এনসিপির নিশানায় বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী নেতারা; জামায়াত জোট ছাড়ার পাল্টা প্রস্তাব দিয়ে রাখল বিএনপি

0
বিএনপির বিদ্রোহী ও বহিষ্কৃতদের ওপর এনসিপির নজর; স্থানীয় নির্বাচনে সমর্থনের বড় প্রস্তাব।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়া প্রভাবশালী নেতাদের নিজেদের শিবিরে ভেড়াতে তৎপরতা শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বহিষ্কৃত এসব নেতাদের এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিনিময়ে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পূর্ণ সমর্থনের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই নেতাদের অনুসারী যেসব তৃণমূল কর্মী বর্তমানে পদ হারিয়ে চাপে রয়েছেন, তাদেরও এনসিপিতে স্বাগত জানানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, এনসিপির এই তৎপরতার বিপরীতে বিএনপি একটি পাল্টা শর্ত ছুড়ে দিয়েছে। বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, এনসিপি যদি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বর্তমান জোট ত্যাগ করে, তবে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। তবে এনসিপি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বিরোধী দলের রাজনীতিতেই থিতু হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার একটি আসনে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করা এক হেভিওয়েট নেতার সঙ্গে এনসিপির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে। আওয়ামী লীগ আমলে কারাবরণ করা এই নেতা এনসিপিতে এলে রাজধানীতে দলটির সাংগঠনিক শক্তি বাড়বে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৭৮টি আসনে বিএনপির ৯২ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন, যাদের মধ্যে ৭ জন জয়ী হয়েছেন। এনসিপি এখন এই নির্বাচিত ও প্রভাবশালী নেতাদের নিজেদের কোটা থেকে সংসদে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দিচ্ছে।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী সবার জন্য এনসিপির দরজা খোলা। তবে যারা চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসের কারণে বহিষ্কৃত হয়েছেন, তাদের নেওয়া হবে না। জিয়া ও খালেদার আদর্শের যারা সংস্কারমুখী রাজনীতি করতে চান, তাদের আমরা স্বাগত জানাব।”

রাজনৈতিক এই তৎপরতার অংশ হিসেবে গত শুক্রবার চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মনজুর আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। যদিও এই সাক্ষাৎ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, তবুও এনসিপি নেতারা মনে করছেন, তৃণমূলের অভিজ্ঞ নেতাদের ছাড়া শুধু তরুণদের দিয়ে সাংগঠনিক ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়। বিশেষ করে উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত ত্যাগী নেতাদের এনসিপির ব্যানারে নিয়ে এসে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে চাইছে দলটি।