এলপিজির দামও বাড়ল, জ্বালানি তেল নিয়ে দিনমান আলোচনা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর নতুন চাপের আশঙ্কা; ‘যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি’ বলছেন মন্ত্রী

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সারাদিন আলোচনা চলার মধ্যেই দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর দাম বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২১২ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা, যা রোববার সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
রোববার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর আগে চলতি মাসের ২ এপ্রিল নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৭২৮ টাকা।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরপরই এলপিজির দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তে বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি তেল নিয়ে আলোচনা এদিকে জ্বালানি খাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে রোববার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, “আমরা এখন একটি যুদ্ধকালীন অবস্থার মধ্যে আছি। সারা বিশ্বেই জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমরাও বাধ্য হয়ে এই সমন্বয় করেছি।”
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করা জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সেই চাপ সামাল দিতে বর্তমান মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। ভর্তুকি এখনও বহাল রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পড়েছে এবং এর প্রভাব থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়।
অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কোনো শর্তের সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আইএমএফ-এর শর্তের সঙ্গে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সম্পর্ক নেই। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণেই এই সমন্বয় করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় তহবিলের ওপর চাপ থাকা সত্ত্বেও সরকার দীর্ঘ সময় ধরে দাম অপরিবর্তিত রেখেছিল। তবে বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তেলের দাম সামগ্রিক অর্থনীতির একটি অংশমাত্র এবং সরবরাহ-চাহিদার ওপরই মূল্যস্ফীতি নির্ভর করে। সরকার পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিতের মাধ্যমে জনগণের ওপর প্রভাব সহনীয় রাখার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্ত সরকার গ্রহণ করবে না। জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।