লোকসমাজ ডেস্ক॥ ফরাসি টেলিযোগাযোগ কোম্পানি অরেঞ্জ-এর ৩৫ জন কর্মী আত্মহত্যা করেছেন। ১০ বছর পর ওই মৃত্যুর জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের। তাদের বিরুদ্ধে ‘সামগ্রিক নৈতিক হয়রানি’ ও ‘প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি’র মাধ্যমে তিক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বলা হয়েছে, কর্মপরিবেশের ভয়াবহ অবস্থার কারণেই ওই কর্মীরা আত্মহত্যা করেছেন। এ খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিষয়ক বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস।
খবরে বলা হয়, অরেঞ্জ একটি বৈশ্বিক কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক আছে ২৬.৬ কোটি। এখানে কাজ করে ১ লাখ ৫০ হাজার কর্মী। একসময় সরকার চালিত হলেও এখন এটি বেসরকারি।
কিন্তু সরকার থেকে বেসরকারি দায়িত্বে যাওয়ার সময়ে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায় কোম্পানিটি। ব্যয় কমাতে প্রায় ২২ হাজার কর্মীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেন শীর্ষ নির্বাহীরা। তবে ফ্রান্সে শীর্ষ নির্বাহীরা চাইলেই কর্মী ছাঁটাই করতে পারেন না। যদি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি থাকে তাহলে কোনো কর্মীকে ছাঁটাই করা অসম্ভব না হলেও, অনেক কঠিন। ফরাসি কোম্পানিতে কর্মীরা সাধারণত স্থায়ী চুক্তিতে কাজ করেন।
যেহেতু চাইলেই কর্মীদের ছাঁটাই করা যাবে না, তাই অরেঞ্জ-এর প্রধান নির্বাহী ও শীর্ষ নির্বাহীরা কোম্পানির ভেতর ‘ভয়ের পরিবেশ’ সৃষ্টি করেন, যেন সেখানকার কর্মীদের জন্য চাকরি করা অত্যন্ত কঠিন ও অসহ্য হয়ে ওঠে। এরপর যেন তারা নিজেরাই চাপ সহ্য করতে না পেরে চাকরি ছেড়ে চলে যান।
ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্মীদের বিভিন্ন অনুপযুক্ত কাজ করতে বাধ্য করে। বাড়ির চেয়ে অনেক দূরের অফিসে বদলি করে। যতটা সম্ভব কর্মীদের জীবন বিষাক্ত করে তোলাই ছিল এসবের উদ্দেশ্য। ফ্রান্সে চাকরি বদল করা সাধারণ ঘটনা নয়। সচরাচর নিজেদের ক্যারিয়ার এক কোম্পানিতেই কাটিয়ে দেয় ফরাসিরা। এছাড়া অভিজ্ঞ কর্মীদের জন্য নতুন চাকরি পাওয়াও কঠিন।
ফলে অফিসের ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে নতুন চাকরি না পেয়ে, অনেক কর্মী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। কোনো কর্মী ফাঁসিতে ঝোলেন, কেউ নিজের গায়ে আগুন দেন, আর কেউ বা জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে বা ট্রেনের সামনে লাফ দিয়ে মারা যান। মার্সেই-এর এক ৫১ বছর বয়সী কর্মী নিজের সুইসাইড নোটে সরাসরি নিজের অফিসের বসদের দায়ী করে যান।
গত সোমবার প্যারিসের একটি ফৌজদারি আদালতে প্রমাণ হয় যে, জ্যেষ্ঠ নির্বাহীরা অফিসে এক ধরণের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়। আদালত বলেছে, যে উপায়ে তারা ওই ২২ হাজার কর্মীকে প্রস্থানে বাধ্য করার সিদ্ধান্ত নেয়, তা বৈধ ছিল না। সাবেক প্রধান নির্বাহী দিদিয়ের লম্বার্ডকে এই পরিকল্পনার মূল হোতা হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাকে ৪ মাসের কারাদ- ও ১৬০০০ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। অরেঞ্জ-এর তৎকালীন মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক সহ একাধিক শীর্ষ কর্তাকেও কারাদ- ও জরিমানা করা হয়েছে। অরেঞ্জকে ৮৩ হাজার ডলার জরিমানা দিতে বলা হয়েছে।
৩৫ কর্মীর আত্মহত্যার দায়ে সাজা শীর্ষ নির্বাহীর
সিটি নির্বাচনের আগে অনুমতি ছাড়া কর্মকর্তাদের বদলি নয় : ইসি
