ঐতিহাসিক খাপড়া ওয়ার্ড দিবস আজ

সদ্যস্বাধীন একটি দেশের প্রথম জেলহত্যা

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : আজ ২৪ এপ্রিল, ঐতিহাসিক খাপড়া ওয়ার্ড শহীদ দিবস। ১৯৫০ সালের এই দিনে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ‘খাপড়া ওয়ার্ডে’ বন্দি থাকা কমিউনিস্ট রাজবন্দিদের ওপর তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পুলিশ বাহিনী নির্মমভাবে গুলিবর্ষণ করে। বাংলাদেশের জেল-হত্যার ইতিহাসে এটি এক কলঙ্কিত ও রক্তাক্ত অধ্যায়।
এটি ছিল সদ্যস্বাধীন একটি দেশের প্রথম জেলহত্যা। ব্রিটিশদের কাছ থেকে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত নব্য পাকিস্তানে পুরোনো পদ্ধতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীরা সরকারের রোষানলে পড়ে কারান্তরীণ হন। পটভূমি ও হত্যাকাণ্ড
১৯৫০ সালের দিকে পাকিস্তানি জেলখানায় রাজবন্দিদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। খাবারের নিম্নমান, রাজনৈতিক বইপত্র পড়তে না দেওয়া এবং সাধারণ কয়েদিদের মতো দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে খাপড়া ওয়ার্ডের বন্দিরা দাবি তুলেছিলেন। ২৪ এপ্রিল সকালে তৎকালীন আইজি (প্রিজন) ওই ওয়ার্ড পরিদর্শনে এলে বন্দিরা তাদের ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরেন। কিন্তু আলোচনার পরিবর্তে শুরু হয় বর্বরতা। পুলিশের নির্বিচার গুলিতে ঝরে পড়ে সাতটি তাজা প্রাণ। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে উপর্যুপরি লাঠিচার্জ চালানোয় অনেককেই আজীবন পঙ্গুত্ব বরণও করতে হয়েছিল।
সেদিনের ঘটনায় শহীদ হন দিনাজপুরের কৃষকনেতা কম্পরাম সিংহ, রংপুরের রেলশ্রমিক নেতা সুধীন ধর, রাজশাহীর শ্রমিকনেতা বিজন সেন, কুষ্টিয়ার শ্রমিকনেতা হানিফ শেখ, ময়মনসিংহের ছাত্রনেতা সুখেন্দু ভট্টাচার্য, কুষ্টিয়ার রেলশ্রমিক নেতা দিলওয়ার হোসেন এবং খুলনার ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন।
দিবসের তাৎপর্য
জেলখানায় রাজবন্দিদের মর্যাদার লড়াইয়ে ‘খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকাণ্ড’ একটি মাইলফলক। প্রতি বছর এই দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও শোক মিছিলের আয়োজন করে। বক্তারা মনে করেন, শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের যে সংগ্রাম খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদেরা শুরু করেছিলেন, তা আজও প্রগতিশীল আন্দোলনের মূল শক্তি।
আজকের কর্মসূচি
দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা ও সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও অন্যান্য প্রগতিশীল ছাত্র ও গণসংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছে।