যশোর উপশহরের মায়া রানী হত্যায় স্বামী পরিতোষ অভিযুক্ত

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের উপশহরে মায়া রানী নামে এক নারীকে হত্যার মামলায় স্বামী এনজিও কর্মী পরিতোষ কুমার সানাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হেলাল সরদার আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেছেন।

অভিযুক্ত পরিতোষ কুমার সানা সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বলাবাড়িয়া গ্রামের গোবিন্দ সানার ছেলে। ঘটনার সময় তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে যশোর উপশহর ডি/১৭ নম্বর বাড়ির তৃতীয়তলায় ভাড়া থাকতেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, পরিতোষ কুমার সানা এনজিওতে চাকরির সুবাদে যশোর বদলি হয়ে আসেন এবং উপশহর এলাকায় বাড়ি ভাড়া নেন। সেখানে তিনি স্ত্রী-সন্তানকে থাকতেন। বেশ কিছুদিন ধরে স্ত্রী মায়া রানী লক্ষ্য করেন, তার স্বামী দেরি করে বাসায় ফিরে আসছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোনে কারো সাথে কথা বলছেন।

এনিয়ে মায়া রানীর সন্দেহ হয়, তার স্বামী হয়তো পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন। এক পর্যায়ে পরিতোষ স্বীকার করেন, তিনি পরকীয়ায় আসক্ত। প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন তিনি। চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে মায়া রানীর সাথে তার স্বামীর বাকবিতণ্ডা হয়।

এক পর্যায়ে পরিতোষ তার স্ত্রী মায়া রানীকে ধাক্কা দিয়ে বাথরুমের মধ্যে ফেলে দেন। মায়া রানী বাথরুমের ট্যাপ কলের ওপর পড়ে গুরুতর জখম হন। এরপর মায়ার চুল ধরে বাথরুমের দেয়ালে আঘাত এবং গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাকে হত্যা করেন পরিতোষ। পরে তিনি তার অফিসের ম্যানেজারের কাছে মোবাইল ফোন করে জানান, বাথরুমে পড়ে মারা গেছেন।

পরবর্তীতে তিনি স্ত্রীর লাশ আশাশুনিতে নিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার এবং পরিতোষকে আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথাও স্বীকার করেন পরিতোষ।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই সুশান্ত মন্ডল বাদী হয়ে পরিতোষকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত শেষে পরিতোষকে অভিযুক্ত করে সম্প্রতি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।