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ অনুমতি ছাড়া নির্বাচনের আগে ও ফলাফলের গেজেট প্রকাশ হওয়ার ১৫ দিন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি না করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সোমবার চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ হওয়ার ১৫ দিন পর্যন্ত কাউকে বদলি না করার জন্য ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো: আলমগীর এ চিঠি পাঠান।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন সরকারি দফতর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হবে। এছাড়া নানা সরকারি এবং সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন। ভোটকেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হবে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান/সংস্থার স্থাপনা/অঙ্গন ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী বিধিমালার বিধি ৮৯ অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ১৫ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ব্যতিরেকে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলি করা যাবে না। ১৯৯১ সালের নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন অনুসারে কোনো ব্যক্তি নির্বাচন-সংক্রান্ত কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে তিনি তার উক্তরূপ নিয়োগের পর নির্বাচনী দায়িত্ব হতে অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত তার চাকরির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রেষণে চাকরিরত আছেন বলে গণ্য হবেন। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আগামী ৩০ জানুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ৩১ ডিসেম্বর দুই সিটি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জানুয়ারি।
সূত্র : ইউএনবি
সবজি ও ফল থেকে রাসায়নিক দূর করবেন যেভাবে
লোকসমাজ ডেস্ক॥ বর্তমানে সবজি ও ফলে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ফল ও শাক-সবজি কলের চলমান পানিতে ভালোভাবে ধুতে হবে। খাবারে কীটনাশক থাকার কারণে ক্যানসার, ডায়াবেটিস, পারকিনসন্স, আলঝেইমারের মতো নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ, সন্তানের জন্মগত ত্রুটি, প্রজননে সমস্যা, অ্যাজমা এসব দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে কীটনাশক ও রাসায়নিক দূর করতে পানিতে ধুয়ে ফেলাই যথেষ্ট নয়।
তাহলে ফল ও শাক সবজি থেকে কীটনাশক ও রাসায়নিক দূর করার উপায় জেনে নিন।
ফল ও শাক-সবজি পানিতে ভালোভাবে ধুতে হবে। এতে অনেকটাই কীটনাশক ও রাসায়নিক দূর হবে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ট্যাপ বা কলের চলমান পানিতে ধোয়া ফল ও সবজি বেশ কয়েক ধরনের রাসায়নিক এমনিতেই চলে যায়।
আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভিনেগারে বা লবণ পানিতে সবজি ২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখলে ক্লোরপাইরিফোস, ডিডিটি, সাইপারমেথরিন ও ক্লোরোথালোনিল এর মতো কীটনাশক দূর হয়।
বেকিং সোডার দ্রবণে দুই মিনিট আপেল ডুবিয়ে রাখলে তা কলের চলমান পানির ধারা বা ব্লিচ দ্রবণের ডুবিয়ে রাখার চেয়ে বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখে। অবশ্য বেকিং সোডার দ্রবণে আপেল অন্তত ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখলে তবেই রাসায়নিক দূর হয়।
এক্ষেত্রে এক চামচ বেকিং সোডার সাথে দুই কাপ পানি মেশাতে হবে। অবশ্য এই কৌশল শুধু আপেলের ক্ষেত্রেই কাজে আসে। অন্য ফলের জন্য তেমন কার্যকর নাও হতে পারে।
মাশরুম পানিতে ভালো করে ধুয়ে বা ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে তারপর শুকনো কাপড়ে চেপে মুছে নিতে হবে।
ভারতে বিক্ষোভ: ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন শিল্প, ৭ দেশের ভ্রমণ সতর্কতা জারি
লোকসমাজ ডেস্ক॥ ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এর বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে বড় ধাক্কা খেয়েছে দেশটির পর্যটন শিল্প। তাজমহলসহ দেশটির শীর্ষ পর্যটন স্থানগুলোয় ব্যাপক হারে কমেছে পর্যটকদের সংখ্যা। ভারতে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ইসরাইল, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও তাইওয়ান। ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ডিসেম্বরে পর্যটকদের সংখ্যা ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। রোববার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, এখন পর্যন্ত ভারতজুড়ে সিএএ বিরোধী আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন। বিক্ষোভকারীদের দমাতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। একাধিক অঞ্চলে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা। আতঙ্ক বিরাজ করছে বহু রাজ্যে।
