ভবদহ ফের পানিবন্দী হওয়ার শঙ্কা সংগ্রাম কমিটির

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের ভবদহ অঞ্চল আবারও পানিবন্দী হওয়া আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। দ্রুত নদী খনন, টিআরএম বাস্তবায়ন ও খাল সংস্কারের কাজ সম্পন্ন না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এলাকার জনপদ নতুন করে ভয়াবহ সমস্যায় পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংগঠনটির নেতারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর শহরের নীলরতন ধর রোডে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জনগণের দীর্ঘ আন্দোলনের পর পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় হরি, তেলিগাতি ও ভদ্রা নদী ও সৎসংলগ্ন মোহনা পর্যন্ত খনন এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিলে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি ভবদহ স্লুইসগেট খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, স্বচ্ছতার অভাব ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত না করায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংগঠনের নেতারা জানান, বর্তমানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৮১ কিলোমিটার নদী খননের কাজ শুরু হলেও প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। নদীর তলদেশের প্রস্থ, গভীরতা ও উপরিভাগের পরিমাপও সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে জানতে চাওয়া হলেও সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ভবদহ স্লুইসগেটের ভেন্টগুলো পর্যায়ক্রমে খুলে দেওয়ায় এবার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হওয়ায় সমস্যা অনেকটাই কমেছে। এবং কৃষিজমিতে বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এতে প্রমাণ হয়েছে পাম্পিং ব্যবস্থা কার্যকর নয়। তবুও নতুন করে পাঁচটি পাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্তকে অপ্রয়োজনীয় ও অর্থ অপচয় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

এদিকে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার প্রকল্পের টেন্ডার ও বরাদ্দ হওয়ার পরও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কাজ শুরু হয়নি। দ্রুত এ কাজ শেষ না হলে আগামী বর্ষায় আবারও জনপদ পানিবন্দী হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে রয়েছে, হরি ও তেলিগাতি নদীর ২০ কিলোমিটার ও আপার ভদ্রা নদীর ১২ কিলোমিটার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন, দ্রুত টিআরএম প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন, ভবদহ স্লুইসগেটের সব ভেন্ট চালু, নতুন পাম্প কেনার সিদ্ধান্ত বাতিল, আমডাঙ্গা খালের জমি অধিগ্রহণ ও সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও বাড়িঘরের মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্যসচিব চৈতন্য কুমার পাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, তসলিম-উর-রহমান, জিল্লুর রহমান ভিটু, অনিল বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, মাসুদ শেখ, সাধন বিশ্বাস, রাজু আহমেদ, পার্থপ্রতিম বৈরাগী, সুখেন্দু বিশ্বাস, মহিতোষ বিশ্বাস, রাশেদা বেগম প্রমুখ।