সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবছে ধান, বাঁধ ভেঙে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

0
অতিবৃষ্টির কারণে হাওরের খলায় স্তূপ করে রাখা ধান ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার হাওর ও নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কৃষকের চোখের সামনেই তলিয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা জমির আধা-পাকা ও পাকা বোরো ধান। ইতোমধ্যে পানির চাপে মধ্যনগর ও সদর উপজেলায় দুটি ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কৃষি বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের চান্দালীপাড়া গ্রামে ইকরাছই হাওরের একটি বাঁধ এবং দেখার হাওরের গুজাউনি বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে। যদিও বাঁধ দুটি পাউবোর আওতাভুক্ত নয়, স্থানীয়রা সংস্কার করেছিলেন। এছাড়া বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওরের হরিমণের বাঁধ উপচে পানি ঢোকায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে হাজারো হেক্টর জমির ফসল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৪ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে, অর্থাৎ এখনো ৫৬ ভাগ ফসল মাঠে রয়ে গেছে। অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত আতঙ্ক এবং ধান কাটা শ্রমিকের সংকটের কারণে ধান ঘরে তোলা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক এলাকায় খলায় রাখা ধানও বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, টানা বৃষ্টিতে মাটির বাঁধগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। আগামী দুই দিন সুনামগঞ্জ ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলার সব ফসল রক্ষা বাঁধে পাহারার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।