জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0
স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।। ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় ও পারিবারিক—উভয় পর্যায়ে দেশবাসীকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিচলিত না হয়ে বাহুল্যের বর্জন করার অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে (মরণোত্তর) দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়। খালেদা জিয়াসহ মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এবারের এই সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, “দুর্নীতি ও দুঃশাসনে পর্যুদস্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং দুর্বল শাসন কাঠামোর মধ্য দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিপর্যস্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করতে সরকার ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। নারী অধিকার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেও বর্তমান সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।

রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণের সামনে দেওয়া আমাদের ‘জুলাই সনদ’ ও দলীয় ইশতেহারের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে দ্বিধা থাকা হীনমন্যতার পরিচায়ক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, বিচারপতি এবং সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।