এ পরিস্থিতিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতের পর্যটন শিল্প।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহে আনুমানিক ২ লাখ দেশি ও বিদেশি পর্যটক তাজমহলে তাদের সফর বাতিল বা স্থগিত করেছেন। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্থানগুলোর একটি উত্তর প্রদেশের আগ্রায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি। তাজমহলের নিকটে স্থাপিত একটি বিশেষ পর্যটক পুলিশ স্টেশনের দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশ ইন্সপেক্টর দিনেশ কুমার। সেখানে কতজন পর্যটককে প্রবেশাধিকার দেয়া হয় তার তথ্য থাকে কুমারের কাছে। তিনি জানান, গত ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি মাসে পর্যটকের সংখ্যা ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ভারতীয় ও বিদেশি পর্যটকরা আমাদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ফোন দিয়ে নিরাপত্তা অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইছে। আমরা তাদের সুরক্ষার ব্যাপারে নিশ্চিত করলেও অনেকেই তাদের সফর বাতিল করে দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, চলমান বিক্ষোভে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও আগ্রাসনের ঘটনা ঘটেছে উত্তর প্রদেশে। নয়া দিল্লিতে সফরকারী ইউরোপীয় পর্যটকদের একটি দল রয়টার্সকে জানিয়েছে, সেখানে তাদের ২০ দিন থাকার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন তারা তাদের সফর ছোটো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটির এক সদস্য লন্ডনের বাসিন্দা ডেভ মিলিকিন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার। তিনি জানান, আমাদের দলের সবাই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, ধীরে-সুস্থে ভ্রমণ করা। তবে পত্র-পত্রিকার বিভিন্ন খবর পড়ে আমাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিকল্পিত সময়ের আগেই আমরা চলে যাবো।
রয়টার্স জানিয়েছে, তাজমহলে প্রতি বছর গড়ে ৬৫ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করে থাকেন। কেবল তাজমহলে তাদের প্রবেশ ফি থেকে ভারতের আয় হয় প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। প্রতিবেশী দেশগুলো ছাড়া বিদেশি পর্যটকদের জন্য তাজমহল পরিদর্শনের প্রবেশ ফি প্রায় ১৫ ডলার। সাম্প্রতিক অস্থির পরিবেশের কারণে এই আয় ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। তাজমহল ঘিরে স্থাপিত বিলাসবহুল হোটেল ও গেস্ট হাউজগুলোও ক্ষতির মুখ দেখছে। পর্যটকদের ভরা মৌসুম হলেও ব্যবসা একেবারেই নিম্নমুখী। ভারতের অর্থনীতির জন্য এটি বড় দুঃসংবাদ। সম্প্রতি বিগত ৬ বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায়ও ভারতের পর্যটন শিল্প ক্ষতির শিকার হয়েছে। উত্তর প্রদেশে ২৫০টির বেশি ভ্রমণ অপারেটর, হোটেল ও গাইড সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আগ্রা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট সন্দ্বীপ আরোরা বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় আগ্রার ভ্রমণ ও পর্যটন ৫০-৬০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারতের অন্যতম আরেকটি পর্যটন স্থান হচ্ছে আসাম। রাজ্যটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এক শিংওয়ালা গ-ারের আবাসস্থল আসাম ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের প্রধান জয়ন্ত মাল্লা বড়–য়া জানান, সাধারণত ডিসেম্বরে গড়ে ৫ লাখ পর্যটক রাজ্যটিতে ভ্রমণ করেন। কিন্তু এইবার বিক্ষোভ ও বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ সতর্কতার কারণে সে সংখ্যা অন্তত ৯০ শতাংশ কমে গেছে।
ক্যাটরিনার আশা পূরন হলো না
