চৌগাছায় শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত তুলা খামার সংকটে, উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি দাবি

যে স্থানটিতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দাঁড়িয়ে খামারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সেটি বর্তমান খামার কর্তৃপক্ষ নতুনভাবে সাজাচ্ছেন

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর), লোকসমাজ : দিনটি ছিলো বৃহস্পতিবার। বাংলা ১৩৮৭ বঙ্গাব্দের ৪ অগ্রহায়ণ। আর ইংরেজি ১৯৮০ সালের ২০ নভেম্বর। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে চৌগাছার আকাশ স্পর্শ করে দুটি হেলিকপ্টার। এর একটিতে ছিলেন স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। হেলিকপ্টার দুটি পর্যায়ক্রমে ল্যান্ড করে চৌগাছার জগদীশপুর গ্রামের মাঠে। নেমেই রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হাত নেড়ে সাধারণ মানুষকে অভিবাদন জানান। এরপর চৌগাছাবাসীকে তিনি উপহার দেন দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ তুলা গবেষণা ও বীজবর্ধন খামার। শহীদ জিয়ার হাতে গড়া খামারটি আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। তারই সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী। তাই চৌগাছাবাসী মনে করছেন, এ খামারটি এবার প্রাণ পাবে। এ ব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন।

চৌগাছা উপজেলার এক নিভৃত পল্লী জগদীশপুর। এই গ্রামের মাছে ৪৬ বছর আগে পদধুলি দেন স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি মাঠটি ঘুরে দেখে জগদীশপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠের সুধী সমাবেশে মাঠের ১৫৭ একর জমিতে তুলার খামারের খামারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, যে স্থানটিতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দাঁড়িয়ে খামারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সেটি বর্তমান খামার কর্তৃপক্ষ নতুনভাবে সাজাচ্ছেন।
কথা হয় জগদীশপুর তুলা গবেষণা ও বীজবর্ধন খামারের কটন অ্যাগ্রোনমিস্ট ড. মোহাম্মদ জোবায়ের ইসলাম তালুকদারের সাথে। তিনি বলেন, খামারটি হতে তুলা গবেষণা, প্রজনন, হাইব্রিড ও ভিত্তিবীজ উৎপাদন এবং বিতরণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান। খামারে উদ্ভাবিত জাত যশোর, ঝিনাইদাহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের চাষিরা ব্যাপকভাবে চাষাবাদ করেছেন। সফলতা পেয়েছেন। কিন্তু পরে সে ধারাবাহিকতা আর থাকেনি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকবার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
তিনি জানান, এখানে মোট ২৮টি পদ আছে। সব পদেই জনবল থাকা জরুরি। অথচ বছরের পর বছর ১৩টি পদ শূন্য রয়েছে। মাত্র ১৫ জন কর্মকর্তা -কর্মচারী বৃহৎ এই খামারের কাজ পরিচালনা করছি।
সূত্রে জানা গেছে, খামারের মোট জমির পরিমাণ ৬৩ দশমিক ৭০ হেক্টর বা ১৫৭ একর। যার মধ্যে গবেষণা, প্রজনন বীজ, ভিত্তিবীজ ও হাইব্রিড বীজ উৎপাদনে ব্যবহৃত ৪৭ হেক্টর, সবুজ সারের বীজ উৎপাদনে ১ হেক্টর, খেজুর ও তাল গাছের বাগান দশমিক ৬০ হেক্টর, অন্যান্য বাগান ৪ দশমিক ১৪ হেক্টর, পুকুর দশমিক ৪০ হেক্টর, ইমারত ২ হেক্টর, রাস্তা ১ দশমিক ৪০ হেক্টর, ঔষধি বাগান দশমিক ৫০ হেক্টর ও পতিত জমির পরিমাণ ৬ দশমিক ৬৬ হেক্টর। খামারটির জমি বেলে, উঁচু ,নিচু ও অনুর্বর হওয়ায় ফসলের উৎপাদন অনেক কম। তাই আবাদি জমির উন্নয়ন করা জরুরি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম বলেন, জগদীশপুর তুলা ফার্মটি আমাদের গৌরবের প্রতিষ্ঠান। নানা কারণে এই প্রতিষ্ঠানটি আজ হুমকির মুখে।
যশোর জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক সফল রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু জগদীশপুর তুলা খামার করেছেন এমনটি না, তিনি চৌগাছাকে থানায় রূপ দিয়েছেন। বিগত স্বৈরাচার তুলা গবেষণা বীজবর্ধন খামারটি ধ্বংস করে গেছে। বর্তমান প্রধানমস্ত্রী তারেক রহমান পিতার হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি ঢেলে সাজাবেন। খামারটি আবার আগের জায়গায় ফিরে যাবে বলে আমি মনে করি।