বোতলজাত সয়াবিন তেলের ‘পরিকল্পিত’ সংকটে ক্রেতা

0
ছবি: সংগৃহীত।

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ গত দেড় মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের ‘পরিকল্পিত’ সংকট চলছে। খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তাদের দাবি প্রভাবশালী তেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে চাপে ফেলে এবং ক্রেতাদের জিম্মি করে দাম বৃদ্ধি করতে চায়। তবে দেখা গেছে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ রয়েছে খোলা সয়াবিন তেলের। এই দেড় মাসে খোলা সয়াবিন তেলের দাম এক প্রকার স্থির থাকলেও বেড়েছে পাম ও সুপার তেলের দাম।

এদিকে, বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে না আসায় ক্রেতাদের চাহিদা বেড়েছে মুরগির ডিমে। গত দু সপ্তাহে ডিমের হালিতে বেড়েছে ৪ টাকা।

যশোর শহরের বড় বাজারে গত দেড় মাস ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাদের ঠিকমত তেল সরবরাহ করছে না।

বড় বাজারের খুচরা বিক্রেতা ‘আয়াশ স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী কামাল আহমেদ জানান, তার দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল নেয়। কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন সরবরাহ নেই। তবে তিনি খোলা সয়াবিন তেল পর্যাপ্ত আছে বলে জানান।

বড় বাজারের খুচরা ভোজ্যতেল বিক্রেতা রবি ব্যানার্জি জানান, বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের কোনো সংকট নেই। তিনি রোববার প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল ২০৫ টাকা, পাম তেল ১৮৫ টাকা, সুপার তেল ১৯০ টাকা ও সরিষার তেল ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। যশোরে খুচরা ভোজ্যতেলের পাইকারি বিক্রেতা ‘মিরপুর কুণ্ডু অয়েল মিল’-এর স্বত্বাধিকারী রবিন কুণ্ডু জানান, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ খোলা সয়াবিন তেলের সরবরাহ রয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে জ¦ালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও গাড়ি ভাড়ায় তেমন প্রভাব পড়েনি। তিনি রোববার খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি পাইকারি দর ২০৩ টাকায় বিক্রি করেছেন।

‘রুপচাঁদা’ ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের যশোর বিক্রয় প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান শাকিল জানান, গত দেড় মাস ধরে তারা ঠিকমত বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ পাচ্ছেন না। কোম্পানি থেকে বলা হচ্ছে তেল উৎপাদন নেই।

ভোক্তাদের দাবি কয়েকটি প্রভাবশালী কোম্পানি পরিকল্পিতভাবে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। তাদের উদ্দেশ্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করে দাম বাড়িয়ে নেওয়া।

এদিকে,এ সপ্তাহে গ্রীষ্মকালীন সবজির কিছু সরবরাহ বাড়লেও দাম সহনীয় পর্যায়ে আসেনি। বড় বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা নাসির আলী জানান, রোববার তিনি ভালোমানের বেগুন প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, উচ্ছে, শিম.শসা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা করে বিক্রি করেছেন। এছাড়া ঝিঙে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কুশি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও লাই প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বড় বাজারের কাঁচামালের আড়তদার শাহাবুদ্দিন মাতুব্বর ও সুজিত কাপুড়িয়া বাবলু জানান, তারা আশা করছেন সবজির সরবরাহ অব্যাহত থাকলে দাম কমে আসেবে।

সবজির বাজার উর্ধ্বমুখী থাকায় ক্রেতারা মুরগির ডিম কেনার দিকে ঝুঁকেছেন বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এই সুযোগে পাইকারি বিক্রেতারাও ডিমের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বড় বাজারের খুচরা ডিম বিক্রেতা আবু কালাম জানান, তিনি রোববার ফার্মের মুরগির ডিম সাদা প্রতি হালি ৪০ টাকা ও বাদামি রংয়ের ডিম ৪৪ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

তিনি আরও জানান, সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ডিমের চাহিদা বাড়ায় পাইকারি বাজারেও এর দাম বেড়ে গেছে।