লোকসমাজ ডেস্ক॥ বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। সিনেমার কাজের দিক থেকে এই অভিনেত্রীর ২০১৯ সাল ভালোই কেটেছে। এ বছর মুক্তি পাওয়া তার ‘ভারত’ সিনেমাটি বক্স অফিস হিট। পাশাপাশি একটি সিনেমার শুটিং করছেন তিনি। বছরের শুরুতে ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিনে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ক্যাটরিনা। সেখানে তিনটি ইচ্ছার কথা বলেছিলেন তিনি, যেগুলো এই বছর পূরণ করতে চান। ২০১৯ সালে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড, নিজের একটি প্রোডাকশন হাউস ও একজন বয়ফ্রেন্ড চেয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু তার আশাগুলো অপূর্ণই থেকে গেছে।
এর মধ্যে জিরো সিনেমার জন্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পেলেও সেরার পুরস্কার পাননি। অন্যদিকে নিজের প্রোডাকশন হাউস খোলার পরিকল্পনা করলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেননি। তবে নিজের কসমেটিকস ব্র্যান্ড চালু করেছেন ক্যাটরিনা। এছাড়া তার বয়ফ্রেন্ড বানানোর ইচ্ছাও অপূর্ণই রয়ে গেছে। যদিও বছরের শেষ দিকে এসে অভিনেতা ভিকি কৌশলের সঙ্গে টাইগার জিন্দা হ্যায় সিনেমাখ্যাত এই অভিনেত্রীর প্রেমের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি ক্যাটরিনা। এর আগে রণবীর কাপুরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন ক্যাটরিনা। তবে কয়েক বছর হলো তাদের ব্রেকআপ হয়েছে। সালমান খানের সঙ্গেও এই অভিনেত্রীর প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও তা গুঞ্জন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বর্তমানে সূর্যবংশী সিনেমার শুটিং করছেন ক্যাটরিনা। এতে অক্ষয় কুমারের বিপরীতে অভিনয় করছেন তিনি। ২০২০ সালে এই সিনেমা মুক্তির কথা রয়েছে।
শেষ হচ্ছে নিরব-বুবলীর ‘ক্যাসিনো’
লোকসমাজ ডেস্ক॥নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় ঘোষণা দেয়া হয় চিত্রনায়ক নিরব ও চিত্রনায়িকা বুবলী প্রথমবার জুটি বেঁধে ‘ক্যাসিনো’ নামে ছবি করছেন। শাকিব খানের বাইরে প্রথম অন্য নায়কের সঙ্গে বুবলীর প্রথম জুটি বাঁধার খবরের পর ব্যাপকভাবে আলোচিত হয় ‘ক্যাসিনো’। ওই মাসের ২৪ তারিখ থেকে শুরু হয় ছবির কাজ। কয়েক লট শুটিংয়ের পর এবার শেষ হচ্ছে বহুল আলোচিত ‘ক্যাসিনো’র কাজ।
ছবির পরিচালক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা সৈকত নাসির চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘ক্যাসিনো’র কাজ শেষের দিকে। ইতোমধ্যে বুবলী ডাবিং শেষ করেছেন। তার একটি গান ও আরেকটি গানের অর্ধেক শুটিং বাকি। গানের শুটিং শেষ হলেই বুবলীর পুরো কাজ শেষ হবে। বাকি থাকবে নিরব এবং তাসকিনের কিছু দৃশ্যের শুটিং, ২০ শতাংশের মতো।
১২ জানুয়ারির মধ্যে ক্যাসিনো’র পুরো শুটিং শেষ করবেন বলে জানান সৈকত নাসির। তিনি বলেন, নিরব-তাসকিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিকোয়েন্স বাকি আছে। ১২ জানুয়ারির আগে শেষ করবো। কারণ, ১৫ তারিখ থেকে ‘আকবর’র কাজ শুরু করবো। ‘ক্যাসিনো’ হবে হাইভোল্টেজ গল্পের সিনেমা। তাই পোস্ট প্রডাকশনে তুলনামূলক বেশি কাজ থাকবে।
‘ক্যাসিনো’ প্রসঙ্গে নিরব আগেই বলেছেন, কাজটি নিয়ে আমি অনেক বেশি সিরিয়াস। সঙ্গে বুবলী আছেন। ভালো কিছু করার চেষ্টা করেছি। কাজটিকে একটি মিশন হিসেবে শেষ করতে যাচ্ছি। ক্যাসিনো’র মাধ্যমে বাংলা ছবির দর্শক নতুন প্যাটার্নে থ্রিলার গল্পের সিনেমা দেখবেন।
সিমপ্লেক্স ইন্টারন্যাশনাল প্রযোজিত প্রথম সিনেমা ‘ক্যাসিনো’র মূল গল্প আবদুল্লাহ জহির বাবুর এবং যৌথভাবে সংলাপ লিখেছেন আবদুল্লাহ জহির বাবু এবং আসাদ জামান। ছবির গান করছেন ইমরান, কোনাল, সাজ্জাৎ হোসেন, মার্সেল। জানা যায়, ‘ক্যাসিনো’ মুক্তি পাবে ২০২০ সালের মার্চে।
সিরিয়া, ইরাকে খতিব হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত কমপক্ষে ২৫
