গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনবার লড়াই করতে গিয়ে খালেদা জিয়া আত্মত্যাগ করেছেন: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

0
বেগম খালেদা জিয়া ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদে বক্তব্য দিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজের সন্তান,পরিবার এবং নিজের শরীরের কথা চিন্তা না করে,সমগ্র দেশবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনবার লড়াই করতে গিয়ে,কার্যত আত্মত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে, এ কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শোক প্রস্তাব গৃহিত হওয়ার আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
মরহুম বেগম খালেদা জিয়া এবং শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিতে, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে বক্তব্য রাখার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শুরুতে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মহান সংসদে উপস্থিত সংসদ নেতা,বিরোধীদলীয় নেতা এবং সকল সংসদ সদস্যকে সালাম এবং শুভেচ্ছা জানান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতীক। যিনি অত্যন্ত মাঝ বয়সে তার স্বামী হারিয়ে,তার দুই নাবালক সন্তানকে মানুষ করবার দায়িত্ব ছেড়ে,সারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবার জন্য, রাজপথে নেমে এসেছিলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন

যশোরে উন্নয়নের কারিগর, বিএনপির নীতিনির্ধারনী ফোরাম, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের সন্তান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জাতীয় সংসদে দেয়া তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমার মতো স্বাধীনতা উত্তর প্রজন্মের অনেকেরই তাকে ( বেগম খালেদা জিয়া) দেখে বড় হবার সুযোগ হয়েছিল। তাঁর লড়াই,তাঁর সংগ্রাম,তাঁর আত্মত্যাগ প্রত্যক্ষ করেই আমরা বড় হয়েছি এবং দেশের প্রতি, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা গ্রহণ করেছি।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিগত ৯০ দশকের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে, খালেদা জিয়ার লড়াই ও তার আত্মত্যাগের মাধ্যমে স্বৈরাচারী এরশাদকে হটিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশের জনগণের ভোটে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা,নারীর ক্ষমতায়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে যে ভূমিকা রেখেছেন, আজও দেশবাসী তা গভীর কৃতজ্ঞতা চিত্তে স্মরণ করে।

যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে আরো বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার অসম সাহসী ভূমিকা, তার দৃঢ়তা, আজ সারা বিশ্বের দরবারে উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ‘তিনি নিজের সন্তান,নিজের পরিবার এবং নিজের শরীরের কথা চিন্তা না করে,সমগ্র দেশবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনবার লড়াই করতে গিয়ে, কার্যত আত্মত্যাগ করেছেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে, সেই বিদোষী নারীর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। একই সাথে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবার জন্য, বাংলাদেশের মানুষের আইনের শাসন ফিরিয়ে আনবার জন্য, মানবাধিকার সমুন্নত করবার জন্য, খালেদা জিয়ার লড়াই গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তিনি। তিনি বলেন, এই লড়াইয়ের মাধ্যমে,আত্মত্যাগের মাধ্যমে,সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দলের উর্ধ্বে উঠতে পেরেছিলেন। তাই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দিক নির্দেশনাহীন জাতি তার স্মরণাপন্ন হয়েছিলেন। তার জানাজায় লাখো কোটি মানুষের উপস্থিতি জানান দেয়, তিনি কার্যত বাংলাদেশের অভিভাবক হিসেবে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এতো রক্তস্নাত পথ পাড়ি দিয়ে,এই মহান জাতীয় সংসদে উপস্থিত হতে পেরে আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি বলেন, ‘যাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এখানে উপস্থিত হতে পেরেছি, তাদের প্রতি যেমন কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি। খুন-ঘুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের পথ হবে আজ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের। এই ক্ষণে আজ একদিকে যেমন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্মরণ করি। একইভাবে আমাদের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানও কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করি। তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি। তার দেখানো পথে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার্থে আমরা অমৃত্য অবিচল থাকবো’।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার বক্তব্যের শেষে বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকা ৮৭, যশোর-৩ এর জনগণ আমাকে এখানে আসবার সুযোগ করে দিয়ে, তাদের পক্ষে কথা বলবার সুযোগ করে দেবার জন্য, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।