মণিরামপুরে ১০৪ হেক্টর জমিতে কচুরমুখি চাষ

0

 

ওসমান গণি, রাজগঞ্জ (যশোর)॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৮টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে বেড়েছে কচুরমুখির চাষ। উৎপাদন খরচ আর লাভ বেশি হওয়ায় কচুরমুখি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বৃহত্তর এ উপজেলার চাষিরা। কোন রকম ঝুঁকি ছাড়াই কচুর মুখি চাষ করা যায়। কম খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায় বলে চাষিরা তাদের নিচু জমিতে কচুরমুখি চাষ করে এবার বেশ লাভবান হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১ হাজার ৪০জন চাষি ১ শ ৪ হেক্টর জমিতে বারি-১ ও বারি-২ জাতের কচুরমুখি চাষ করেছেন। কচুরমুখি চাষে কোন রকম রাসায়নিক সার ছাড়া শুধু জৈব সার দিয়েই চাষ করা যায়। এতে কম সময়ে এবং কম ঝুঁকিতে কচুরমুখি উৎপাদন করা সম্ভব। আর এ প্রদ্ধতিতে কচুরমুখির চাষ করে বৃহত্তর এ উপজেলার সহস্্রাধিক চাষি বাম্পার ফলন পেয়েছেন। বৃহত্তর এ উপজেলায় মোট চাষির সংখ্যা ১ লাখ ৮হাজার জন।
উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার গ্রামের চাষি বিপ্লব হোসেন গাজী জানান, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে তিনি উচ্চ ফলনশীল কচুর চাষ করে আসছেন। তার কৃষিজমি একটু নিচু হওয়ায় অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কচুরমুখি চাষ করছেন। এবার ও নিজের একশ শতক জমিতে কচুরমুখি চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে অর্ধেক জমির কচুরমুখি বাজারে বিক্রিও করেছেন তিনি। কচুরমুখির বাম্পার ফলন পাওয়ায় এবার বেশি লাভের আশা করছেন এ চাষি। এ পর্যন্ত তিনি অর্ধেক জমির কচুরমুখি বাজারে বিক্রি করেছেন ৫৫ হাজার টাকা। এখনও ক্ষেতে অর্ধেক জমিতে কচুরমুখি রয়েছে। যা কিছুদিনের মধ্যে বাজারে তোলা হবে বলে জানান এ চাষি।
চলতি মৌসুমে কচুর মুখি চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বৃহত্তর এ উপজেলার ১ হাজার ৪০জন কৃষক। কচুরমুখি চাষ করে তারা এখন বেশ স্বাবলম্বী। উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ, কার্তিক চন্দ্র ও আইউব হোসেন জানান, তারা তিনজনে প্রায় এক একর জমিতে কচুরমুখি চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে ১লাখ ৩৫হাজার টাকারমুখি বাজারে বিক্রি করেছেন।
রাজগঞ্জ কলেজপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলী গাজী, আবু কাসেম, শফিকুল ইসলাম, জমশেদ আলী জানান, ১০কাঠা করে জমিতে চলতি মৌসুমে কচুরমুখি চাষ করে তাদের খরচ বাদে ৪০হাজার টাকা করে লাভ হয়েছে। তাদের এই ১০কাঠা জমিতে ৫০মন কচুরমুখি উৎপাদন হয়েছে। বর্তমান বাজারদরে তারা ১৩ থেকে ১৪শ টাকা মন বিক্রি করেছেন বলে জানান।
এছাড়া এখনও ২০দিন এ কচুরমুখি বাজারে বিক্রি করতে পারবেন। তারা বলেন, কচুরমুখি চাষে একটু কষ্ট হলেও লাভ অনেক বেশি।