২০১৯-২০ বিপণন মৌসুম ৪২ লাখ বেল তুলা রফতানি করবে ভারত

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে ভারতে তুলার ২০১৯-২০ বিপণন মৌসুম শুরু হয়েছে। চলবে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর অবধি। এবারের মৌসুমে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৪২ লাখ বেল (প্রতি বেলে ১৭০ কেজি) তুলা রফতানির প্রাক্কলন করেছিল কটন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (সিএআই)। তবে উত্কণ্ঠা বেড়েছিল নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর কারণে। খাতসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছিলেন, এবারের মৌসুমে পণ্যটির রফতানি লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন না ভারতীয় তুলা রফতানিকারকরা। তবে উত্কণ্ঠিত নয় সিএআই। সংস্থাটি বলছে, ২১ দিনের লকডাউনের মধ্যেও রফতানি কার্যক্রম চলছে। ২০১৯-২০ বিপণন মৌসুমে লক্ষ্য অনুযায়ী ৪২ লাখ বেল তুলা রফতানি করা হবে। সিএআইর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। খবর বিজনেস লাইন ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
উৎপাদনে সর্বোচ্চ অবস্থান ধরে রাখলেও ভারত বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ তুলা রফতানিকারক দেশ। প্রতিবেদনে সিএআই জানিয়েছে, ২০১৯-২০ বিপণন মৌসুম শুরুর পর থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ অবধি ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ৩১ লাখ বেল তুলা রফতানি হয়েছে। এখন চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাকি ১১ লাখ বেল তুলা রফতানি করতে পারলেই পণ্যটির রফতানি লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ মৌসুমের প্রথম ছয় মাসেই ভারতীয় রফতানিকারকরা বার্ষিক লক্ষ্যের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি তুলা রফতানি করতে সক্ষম হয়েছেন। এখন মৌসুমের বাকি ছয় মাসে মাত্র ১১ লাখ বেল তুলা রফতানি করতে পারলেই লক্ষ্য অর্জন হবে।
৪ এপ্রিল সিএআইর পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর চলমান ২১ দিনের লকডাউনের কারণে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে তুলা রফতানিকারকদের ধন্যবাদ দেয়া হয়েছে। সিএআই বলছে, লকডাউনের কারণে চলতি মাসে তুলা রফতানিতে কিছুটা ভাটা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আগামী মাস থেকে পুরোদমে পণ্যটির রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়ে যেতে পারে। মে মাসে সিএআইর পরবর্তী বৈঠকে লকডাউনজনিত কারণে এ খাতের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য হিসাব জানাতে পারে সংস্থাটি।
সর্বশেষ বৈঠক শেষে সিএআই জানিয়েছে, গত ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ সময়ে ভারতের বাজারে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৮৩ লাখ ৩ হাজার বেল তুলা সরবরাহ হয়েছে। ২০১৯-২০ মৌসুমের প্রথম ছয় মাসে (অক্টোবর-মার্চ) বাজারে তুলা সরবরাহের এ পরিমাণ বেশ আশাব্যঞ্জক। একই সময়ে ভারতে তুলার অভ্যন্তরীণ ব্যবহার দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ বেলে। ভারতীয় মিলগুলোর কাছে এবারের মৌসুমের প্রথম ছয় মাসে ৩৪ লাখ বেল তুলা নতুন করে মজুদ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে তুলার সম্মিলিত মজুদ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৫৩ হাজার বেলে।
একই সঙ্গে ২০১৯-২০ মৌসুমে ভারতে তুলা আমদানির চিত্রটা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সিএআই। সংস্থাটির সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের মৌসুমে ভারতে সব মিলিয়ে ২৫ লাখ বেল তুলা আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগের প্রাক্কলনের সমান। এর মধ্য দিয়ে গত মৌসুমের তুলনায় এবার ভারতে পণ্যটির আমদানি কমতে পারে সাত লাখ বেল।
এদিকে ভারতের তুলা খাত নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস। এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের মন্দা ভাব কাটিয়ে গত বছর ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারতের তুলা রফতানি খাত। ২০১৮ সালে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৩৫ লাখ ১১ হাজার বেল (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড) তুলা রফতানি হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৩২ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। মূলত প্রতিকূল আবহাওয়া ও ক্ষেতে ক্ষতিকারক পিংক বলওয়ার্ম পতঙ্গের আক্রমণের জের ধরে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ওই বছর ভারত থেকে তুলা রফতানি কমে গিয়েছিল।
তবে গত বছর ভারতীয় রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ৩৬ লাখ বেল তুলা রফতানি করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১১ সালে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি তুলা রফতানি হয়েছিল। ইউএসডিএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাড়তি উৎপাদনের জের ধরে ওই বছর ভারতীয় রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ১ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার বেল তুলা রফতানি করেছিলেন। এরপর থেকে ধারাবাহিক উত্থান-পতনের মধ্যে ছিল ভারতের তুলা রফতানি খাত। নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর ধাক্কা সামলিয়ে চলতি বছর দেশটি থেকে তুলা রফতানি আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছে ইউএসডিএ।