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি পূর্ণ অবগত। শূন্য পদগুলো পূরণের মাধ্যমে সেন্টারটিকে পূর্ণাঙ্গরূপে কার্যকর করতে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। খুব দ্রুতই শিক্ষার্থীরা এর সুফল দেখতে পাবেন।