রোজার আগেই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ রমজান মাস শুরুর মাত্র দুদিন আগেই নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে দাম বেড়েছে মুরগি, গরুর মাংস ও পেঁয়াজের দাম। গরুর মাংস ও মুরগির কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০ টাকা করে। ভোক্তারা এই মূল্যবৃদ্ধির জন্যে অসাধু ব্যবসায়ীদের দায়ী করছেন। তারা কঠোর হাতে সরকারের বাজার মনিটরিং করা এবং রমজানে সাধারণ মানুষের জিম্মি করা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রোববার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র দু সপ্তাহের ব্যবধানে খামারের মুরগির কেজিতে ৩০ টাকা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রোববার বাজারে সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ দু সপ্তাহ আগে বাজারে বিক্রি হয়েছিল ২৬০ টাকা কেজি।

বাজার করতে আসা শহরের রেলরোডের বাসিন্দা অহিদুল হাসান জনু জানান, খামারের অন্যান্য মুরগির চেয়ে সোনালি মুরগির চাহিদাটা বেশি। এ কারণে অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা রোজার আগেই সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এদিন বাজারে লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

শহরের সবচেয়ে বড় গরুর মাংসের বাজার বড় বাজার কাঠেরপুলে। প্রতিদিন এখানে প্রচুর সংখ্যক মানুষ আসেন মাংস কিনতে। এখানকার মাংস ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতি কেজি গরুর মাংস বাড়তি দামেই ৭৫০ টাকায় বিক্রি করে আসছিলেন। রমজান মাস শুরুর দুদিন আগেই এখানকার শক্তিশালী মাংস বিক্রেতা সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে প্রতি কেজি গরুর মাংসে ৩০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন। রোববার এখানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কেউ কেউ ৮০০ টাকা দামও নিচ্ছেন।

ক্রেতা লোন অফিস পাড়ার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন জানান, শহরের অন্যান্য বাজার থেকে কাঠেরপুলে সব সময় বিক্রেতারা দাম বেশি নিয়ে থাকেন। আর মাত্র দুদিন বাকি আছে রোজার। এর আগেই মাংস বিক্রেতারা প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি প্রশ্ন করেন, এই বিক্রেতারা এভাবে কি নিজেরা দাম বাড়াতে পারেন ? তিনি জানান, সরকারের উচিত কঠোর হাতে বাজার মনিটরিং করা এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

এদিকে রমজানকেন্দ্রিক পণ্য পেঁয়াজের চাহিদাও থাকে তুঙ্গে। মাত্র দু সপ্তাহের ব্যবধানে ব্যবসায়ীরা মুড়িকাটা পেঁয়াজের কেজিতে ১০ টাকা বাড়িয়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। বড় বাজারের খুচরা বিক্রেতা জয়দেব সাহা জানান, আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে দাম বেড়েছে।

পাইকারি বিক্রেতা বড় বাজার এইচ এম এম রোডের আড়তদার নিতাই সাহা জানান,তিনি রোববার প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪২ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তিনি আরও জানান, যেসব অঞ্চল থেকে পেঁয়াজ যশোরে আসে-বিশেষ করে রাজবাড়ি, ফরিদপুর ও মেহেরপুর অঞ্চলের মোকামগুলোতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

এছাড়া রোজার আগ মুহূর্তে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা স্বস্তিতে নেই। বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। রোববার বড় বাজার মাছবাজার ঘুরে দেখা গেছে,বাইন মাছ আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, দেড় কেজি ওজনের রুই মাছের কেজি ২৮০ টাকা, পুঁটি মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদার কেজি ২৫০ টাকা, ট্যাংরা ৪৮০ থেকে ৮০০ টাকা, ২টায় কেজি নাইলোটিকা ২০০ টাকা, ৪ কেজি ওজনের পাঙ্গাশ মাছের কেজি ২৫০ টাকা, কৈ মাছ ৭০০ টাকা ও ৮/১০ টায় কেজি গলদা চিংড়ি ১৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এ সপ্তাহে চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।

রোববার বড় বাজার চালবাজারে নাজিরশাইল চাল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, বাংলামতি চাল ৭৬ থেকে ৮০ টাকা, বিআর-৬৩ চাল ৬৬ থেকে ৭০ টাকা, মিনিকেট চাল ৬২ থেকে ৬৬ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা, বিআর-১০ চাল ৫০ থেকে ৫৪ টাকা, বিআর-৪৯ চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা, বিআর-৫১ চাল ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা, স্বর্ণা চাল ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা ও হীরা চাল ৪২ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

যশোর বড় বাজার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুশীল কুমার বিশ্বাস লোকসমাজকে জানান, আমন মৌসুমের চাল বর্তমানে বাজারে, অন্যদিকে প্রচুর চাল বিদেশ থেকে আমদানি হয়ে আসছে, এ কারণে চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি রমজানে চালের দাম বাড়বে না বলে আশা করছেন।