লোকসমাজ ডেস্ক॥ ইরাকের সামরিক ঘাঁটিতে রকেট হামলায় একজন মার্কিন বেসামরিক কন্ট্রাক্টর নিহত হওয়ার দু’দিন পরে ইরাক ও সিরিয়ায় খতিব হিজবুল্লাহ সশস্ত্র গ্রুপের বিরুদ্ধে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। রোববারের ওই হামলাকে ইরাক তার দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। ইরাকের নিরাপত্তা ও মিলিশিয়া সূত্রগুলো বলেছে, ইরাকে মার্কিন ওই হামলায় কমপক্ষে ২৫ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৫ জন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। সূত্রগুলো বলেছেন, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন খতিব হিজবুল্লাহর কমপক্ষে চার জন কমান্ডার। সিরিয়া সীমান্তে আল কাইম জেলায় ইরান সমর্থিত গ্রুপটির প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র জনাথন হফম্যান এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইরাকে সামরিক ঘাঁটি যা অপারেশন ইনহেয়ারেন্ট রিজলভ জোট বাহিনীর হোস্ট, সেখানে খতিব হিজবুল্লাহর বার বার হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ওই আত্মরক্ষামুলক হামলা চালিয়েছে।
ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের ৫টি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে খতিব হিজবুল্লাহর আরো হামলা চালানোর সক্ষমতা কমে যাবে। এসব টার্গেটের মধ্যে ছিল ইরাকে তিনটি ও সিরিয়াতে দুটি স্থাপনা।
এ হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ইরানের সমর্থন আছে, এমন কোনো অভিযানে যদি মার্কিন নারী-পুরুষরা ঝুঁকিতে থাকেন, তাহলে ইরানের সঙ্গে ওই অবস্থানে থাকতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে খতিব হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে হামলাকে সফল বলে বর্ণনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি অ্যাকশনে যেতে পারে।
শুক্রবারের রকেট হামলার জন্য খতিব হিজবুল্লাহকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলায় মার্কিন একজন বেসামরিক কন্ট্রাক্টর নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সার্ভিসে থাকা চারজন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ইরাকি নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের দুজন। ওই অঞ্চল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং ‘ওয়ারিয়রস অব ইসলাম: ইরানস রেভুল্যুশনারি গার্ড’ বইয়ের লেখক কেনেথ কাটজম্যান এ বিষয়ে বলেন, এখন দেখার বিষয় ইরান ও ইরাক সরকারের প্রতিক্রিয়া কি হয়। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ইরাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলা ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। এর ফলে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর আগে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী আবেল আবদেল মাহদি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই অভিযান ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।
দেশের সীমান্ত এলাকায় মোবাইলফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ দেশের সীমান্ত এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে মোবাইলফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে পাঠানো এই নির্দেশনা ইতোমধ্যেই কার্যকর করেছে মোবাইলফোন অপারেটরগুলো। এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) জাকির হোসেন খান বলেন, ‘দেশের স্বার্থে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একটি মোবাইলফোন অপারেটরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই তা কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় প্রায় দুই হাজার মোবাইলফোনের টাওয়ার রয়েছে। এর সবই বন্ধ করা হয়েছে।’ এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্ত এলাকার প্রায় এক কোটি গ্রাহক মোবাইলফোন ব্যবহারে সমস্যায় পড়তে পারেন।’ দেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব’র মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মোবাইলফোন অপারেটররা সবসময়ই সরকারের নির্দেশ মেনে চলে। সীমান্ত এলাকার কাভারেজ নিয়ে যে নির্দেশনা এসেছে, তা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার বড় অংশের মোবাইল ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট, ভয়েস ও অন্যান্য সেবা পাবেন না।’