যশোর করোনারি ইউনিট বিশেষায়িত হাসপাতালে ফিরবে?

0

বি এম আসাদ। লোকসমাজ

২০ বছর আগে যাত্রা শুরু করা একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল বর্তমানে সাধারণ একটি ওয়ার্ডে পরিণত হয়ে ধুঁকছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হৃদরোগীদের উন্নত চিকিৎসায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যশোরে ‘করোনারি কেয়ার ইউনিট’ (সিসিইউ) নামে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে এর উদ্বোধন করেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম তরিকুল ইসলাম। তবে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর ওই হাসপাতালের কার্যক্রম কার্যত থমকে যায়। পরবর্তীতে বিশেষায়িত হাসপাতালটির মর্যাদা কমিয়ে সেটিকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের একটি সাধারণ ওয়ার্ডে পরিণত করা হয়।

আজ অবধি প্রতিষ্ঠানটি সেই সংকুচিত অবস্থাতেই পড়ে আছে। দীর্ঘ সময়ে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হাসপাতালের অনেক দামী যন্ত্রপাতি পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর আগমনকে সামনে রেখে জেলাবাসী এখন প্রত্যাশা করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গড়া এই হাসপাতালটি যেন পুনরায় তার পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত হাসপাতালের রূপ ফিরে পায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সিসিইউ পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর কথা বলেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী যশোরে এসে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের পর সিসিইউ পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবে চালুর ঘোষণা দেবেন বলে যশোরবাসী আশায় বুক বেঁধেছেন।

২০০৫ সালে ১৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পের আওতায় ইকো, ইটিটি মেশিন, হল্টার মনিটর, সিরিঞ্জ পাম্পসহ আধুনিক অনেক সরঞ্জাম কেনা হয়েছিল। ২০০৬ সালের ১২ অক্টোবর মাত্র ৬টি বেড নিয়ে এর জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু হয়। তখন সেবার মান এতই উন্নত ছিল যে রোগীরা একে ‘বেহেশতখানা’ বলে অভিহিত করতেন। শুধু যশোর নয়, খুলনা ও সাতক্ষীরার একাংশের মানুষও এখানে চিকিৎসা নিতে আসতেন।

তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিষ্ঠানটির ওপর রোষানল নেমে আসে। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ আর তদারকির অভাবে ইটিটি মেশিনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতিগুলো একে একে নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে হাসপাতালটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ২৮ শয্যার এই ইউনিটে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী থাকলেও তারা পাচ্ছেন না উন্নত চিকিৎসা। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে শুধু প্রাথমিক সেবা দিয়েই অনেক সময় রোগীদের ঢাকা বা খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। এই স্থানান্তরের পথে মৃত্যুর ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে আর্থিক ব্যয়।

গত আগস্ট মাসেই সিসিইউতে ৬৪৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ৪৩ জন উন্নত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মেডিকেল কলেজে সিসিইউ থাকবে এমন অজুহাত তুলে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন কার্যক্রম গত দেড় দশকে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন সময় এসেছে প্রতিষ্ঠানটিকে তার পূর্ণ গৌরবে ফিরিয়ে আনার। প্রধানমন্ত্রী তার যশোর সফরে সিসিইউকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবে চালুর ঘোষণা দিয়ে এ অঞ্চলের হৃদরোগীদের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটাবেন, এমনই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।