অবৈধ আয় : বেনাপোলের বাদশা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বেনাপোলের অপরাধ জগতের সম্রাট ও মাদক সিন্ডিকেটের হোতা হিসেবে পরিচিত বাদশা মল্লিক ও তার স্ত্রী রোকসানা বেগমের বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার সিনিয়র স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৪৬ লাখ ৩৩ হাজার ৫২১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত ২ কোটি ৪১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ টাকার সম্পর্দ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে বাদশা মল্লিকের মাদকের ব্যবসা ছাড়া বৈধ কোনো ব্যবসা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা দুদক সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের সাবেক সহকারী পরিচালক (বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে উপ-পরিচালক,বাগেরহাট) মোহা. মোশাররফ হোসেন আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আল আমিন।
অভিযুক্ত দম্পতি বাদশা মল্লিক ও রোকসানা বেগমের বাড়ি বেনাপোল পোর্ট থানাধীন রঘুনাথপুরে। তবে বর্তমানে তারা নারায়ণপুর মোড় এলাকায় বসবাস করেন। বাদশা মল্লিক রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে।
দুদকের মামলা ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বাদশা মল্লিক বেনাপোল স্থল বন্দর এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তিনি বাংলাদেশে ৩ জন এবং ভারতে ১ জন অর্থাৎ মোট ৪জনকে বিয়ে করেছেন। তার প্রথম স্ত্রী নুরজাহান, দ্বিতীয় স্ত্রী জামিলা খাতুন, তুতীয় স্ত্রী মিতা (ভারত) ও চতুর্থ স্ত্রীর নাম রোকসানা। চতুর্থ স্ত্রী রোকসানার কোনো সন্তান নেই। মাদক ব্যবসার সুবিধার্থে তিনি বিভিন্ন স্থানে বিয়ে করেছেন। বাদশা মল্লিকের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়ায় দুদক তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ দেয়। এর প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট বাদশা মল্লিক দুদক কার্যালয়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, তার ৫৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্থাবর ও ৩ লাখ ৭০ হাজার ৩২৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। কিন্তু দুদক তদন্তকালে বাদশা মল্লি ক ও তার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে ৫ কোটি ৯২ লাখ ৬১ হাজার ৯২১ টাকার স্থাবর ও ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৯২৮ টাকার অস্থাবর অর্থাৎ মোট ৬ কোটি ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৮৪৯ টাকার সম্পদ পায়। সেই মোতাবেক তিনি প্রদর্শিত অর্থের চেয়ে ৫ কোটি ৪৬ লাখ ৩৩ হাজার৫২১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তিনি আয়কর নথিতে ৩ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার ১৯৫ টাকা বিনিয়োগ দেখিয়েছেন। বিনিয়োগসহ তার প্রদর্শিত আয় বাদ দিলে তিনি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ২ কোটি ৪১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ টাকার সম্পর্দ অর্জন করেছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। এই সম্পদের কিছু অংশ তার স্ত্রী রোকসানার নামে রয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসে। এর প্রেক্ষিতে বাদশা মল্লিক তার স্ত্রী রোকসানার বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ২৩ নভেম্বর মামলা দায়ের করে দুদক। এরপর তদন্ত শেষে উল্লিখিত দুই জনকে অভিযুক্ত করে বুধবার আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।