চৌগাছায় নজর কেড়েছে শিল্পপতি রায়হিন উদ্দিনের খামারের মালবেরি বা তুঁত ফল

0
ছবি: সংগৃহীত।

বিভিন্ন ফল ও ফুল চাষের পাশাপাশি মালবেরি বা তুঁত ফলের চাষ করে চৌগাছায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন শিল্পপতি রায়হিন উদ্দিন। মালবেরি বা তুঁত একটি পুষ্টিকর রসালো ও সুস্বাদু ফল।

শিল্পপতি রায়হিন উদ্দিন ঢাকা ছেড়ে নিজ জন্মস্থান চৌগাছায় স্থাপনা গড়ে তুলে সকলের নজর কেড়েছেন। তাঁর শিল্প কলকারখানায় এ জনপদের হাজারও নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। রুচিশীল এই ব্যক্তি তাঁর খামারে বিভিন্ন ধরনের ফল ও ফুলের পাশাপাশি নতুন এক ফলের চাষ করেছেন। সেটি হচ্ছে মালবেরি বা তুঁত ফল।

পুষ্টিগুণে ভরপুর মালবেরি বা তুঁত ফল দেখতে অনেকটাই তুঁত গাছের ফলের মতো। ফল গাছে আসার পর তা প্রথমে সবুজ রং, পরে লাল এবং পেকে গেলে হয় কালো। তখনই সেটি বিক্রি বা খাওয়ার উপযোগী হয়।

চার বছর আগে লাগানো গাছ দুই বছর বয়স থেকে ফল দিতে শুরু করেছে। খামার থেকেই অনেকে ৩শ টাকা কেজি দরে ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। চৌগাছার শিল্পপতি রায়হিন উদ্দিন একপ্রকার শখের বশে এই ফলের চাষ করেছেন। তবে ফল চাষিরা পরিকল্পিতভাবে এর চাষ করলে লাভবান হবেন এমনই মনে করছেন কৃষি অফিস।

রোববার খামারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে লাল এবং কালো দুই রঙেরই ফলে ভরে আছে, আছে পাখির উপদ্রপ। শ্রমিকরা কাজ করছেন এবং তা দেখাশুনা করছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তা লিখন হোসেন।

এ সময় কথা হয় লিখনের সাথে। তিনি জানান, চার বছর আগে তার মালিক রায়হিন উদ্দিন এক ব্যক্তির মাধ্যমে বগুড়া থেকে ৩৫টি চারা সংগ্রহ করে এই খামারে রোপণ করেন। নিবিড় পরিচর্যার একপর্যায়ে দুই বছর হলো প্রতিটি গাছ ফল দিতে শুরু করেছে।

বছরে একবারই ফল দেয় সেটা হচ্ছে মার্চ মাস হতে মে মাসের মধ্যে। এই ফলের একটি আলাদা বৈশিষ্ট আছে, সেটি হচ্ছে গাছে ফল আসার পর প্রথমে সবুজ রং ধারণ করে। কিছু দিন যাওয়ার পর তা টকটকে লাল হয়ে যায় এবং যখন খাওয়ার উপযোগী হয় অর্থাৎ পেকে যায় তখন সম্পূর্ণ কালো হয়ে যায়।

পাখিদের খুবই পছন্দের একটি ফল হচ্ছে মালবেরি, তাদের উৎপাত থেকে ফল রক্ষায় সম্পূর্ণ গাছ কিন্তু নেট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কোনো কীটনাশক ছাড়াই এই ফল উৎপাদন হচ্ছে, কারণ এতে পোকার আক্রমণ নেই বললেই চলে। ফলটির বাজারে ব্যাপক চাহিদা কিন্তু আমাদের সে ভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

কর্তৃপক্ষের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে যা থাকে সেটি মূলত বিক্রি করি। খামার হতেই ক্রেতারা এসে ৩শ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে যান। ফলটি যেহেতু আমি রক্ষণাবেক্ষণ করি তাই আমার মনে হয় কোনো ফল চাষি যদি পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করেন তাহলে অন্য যে কোনো ফলের চেয়ে এতে লাভবান হবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালবেরি বা তুঁত ফল বিশ্বজুড়েই কম বেশি চাষ হয়। তবে চীন, ভারত, তুরস্ক এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় তুলনামূলক বেশি চাষ হয়ে থাকে। বাংলাদেশে বর্তমানে নওগাঁ, দিনাজপুর জেলাতে এই ফলের বাণিজ্যিক ভাবে চাষ শুরু হয়েছে, নতুন ফল হিসেবে এটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালবেরি ফলের ব্যাপক পুষ্টিগুণ রয়েছে। যেমন ফলটিতে আ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, আয়রন, পটাশিয়াম এবং ফাইবার সমৃদ্ধ। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হার্ট সুস্থ রাখে, রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, মালবেরি বা তুঁত ফল অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই ফলের চাষ কমবেশি শুরু হলেও আমাদের চৌগাছাতে এখনও সে ভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। তবে কৃষক বাণিজ্যিকভাবে মালবেরি ফলের চাষ শুরু করলে লাভবান হবেন।