এপস্টেইন চক্রের আরও ভয়ংকর তথ্য ফাঁস

0
‘এপস্টেইন ফাইলস’: ৫৩ বার ইউরোস্টারে নারী পাচার ও ব্রিটিশ রাজপরিবার সংশ্লিষ্টতার নতুন বিতর্ক।। ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের মানবপাচার ও যৌন নিপীড়ন চক্রের ভয়াবহ চিত্র ফাঁস করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিত লাখ লাখ ইমেইল, ব্যাংক রেকর্ড এবং রসিদ বিশ্লেষণ করে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লন্ডনের অভিজাত এলাকা কেনসিংটন এবং চেলসিতে এপস্টেইন চারটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন, যেখানে যৌন নিপীড়নের শিকার নারী ও তরুণীদের রাখা হতো।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের অন্তত ছয়জন নারীকে এসব ফ্ল্যাটে রাখা হয়েছিল, যারা পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৫ সালে ভার্জিনিয়া জুফ্রে নামক এক নারী এপস্টেইনের বিরুদ্ধে লন্ডনে মানবপাচারের অভিযোগ তোলার পরও ব্রিটিশ পুলিশ কোনো তদন্ত শুরু করেনি। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে এপস্টেইন ২০১৯ সালে গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত তার অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছেন। নথিপত্র অনুযায়ী, এপস্টেইন নিজেকে এসব নারীর ‘বাড়িওয়ালা’ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং তাদের পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচ জোগাতেন। বিনিময়ে অনেককে যৌন পাচার চক্রে নতুন নারী সংগ্রহের কাজ করতে বাধ্য করা হতো।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইউরোস্টার ট্রেনের মাধ্যমে তিনি অন্তত ৫৩ বার নারীদের ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে আনা-নেওয়া করেছেন। এর মধ্যে ৩৩টি টিকিট কেনা হয়েছিল ২০১৫ সালে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর। মানবাধিকার আইনজীবী টেসা গ্রেগরি এবং সাবেক ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা কেভিন হাইল্যান্ড পুলিশের এই ভূমিকাকে বড় ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই কেলেঙ্কারিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর এবং অভিজাত ব্রিটিশ নাগরিক ক্লেয়ার হ্যাজেল-এর নামও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভুক্তভোগীরা এখন পুলিশের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে একটি প্রকাশ্য গণতদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।