যশোরে স্ত্রী ও দুই কন্যা হত্যার দায়ে বাবুর মৃত্যুদণ্ড

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে স্ত্রী ও দুই কন্যাকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে জহিরুল ইসলাম বাবু নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালতের বিচারক জাকির হোসেন টিপু আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সদর উপজেলার জগন্নাথপুর বিশ্বাসপাড়ার মশিউর রহমান বিশ্বাসের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান।

মামলা ও পুলিশি তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের ১১ বছর আগে অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা গ্রামের মুজিবুর রহমানের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বিথিকে বিয়ে করেন জহিরুল ইসলাম বাবু। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। এর মধ্যে তাদের সুমাইয়া (৯) ও সাফিয়া (২) নামে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

সূত্র জানায়, টাকার দাবিসহ বিভিন্ন কারণে স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বিথিকে প্রায়ই মারধর করতেন জহিরুল ইসলাম বাবু। একপর্যায়ে মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে মুজিবুর রহমান জামাতাকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

২০২২ সালের ১৫ জুলাই দুপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে জগন্নাথপুর বিশ্বাসপাড়ার বাড়িতে ফিরছিলেন জহিরুল ইসলাম বাবু। পথে চাঁপাতলা এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনরায় ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি প্রথমে স্ত্রীকে এবং পরে দুই কন্যাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর তিনজনের মরদেহ যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশের চেঙ্গুটিয়া এলাকার একটি বাগানে ফেলে দিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।

পরে নিজ পরিবারের লোকজনকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন জহিরুল ইসলাম বাবু এবং পুলিশকে পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন। এ ঘটনায় নিহত সাবিনা ইয়াসমিনের পিতা মুজিবুর রহমান অভয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ৩০ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোলাম হোসেন জহিরুল ইসলাম বাবুকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি জহিরুল ইসলাম বাবুকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।