যশোর ডাকঘরের গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ মামলার চার্জশিট, সাবেক পোস্টমাস্টার বাকীসহ অভিযু্ক্ত ৩

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর ডাকঘরের গ্রাহকদের পাশবই ব্যবহার করে সরকারের ১ কোটি ৭৮ লাখ ৫ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলার চার্জশিট সিনিয়র স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতে দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের সাবেক সহকারী পরিচালক (বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে উপ-পরিচালক, বাগেরহাট) মোহা. মোশাররফ হোসেন যশোর প্রধান ডাকঘরের সাবেক পোস্টমাস্টার মো. আব্দুল বাকীসহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক যশোরের উপ-পরিচালক মো. আল আমিন ও পিপি অ্যাড. মো. সিরাজুল ইসলাম।
অভিযুক্ত সাবেক পোস্টমাস্টার আব্দুল বাকী যশোর শহরের পুরাতন কসবা মানিকতলার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে। অপর দুই অভিযুক্ত হলেন-প্রধান ডাকঘরের সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুদ্রাক্ষরিক বর্তমানে খুলনার ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয়ে সংযুক্ত মো. আক্কাছ শিকদার ও যশোর নৈশ ডাকঘরের সাব পোস্টমাস্টার শেখ করিমুল্লাহ। মো. আক্কাছ শিকদার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার খারহাট উত্তর পাড়ার শিকদার বাড়ির মৃত আব্দুস সাত্তার শিকদারের ছেলে এবং শেখ করিমুল্লাহ যশোর সদর উপজেলার মোবারককাঠি গ্রামের মৃত শেখ আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
দুদকের মামলা ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, মো. আব্দুল বাকী যশোর প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার পদে থাকাকালীন ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সঞ্চয় ব্যাংকের ১৭ জন গ্রাহকের পাশবই ব্যবহার করে সরকারি ১ কোটি ৭৮ লাখ ৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। গ্রাহকদের এসব অ্যাকউন্টে যৎসামন্য টাকা ছিলো। আব্দুল বাকী তাদের পাশবই নিজের কাছে রেখে ডাকঘরের নথিতে টাকা জমা দেখিয়ে এবং পরবর্তীতে গ্রাহকদের সই নকল করে সরকারি ১ কোটি ৭৮ লাখ ৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শেখ মোহাম্মদ আলী নামে এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সরকারি ১৩ লাখ টাকা উত্তোলনের সময় আব্দুল বাকী ধরা পড়েন। পরে ডেপুটি পোস্টমাস্টার মেহেরুন্নেছা লেজার যাচাই করে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হন। এ ঘটনায় একই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের এবং অভিযুক্ত আব্দুল বাকীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন ডাকঘরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে বিষয়টি দুদকের আওতায় পড়ায় দুদক যশোরের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মোহা. মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন এবং তিনি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন।
সূত্র জানায়, তদন্তে উঠে আসে আব্দুল বাকীকে সরকারি টাকা আত্মসাতে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন প্রধান ডাকঘরের সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুদ্রাক্ষরিক মো. আক্কাছ শিকদার ও নৈশ ডাকঘরের সাব পোস্টমাস্টার শেখ করিমুল্লাহ। এ কারণে মামলার তদন্ত শেষে আব্দুল বাকী, মো. আক্কাছ শিকদার ও শেখ করিমুল্লাহকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে দুদক।