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত থেকে ১ কিলোমিটারের মধ্যে নেটওয়ার্ক কভারেজ ২৯ ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার জন্য বলা হয় বিটিআরসির নির্দেশনায়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সীমান্তে নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ফলেই ডাক ও টেলিযোগোযোগ বিভাগে মোবাইলফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও আইসিটি) আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘সীমান্তের এক কিলোমিটারের মধ্যে মোবাইলফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধের বিষয়টি জানি না।’ প্রসঙ্গত, দেশের সীমান্ত এলাকার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার। এরমধ্যে রয়েছে ৩২টি জেলার যোগ।
দুবাইয়ে ষষ্ঠবার বর্ষসেরা রোনালদো
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ এ বছর রেকর্ড ষষ্ঠবার ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় হন লিওনেল মেসি। রেকর্ড ছয়বার ব্যালন ডি’অরও হাতে তোলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। বার্সেলোনা অধিনায়কের সাফল্য শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে গেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে বছর শেষ হওয়ার ঠিক আগে তার মুখেও হাসি ফুটেছে। দুবাইয়ে ষষ্ঠ গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন জুভেন্টাস উইঙ্গার। গত মৌসুমেই রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে জুভেন্টাসে গেছেন এবং নিজের নতুন দলের সিরি ‘আ’ জয়ে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এই ফেব্রুয়ারিতে পঁয়ত্রিশে পা দেবেন, তবু আলোকময় পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। এবারের সিরি ‘আ’তে এরই মধ্যে ২১ ম্যাচ খেলে করেছেন ১২ গোল। যদিও গোল ব্যবধানে ইন্টার মিলানের চেয়ে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জুভেন্টাস।
এ নিয়ে টানা চারবার গ্লোব সকারের বর্ষসেরা খেলোয়াড় হলেন রোনালদো। এই ডিসেম্বরের শুরুতে ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে মেসি ও ভার্জিল ফন ডাইকের পর তৃতীয় হয়েছিলেন তিনি। প্যারিসের ওই জমকালো আয়োজনে তিনি যাননি। কিন্তু দুবাইয়ে সপরিবারে এসেই হাতে নিলেন গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ড।জীবনসঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ, চার সন্তান ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র, আলানা, ইভা ও মাতেও ছিলেন সঙ্গে। ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে পরিবারের ছবিসহ তিনি লিখেছেন, ‘আরও একবার গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ড জিতে সম্মানিত।’ বছরের শেষ সময়ে এসে বৈশ্বিক পুরস্কারটি জিতে উচ্ছ্বসিত ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড, ‘পরিবারের সঙ্গে এসে এই পুরস্কার জেতা আমার জন্য খুব আবেগের। আতিথেয়তার জন্য অনেক ধন্যবাদ, দুবাই তোমার সঙ্গে শিগগিরই আবার দেখা হবে।’ আগামী বছরও এই পুরস্কার পেতে চান সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার, ‘যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ। আশা করি আগামী বছরও এই পুরস্কার পাবো।’ একই মঞ্চে বর্ষসেরা কোচের স্বীকৃতি পেয়েছেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। তার ক্লাব লিভারপুল হয়েছে বর্ষসেরা।
ভারতের অর্থনীতির অধঃপতন যেভাবে হলো
লোকসমাজ ডেস্ক॥ চলতি বছরে দীপ্তি হারিয়েছে ভারতের অর্থনীতি। বছরব্যাপী চলা শ্লথগতি ও ঋণ সংকটের কারণে চাঙ্গা প্রবৃদ্ধির দেশ থেকে আর্থিক অস্থিরতার দেশে পরিণত হয়েছে ভারত। বিশ্বের খুব কম অর্থনীতিই এ রকম উল্টো রথ দেখেছে।
চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা ২০১৮ সালের প্রথম প্রান্তিকের প্রায় অর্ধেক। ভোক্তা আস্থা ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্নে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ১৩৪ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার খুব অস্থির। বেকারত্ব হার ৬ দশমিক ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ৪৫ বছরের সর্বোচ্চে।
