জামায়াত ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ, ১০ মিনিট অচল কার্যক্রম

0
সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উত্তেজনার মুখে প্রায় ১০ মিনিট সংসদের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ফজলুর রহমান বলেন, “কোনো মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করলে এটা ডাবল অপরাধ।” তাঁর এই মন্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের (জামায়াত ও সমমনা) সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ ও হইচই শুরু করেন। এক পর্যায়ে সরকারি দলের সদস্যরাও তর্কে জড়িয়ে পড়লে স্পিকার বারবার নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকারকে নিজের আসন থেকে দাঁড়িয়ে যেতে হয়।

স্পিকার সদস্যদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সারা জাতি লাইভ দেখছে। সংসদ যদি বিধি মোতাবেক না চলে, তাহলে এটি আর থাকবে না। সংসদ সদস্যদের কর্মকাণ্ড দেখে শিশুরাও লজ্জা পাবে।” ফজলুর রহমানের বক্তব্যের যেসব অংশ অসংসদীয়, তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

ফজলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের তুলনারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের তুলনা করা প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে কুয়ার তুলনা করার মতো।” এছাড়া তিনি ৫ আগস্টের পর পুলিশ হত্যা ও থানা লুটের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান।

জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, “নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের ওপর হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি আমার আইডেন্টিটি ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলে গুরুতর অপরাধ করেছেন।” তিনি ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে প্রবীণ রাজনীতিবিদের অনুপযোগী আচরণ বলে অভিহিত করেন এবং অসংসদীয় বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।