চৌগাছায় প্রতিদিনই ওএমএসসের চাল-আটা এবং টিসিবির পন্য বিক্রির পয়েন্ট গুলোতে বাড়ছে মানুষের ভিড়

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর)॥ বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কাছে মানুষ যে কতটা অসহায় তার প্রমান দেখা গেছে ওএমএস এবং টিসিবির পন্য বিক্রির স্থান গুলোতে। ভোর রাত হতে মানুষ উপস্থিত হচ্ছে ডিলারের দোকানের সামনে। রোদ ধুলাবালি উপেক্ষা করে যখন কাংখিক পন্যটি হাতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাচ্ছেন। তবে দিন যত যাচ্ছে ততই নিন্মবৃত্তদের চেয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন মধ্যবৃত্ত শ্রেনীর মানুষেরা এমনটিই মনে করছেন উপজেলার সচেতন মহল।


সারা দেশের মত যশোরের চৌগছাতে সপ্তাহে শুক্রবার বাদে বাকি ছয় দিনই ডিলারের মাধ্যমে খোলা বাজারে (এমএমএস) বিক্রি হচ্ছে চাল ও আটা। প্রতিদিন একজন ব্যক্তি ৯০ টাকায় ৫ কেজি আটা ও ১৫০ টাকায় পাচ্ছেন ৫ কেজি চাল। একজন ডিলার দিনে ৭৫০ কেজি আটা ও ৭৫০ কেজি চাল বিক্রি করতে পারবেন। দিনের পর দিন পৌরসভার ৩টি পয়েন্টে একাধারে বিক্রি হচ্ছে ওএমএস এর চাল, আটা। তারপরও ক্রেতার সংখ্যা কোন ভাবেই কমছেনা। পৌর এলাকা ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ভোর রাতে এমনকি রাত ৩ টার দিকেও মানুষ চলে আসছে ডিলারের দোকানের সামনে। দিনর পর দিন ওএমএস এ চাল আটা বিক্রি করা হলেও কোন ভাবেই কমছে না মানুষের ভিড়, বরং দিন যত যাচ্ছে ততই অসহায় মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বুধবার সকালে পৌরসভার নিরিবিলি পাড়ার গেটে ডিলার সাহাজ্জেল হোসেনের দোকানের সামনে যেয়ে দেখা যায় মানুষের লম্বা লাইন। একই অবস্থা ফুড গোডাউনের সামনে ডিলার সিরাজুল ইসলামের দোকানের সামনেও। বয়োবৃদ্ধ নারী পুরুষেরা ভোর রাত হতে অপেক্ষা করছেন কাংখিত পন্যটি ক্রয় করার জন্য কিন্তু নির্ধারিত সময় (সকাল ৯ টা) না বাজলে তো বিক্রি শুরু হচ্ছেনা। মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ার আশংকায় তারা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বয়সের ভারে অনেক বৃদ্ধ মানুষ তার জায়গায় জড়োসড়ো হয়ে বসে গেছেন। এসময় কথা হয় উপজেলার রুস্তমপুর গ্রাম থেকে আসা বৃদ্ধ বদিয়ার রহমান, বিশ্বাসপাড়া মহল্লার আব্দুল মজিদ, সিংহঝুলী গ্রামের ফাতেমা বেগম, ব্র্যাকপাড়া মহল্লার সাইদা বেগমের সাথে। তারা জানায়, বাজারে প্রতিটি জিনিসের দাম আমাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। চাল আটা কিনলে শাক সবজিসহ অন্য কোন বাজার হচ্ছেনা। কিছুটা কম দামে এখানে চাল আটা কেনা যাচ্ছে তাই ভোর রাত থেকে এসে দাঁড়িয়ে আছি। বাজারে সব কিছুর দাম যদি কমত তাহলে হয়ত এমন কষ্ট করা লাগতনা। ওএমএস ডিলার সাহাজ্জেল হোসেন জানান, দীর্ঘ দিন ধরে ওএমএস এর চাল আটা বিক্রি করা হচ্ছে, কিন্তু মানুষের উপস্থিতি কমছেনা বরং প্রতি দিনই বাড়ছে। এমও হচ্ছে চাল ৭৫০ কেজি আর আটা ৭৫০ কেজি বিক্রি শেষ তারপরও মানুষ দাঁড়িয়ে আছে তারা কোন পন্য পাইনি। এ ধরনের ঘটনা প্রায় দিনই ঘটছে।
এদিকে সরকারের নির্দেশ মোতাবেক সারা দেশের মত বুধবার চৌগাছা পৌরসভাতে টিসিবির পন্য বিক্রি শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা হতে পৌরসভার ২টি পয়েন্টে ডিলারের মাধ্যমে ২লিটার তেল, ২ কেজি চিনি ও ২ কেজি ডাল বিক্রি করা হয়েছে। পয়েন্ট গুলোতে টিসিবির পন্য নিতে খুব সকাল থেকেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে চৌগাছা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে যেয়ে দেখা যায়, নারী পুরুষের দীর্ঘ লাইন। কাটফাটা রোদ, ভ্যাপসা গরম আর ধুলাবালি উপেক্ষা করে প্রতিটি মানুষ টিসিবির পন্য নিতে রীতিমত যেন সংগ্রাম করছেন। টিসিবির পন্য নিতে আসা ফাতেমা বেগম, আরজিনা খাতুন, স্বরস্বতি রানী, আনন্দ কুমার বলেন, টিসিবির যে পন্য পাওয়া যাচ্ছে বাজারের পন্যের দামের চেয়ে প্রায় ২২০ টাকার মত কম। তাই এত কষ্ট সহ্য করে এই পন্য নিতে দাঁড়িয়ে আছি। এখানকার পন্য নিয়ে ২শ টাকা বাঁচাতে পারলে পরিবারের অন্য খাতে সেটি খরচ করতে পারবো।
পৌরসভায় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রায় ২১শ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবার পরিচিতি কার্ড প্রাপ্তিরা ডিলারের নিকট জমা দিয়ে নির্ধারিত মূল্যে পন্য নিয়ে বাড়িতে ফিরছেন।টিসিবির ডিলার শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, চৌগাছা সরকারী হাইস্কুল ও সরকারী মডেল প্রাইমারী স্কুলে এক যোগে পন্য বিক্রি শুরু হয়েছে। মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি হলেও কার্ড থাকায় মালামাল বিতরনে তেমন সমস্যা হচ্ছেনা। পৌরসভার সচিব গাজী আবুল কাশেম বলেন, সরকারের নির্দেশ মোতাবেক আমরা কাজ করেছি, প্রকৃত দরিদ্র মানুষ যাতে এই সুযোগটি পাই তার জন্য জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে টিসিবি কিংবা ওএমএস এর পন্য নিতে সমাজের নিন্মবৃত্ত শ্রেনীর মানুষের উপস্থিতি সব থেকে বেশি দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইনে মধ্যবৃত্ত শ্রেনীর মানুষের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, টিসিবির পন্য এর আগে লোক মারফত কিনেছি, কিন্তু এখন কার্ড হওয়ায় সেই সুযোগ আর নেই। আমি কোন জনপ্রতিনিধিকে বলতে পারেনি আমাকে একটি কার্ড দাও, আর কার্ড দিলেও আমি পন্য নিতে ওই লাইনে দাঁড়াতেও পারবোনা। কার্ড সিস্টেম না হলে আমার মত অনেক মধ্যবৃত্ত পরিবারের সদস্য টিসিবির পন্য কিনে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেত।