ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে স্ত্রী হত্যা মামলার আসামি জাকিরকে আটক করলো পুলিশ

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের পুলিশ ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশ নিয়ে রহিমা খাতুন নামে এক নারী হত্যা মামলার আসামি নিহতের স্বামী জাকির হোসেনকে আটক করেছে। হত্যাকাণ্ডের ৫ মাস পর গত রোববার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেলস্টেশন থেকে তাকে আটক করা হয়। জাকির হোসেন শার্শা উপজেলার কালিয়ানী মাঠপাড়ার ইমাম আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, আটক জাকির হোসেনকে সোমবার যশোরে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই তাপস মন্ডল জানান, জাকির হোসেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী রহিমা খাতুনকে নিয়ে যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার একটি টিনশেডের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে স্ত্রীকে হত্যার পর ১৩ ডিসেম্বর সকালে লাশ ঘরে তালাবদ্ধ রেখে পালিয়ে যান তিনি। ১৬ ডিসেম্বর স্থানীয়দের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাজীপাড়ার ভাড়া বাড়ির তালা ভেঙে নিহত রহিমা খাতুনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের প্রথম পক্ষের ছেলে হাসানুজ্জামান কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় জাকির হোসেনকে আসামি করা হয়। তবে পলাতক থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু কয়েকদিন আগে সোর্স মারফত খবর পান, জাকির হোসেনের মতো দেখতে এক ব্যক্তি ট্রেনে ফেরি করে চা বিক্রি করছেন। এ খবর পেয়ে তিনি (এসআই তাপস মন্ডল) মোবাইলের ইয়ারফোন বিক্রেতার ছদ্মবেশ ধারণ করে গত রোববার সন্ধ্যায় কোটচাঁদপুর রেলস্টেশনে যান। তার ভাগ্যপ্রসন্ন থাকায় তিনি সেখানে জাকির হোসেনকে দেখতে পান। সাথে সাথে তিনি সেখান থেকে জাকিরকে আটক করেন। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি পুলিশকে জানান, তার স্ত্রী বিভিন্ন স্থানে কোরআন শিক্ষার কাজ করতেন। কিন্তু এক পর্যায়ে তার সন্দেহ হয় স্ত্রী রহিমা খাতুন পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অশান্তি হতো। টাকা পয়সা নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিলো। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১০ টার দিকে রহিমা খাতুনকে মোবাইল ফোনে উচ্চস্বরে কারো সাথে কথা বলতে শুনতে পান জাকির হোসেন। পরে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রচ- ঝগড়া হয়। এরপর রহিমা খাতুন বালিশ নিয়ে মেঝেতে ঘুমাতে যান। রাগ থাকায় এ সময় জাকির হোসেন ওড়না নিয়ে ঘুমন্ত স্ত্রীর গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসারোধে হত্যা করেন। পরে লাশ খাটের ওপর উঠিয়ে কম্বল দিয়ে পেঁচিয়ে রাখেন এবং পরদিন সকালে ঘরে তালা দিয়ে তিনি পালিয়ে যান। স্ত্রীকে হত্যার পর পালিয়ে প্রথমে সুনামগঞ্জে এবং পরে রাজধানী ঢাকায় যান। সেখান থেকে আবার মাজারে মাজারে ঘুরে বেড়াতেন। পরে তিনি ট্রেনে ফেরি করে চা বিক্রি শুরু করেন।