পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় গহনা ও টাকা নিয়ে পালালেন পুত্রবধূ: আদালতে মামলা

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া পুত্রবধূকে সংশোধনের চেষ্টা করলে উল্টো সোনার গহনা ও টাকা-পয়সা চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। এ কাজে ওই পুত্রবধূর মা ও আত্মীয়-স্বজনরা সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা করেছেন যশোর সদর উপজেলার বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের স্ত্রী তৈয়বা খাতুন।

অভিযুক্তরা হলেন, তার পুত্রবধূ সিলেট কোতোয়ালি থানার তোপখানা এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে সানজিদা আক্তার সাথী, সাথীর মা শ্যামলী বেগম, মামা জালাল হোসেন, খালা যশোর সদর উপজেলার বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের শরীফ মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগম, এবং প্রতিবেশী আবু বক্কারের ছেলে নাসির আলী। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আছাদুল ইসলাম অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআই, যশোরকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগে তৈয়বা খাতুন উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর অভিযুক্ত সাথীর সঙ্গে তার ছেলে আব্দুল হাকিমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসারের উন্নতি ও ভালো জীবনের আশায় ২০২৩ সালে তার ছেলে আব্দুল হাকিম মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে পাড়ি জমান। এ সময় সাথী শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন।

কিছুদিন পর সাথীর চলাফেরায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তিনি বাড়ির কাউকে কিছু না বলে যেখানে-সেখানে যেতেন এবং সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন। একপর্যায়ে তিনি তার খালাতো ভাই রিয়াদের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি শাশুড়িসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় তার স্বামী আব্দুল হাকিম বিষয়টি জানতে পেরে সাথীকে বকাঝকা করেন। এতে সাথী আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। তাকে সঠিক পথে ফেরাতে তার মা ও অন্যান্য আসামিদের যশোরে আসতে বলা হয়।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি আসামিরা বাড়িতে এসে আলোচনায় বসেন। সেখানে আব্দুল হাকিম রেখে যাওয়া সোনার গহনা ও ছয় লাখ টাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সাথী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরদিন পুনরায় আলোচনা হবে-এমন সিদ্ধান্তে সবাই ঘুমাতে যান।

পরদিন ৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখা যায়, সাথীসহ সব আসামি বাড়িতে নেই। তারা কাউকে কিছু না বলে চলে যান। যাওয়ার সময় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের সোনার গহনা এবং নগদ ৬ লাখ টাকা নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।