যশোরে হত্যা ও মাদকের পৃথক মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

0

 

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে হত্যা ও মাদকের আলাদা মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। মঙ্গলবার যশোরের দুটি আদালতে আলাদা এই রায় ঘোষণা করা হয়।
হত্যা মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৩ জুলাই সকালে শার্শা উপজেলার পুটখালীর রহমতপুর এলাকার একটি কবরস্থান থেকে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক হাবিবুর রহমান হবির ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হবি পাটবাড়ি গ্রামের সাজ্জাদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আনোয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে বেনোপাল পোর্ট থানায় মামলা করেন। হাবিবুরের ভাই আনোয়ার হোসেন। এই মামলার তদন্তকালে পুলিশ জানতে পারে, হবির পালক সন্তান রানা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছেন। রানা পাটবাড়ি গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। হত্যার সাথে রানার শ্যালক জসিম জড়িত। পরে পুলিশ আটক করে রানাকে। আদালতে সোপর্দ করা হলে রানা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছিলেন, তার (রানা) স্ত্রীকে হবি প্রায় কুপ্রস্তাব দিতেন। রাজী না হওয়ায় তাকে ক্ষতির চেষ্টা করতে থাকে হবি।। ২০০৮ সালের ১২ জুলাই সকালে রানা বাড়িতে না থাকার সুযোগে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন হবি। পরে রানা বাড়িতে এসে ঘটনাটি জানতে পারেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রানা ও জসিম পরিকল্পিতভাবে হবিকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন। পরে মামলার তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৩১ জানুয়ারি উল্লিখিত দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন বেনাপোল পোর্ট থানার তৎকালীন এসআই ওমর শরীফ। এই মামলায় আসামি রানার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সামছুল তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি জসিমকে খালাস দেন আদালত।
অপরদিকে মাদক মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর সকালে ডিবি পুলিশ মনিরামপুর উপজেলার যোগীপোল গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৫শ’ গ্রাম হেরোইনসহ শহিদ নামে এক যুবককে আটক করে। শহিদ একই গ্রামের মৃত নওয়াব আলীর ছেলে শহিদকে আটক করে। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের তৎকালীন এসআই সেকেন্দার আব জাফর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মনিরামপুর থানায় মামলা করেন। এই মামলায় আসামি শহিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিকি তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও পাঁচ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।