তেল পাচার : ঈদ সামনে রেখে সীমান্তে নজরদারি বিজিবির

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল মজুদ ও পাচার ঠেকাতে অভিযান জোরদার

0
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তেল পাচার ঠেকাতে বিজিবির অভিযান জোরদার

রিফাত রহমান, চুয়াডাঙ্গা। লোকসমাজ :

চুয়াডাঙ্গায় ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি জোরদার করেছে ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। একই সঙ্গে আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, যশোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করছে। যশোর অঞ্চলের অধীনে ৭টি ব্যাটালিয়নের ১১৬টি বিওপির মাধ্যমে প্রতিদিন ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ, পাচার এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঈদ-উল-আযহা সামনে রেখে গরু পাচার ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে ঝিনাইদহের মহেশপুর ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত বিশেষ তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তসংলগ্ন ১০টি পেট্রোল পাম্পে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, সম্ভাব্য তেল পাচারের রুট চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত মতবিনিময় সভাও আয়োজন করা হচ্ছে।

In-the-southwest-oil-smuggling-bgb-operationগত ১৫ এপ্রিল থেকে জীবননগর ও মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও তেল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৮৭ লিটার ডিজেল ও ৭ লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে ৫ ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে, বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দর এবং দর্শনা শুল্ক স্টেশনে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১টি বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত তেল পাচার প্রতিরোধে ২ হাজার ৬৩৩টি টহল, ৯৫০টি চেকপোস্ট এবং ৬৭টি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সময়ে ২২টি পেট্রোল পাম্পে নজরদারি জোরদার করা হয়।

এছাড়া ৭ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৪১টি টাস্কফোর্স অভিযানে অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দসহ ৩ জনকে কারাদণ্ড এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে মোট ৪৬ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বিজিবি আরও জানায়, ২০২৬ সালে নিয়মিত অভিযানে যশোর অঞ্চলে ৯৬ জন আসামিসহ প্রায় ৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বর্ণ, হীরা, রৌপ্য, অস্ত্র, গুলি ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্তের নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সবসময় সতর্ক রয়েছে এবং অবৈধ তেল মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।