গত বছর বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারমাণ ছিল ভারত। গত দশকে প্রায় সব পূর্বাভাসে বলা হচ্ছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের হাতে। কিন্তু সর্বশেষ প্রান্তিকে ভারতের চেয়ে চাঙ্গা প্রবৃদ্ধি ছিল ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার। মালয়েশিয়া ভারতের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যবিরোধে শ্লথগতিতে থাকলেও চীনের ৬ শতাংশ সম্মানজনক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে এবং ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনেক এগিয়ে আছে ভিয়েতনাম।
ভারতের অর্থনীতিতে দুঃসময়ের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে এর নড়বড়ে আর্থিক ব্যবস্থা। ভারতীয় ব্যাংকগুলো কুঋণে ধুঁকছে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে। প্রথাগত ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ছায়া ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে তাদেরও দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এ রকম আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড গত বছর দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছে। যদিও সরকার কোম্পানিটির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তবে তাদের কার্যক্রম শুরু হলো মাত্র। গত মাসে মর্টগেজ খাতে বড় প্রতিষ্ঠান দেওয়ান হাউজিং ফিন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ অপসারণ করে তাদেরকেও দেউলিয়ার জন্য আদালতে উপস্থাপন করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রমের রাশ টেনে ধরছে।
রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এক বছরে পাঁচবার সুদহার কর্তন করলেও অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে পারেনি। আগেভাগে বেশ আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করলেও আরবিআইয়ের শিথিল মুদ্রানীতির সুবিধা প্রকৃত অর্থনীতিতে সমভাবে পড়েনি। কঠিন সময়ে সাধারণত আরবিআই কঠোর হস্তে লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করে। কিন্তু চলতি বছর বেশ কয়েকবার বিনিয়োগকারীদের অবাক করেছে আরবিআই। গত আগস্টে অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশিত সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট না কমিয়ে ৩৫ বেসিস পয়েন্ট কমানোর ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা দূরদর্শিতার চেয়ে ছেলেমানুষি মনোভাবের প্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকে। চলতি মাসে যেখানে সুদহার কর্তন অনিবার্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল, তখন সে সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটার ঘোষণা দেন আরবিআইয়ের কর্তাব্যক্তিরা।
তারপর প্রশ্ন উঠেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অনির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাবেক এক সহকারী একটি গবেষণা প্রবন্ধে দাবি করেন, কয়েক বছর ধরে ভারতের প্রবৃদ্ধি গত প্রান্তিকের ৪ দশমিক ৫০ শতাংশের আশপাশেই ছিল।
চীনের উত্থানের সঙ্গে ভারতের তুলনা করলে নয়াদিল্লির অনুরাগীরা কিছুটা ক্ষিপ্ত হন। কারণ তারা মনে করেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ, যার শক্তিশালী ফেডারেল ব্যবস্থা ও একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা রয়েছে। এটাকে আবার প্রতিবন্ধকতা হিসেবেও দেখছেন অনেকে। এক পার্টি শাসিত চীনে দেং শিয়াওপিং যে বিশাল সংস্কারকাজ শুরু করেছিলেন এবং তার মাধ্যমে মূল ভূখণ্ড চীনকে রফতানি ও ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের শক্তিঘরে পরিণত করেছিলেন, ফেডারেল ভারতের পক্ষে একই পথ অনুসরণ করা খুব কঠিন। খারাপ সময়ে চীনের সঙ্গে তুলনায় ক্ষিপ্ত হলেও সুসময়ে অবশ্য চীনের সঙ্গে তুলনায় সুখবোধ করেন ভারতীয় নেতারা। সূত্র: ব্লুমবার্গ










