যশোর রেল বাজারে খাজনা আদায়ে জুলুমের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের রেল বাজারে নির্ধারিত ফি’র তিনগুণ বেশি খাজনা আদায় করছেন ইজারাদার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের সাথে জুলুম করা হচ্ছে। যদিও ইজারাদার মীর শাদি খাজনা আদায়ের নামে ব্যবসায়ীদের ওপর জুলুমের কথা অস্বীকার করেছেন।

রেল বাজারে পৌরসভার বেঁধে দেওয়া খাজনা ব্যবসা ভেদে দোকান প্রতি ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সর্বনিম্ন ৪৫ টাকা খাজনা আদায় করা হচ্ছে। নির্ধারিত এলাকার বাইরের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে আদায় করা হচ্ছে খাজনা।

রেল বাজারের একজন ক্ষুদ্র মুদি দোকানি জানান, আগে তিনি দৈনিক ২৫ টাকা খাজনা দিতেন। মীর শাদি বাজার ইজারা নেওয়ার পর এখন তাকে দৈনিক ৪৫ টাকা করে খাজনা দিতে হচ্ছে। একজন তরকারি ব্যবসায়ী জানান, তার কাছ থেকে দৈনিক ৪৫ টাকা করে খাজনা আদায় করা হয়। শুধু কাঁচা মরিচ বিক্রি করেন এমন ফুটপাতের একজন ব্যবসায়ী জানান, তার কাছ থেকে ৫০ টাকা করে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। একজন মুরগি ব্যবসায়ী জানান, তাকে দৈনিক ৯০ টাকা করে খাজনা দিতে হয়। অপর একজন মুরগি ব্যবসায়ী জানান, তার কাছ থেকে দৈনিক দেড় শ’ টাকা করে খাজনা আদায় করে থাকেন ইজারাদারের কর্মচারীরা। একইভাবে সবজি বিক্রেতাদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১৩০ টাকা করে খাজনা আদায় করা হয় বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন।

ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, রেল বাজারের আওতায় পড়ে না এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও জোরপূর্বক খাজনা আদায় করে থাকেন ইজারাদারের কর্মচারীরা। খাজনা আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন আব্দুর রহমান, মিজান ও অভি নামে ৩ যুবক। তারা সন্ত্রাসী প্রকৃতির। কেউ নিয়মবহির্ভুত খাজনা দিতে অস্বীকার করলে আদায়কারী যুবকেরা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তাদের হুমকি ধামকি দিয়ে থাকেন। যে কারণে ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। তারা জানান, মুদি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সবজি ব্যবসায়ী, মাছ ব্যবসায়ী, মুরগি ব্যবসায়ী সকলকে জোরপূর্বক নি¤œমানের পলিথিন কিনতে বাধ্য করা হয়। চাঁচড়া রায়পাড়ার আলার ছেলে আরিফ তার লোকজন দিয়ে পলিথিন বিক্রির নামে ব্যবসায়ীদের ওপর এভাবে অত্যাচার চালিয়ে আসছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ইজারাদার মীর শাদি পৌরসভার অপসারিত মেয়র এবং আওয়ামী লীগ নেতা হায়দার গনি খান পলাশের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত। এছাড়া স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের শেল্টার পেয়ে থাকেন তিনি। যে কারণে রেল বাজার ইজারা নেওয়ার পর থেকেই তার কর্মচারীরা ব্যবসায়ীদের ওপর জুলুম চালিয়ে আসছেন।
ইচ্ছেমতো খাজনা আদায়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইজারাদার মীর শাদি জানান, অভিযোগ সত্য নয়। তার কর্মচারীরা পৌরসভার বেধে দেওয়া রেইট অনুযায়ী ব্যবসা ভেদে দোকান প্রতি ১৫ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্তন্ত খাজনা আদায় করে থাকেন। রেল স্টেশনের টার্মিনাল থেকে শুরু করে মাছ বাজার পর্যন্ত রেল বাজারের পেরিফেরি বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব স্থানের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও খাজনা আদায় করা হয়। রেল বাজারের আওতায় পড়ে না অর্থাৎ পূর্ব পাশের রাস্তার বিপরীত দিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে খাজনা আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান ইজারাদার।