কবির হোসেন একজন প্রান্তিক কৃষক ও কার্ড পাওয়ার যোগ্য: জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন

0
টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মার্ট কৃষক কার্ড গ্রহণ করছেন প্রান্তিক কৃষক কবির হোসেন।। ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ পাওয়া কবির হোসেনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা বিতর্কের অবসান ঘটেছে। জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কবির হোসেন একজন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক এবং নীতিমালা অনুযায়ী তিনি এই কার্ড পাওয়ার যোগ্য।

গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কার্ড গ্রহণ করেন সদর উপজেলার উত্তর তারটিয়া গ্রামের কবির হোসেন। এরপরই তাঁর কিছু ছবি ও জীবনযাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়, যেখানে তাঁকে বিত্তশালী দাবি করে প্রকৃত কৃষক নয় বলে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন্নাহার স্বপ্নাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটি কবির হোসেনের বাড়িতে সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখতে পায়, তিনি একটি সাধারণ টিনের ঘরে বসবাস করেন এবং নিজের ১৩ শতাংশ জমির পাশাপাশি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। এলাকাবাসী জানান, কৃষিকাজের পাশাপাশি কবির ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করেন, যা অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। ১৫ এপ্রিল রাতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী কবির হোসেন কার্ড পাওয়ার সকল শর্ত পূরণ করেছেন।

এ বিষয়ে কবির হোসেন বলেন, “আমি বর্গা চাষ করি এবং পাশাপাশি ফেসবুকে কন্টেন্ট বানিয়ে কিছু আয় করি। সাজিয়ে-গুছিয়ে কথা বলা বা ভালো পোশাক পরা কি কৃষকের জন্য অপরাধ? মিথ্যা গুজবে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।” জেলা প্রশাসক শরীফা হক তদন্ত প্রতিবেদনের কপি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠিয়ে কবিরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন।