লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পরিণতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ শুরু হয়েছে। তেহরান কঠোরতম প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামিনি বলেছেন, “অপরাধীদের জন্য ভয়াবহ প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে।” ইরানের সেনাবাহিনীর (ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রমজান শরিফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ইরান এবং আমেরিকা তোমরা কড়া জবাবের জন্য অপেক্ষা করো।” দেশের বাইরে ইরান যে তার সামরিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে চলেছে তার পেছনে মূল ব্যক্তিটি ছিলেন কাসেম সোলেয়মানি। লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেনের মত দেশগুলোতে তেহরানপন্থী যে শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এখন পরাক্রমশালী হয়ে উঠেছে, তিনিই ছিলেন এর রূপকার। ফলে বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এক নম্বর টার্গেট ছিলেন ইরানি এই জেনারেল।
সংবাদদাতারা বলছেন, ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ বুশ এবং তারপর বারাক ওবামা পর্যন্ত তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেও পরিণতির কথা ভেবে পরে পিছপা হয়েছিলেন। এ কারণে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আগামি নির্বাচনে ডেমোক্রাটদের সম্ভাব্য প্রার্থী জো. বাইডেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘একটা বারুদের বাক্সে ডিনামাইট ছুঁড়ে দিয়েছেন।’ তিনি বলেছেন, “আমরা হয়তো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বড় ধরনের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে চলে গেলাম।” এখন প্রশ্ন হচ্ছে কাসেম সোলেইমানি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সম্ভবত সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু হওয়া স্বত্বেও তার পূর্বসূরিরা যে ঝুঁকি নিতে চাননি, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কেন তা নিলেন? পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা হলো, কাসেম সোলেইমানি ইরাকে মার্কিন কূটনীতিক এবং সৈন্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল, সুতরাং আগে থেকেই তাকে হত্যা করে সেসব পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হলো। তবে এমন সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই হত্যাকাণ্ড ঘটালেন যখন কিছুদিন আগেই তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট অনুমোদন করেছে মার্কিন কংগ্রেস, এবং এক বছরের কম সময়ের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ফলে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি দেখতে শুরু করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের সাংবাদিক জুলিয়ান বার্গার লিখেছেন, নভেম্বরে নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে সোলেইমানিকে হত্যার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি মনে করছেন, ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার যে ঘটনা বারাক ওবামার দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রচারণায় প্রধান একটি বিষয় হয়ে উঠেছিল, ট্রাম্প হয়তো সেরকমই কিছু করতে চেয়েছেন। বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন বলছেন, অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করে আমেরিকানরা এখন কেন এই ‘ট্রিগার’ টিপলো, তার কারণ হয়তো প্রেডিসন্ট ট্রাম্প মনে করেছেন এই হত্যাকাণ্ডের যে ঝুঁকির মাত্রা তার চেয়ে সুবিধার পাল্লা ভারি। “তিনি (প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প) হয়তো মনে করেছেন অব্যাহত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় ইরান দুর্বল-একঘরে হয়ে পড়েছে। দেশের ভেতরে যে প্রচণ্ড অসন্তোষ শুরু হয়েছে তাতে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া হলেও, ইরান বড় কোনো হুমকি তৈরি করতে পারবে না।”
কি করতে পারে ইরান : ‘দুর্বল ইরান’ তেমন কিছু করতে পারবে না বলে ট্রাম্প হয়তো যে ভরসা করছেন, বাস্তবে তা হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিবিসির জেরেমি বোয়েন। “কূটকৌশল বা পরিকল্পনাকারী হিসেবে সোলেইমানি ছিলেন খুবই ক্ষুরধার। সুতরাং তাকে কখনো হত্যা করা হলে, কি করতে হবে তেমন পরিকল্পনাও হয়তো তিনিই করে গেছেন। ইরান যে তার হত্যার একটা জবাব দেবে, তা নিশ্চিত। সোলেইমানি এতদিন ধরে দেশের বাইরে ইরানের যে প্রভাব প্রতিপত্তি তৈরি করেছেন, তা টিকিয়ে রাখার সর্বোত চেষ্টা ইরান করবে।” ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে একটা যুদ্ধ লেগে যেতে পারে, এই শঙ্কা সন্দেহ গত বছর খানেক ধরে চলছিল, কিন্তু সেই সাথে যুদ্ধ এড়ানোর একটা চেষ্টাও তলে তলে চলছিল। ফ্রান্স এই দুই শত্রুর মধ্যে একটা মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিস ডুসেট মনে করছেন, সোলেইমানি এবং ইরাকি একটি শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীর (পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স) প্রধান আবু মাহদি আল মোহানদিসকে হত্যার পর যুদ্ধ এড়ানোর সেই চেষ্টা ধসে পড়বে সন্দেহ নেই। কিন্তু কিভাবে ইরান প্রতিশোধ নেবে – পরিষ্কার করে অনুমান করা শক্ত। তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিলের জরুরী বৈঠক হচ্ছে। সেখান থেকেই হয়তো একটা ছক তৈরি হবে। লিস ডুসেট মনে করেন, ‘বদলা নেওয়ার নানা রাস্তা এবং উপায় ইরানের রয়েছে।’
ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক একজন সদস্য কার্সটেন ফনটেনরোজকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান পত্রিকা লিখছে, ইরানের এই বদলা হয়তো দীর্ঘমেয়াদী এবং নানামুখী হবে। তিনি বলছেন ইরাকে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়ারা হয়ত তাৎক্ষণিকভাবে কিছু হামলা চালাবে, কিন্তু ইরান হয়তো “উপযুক্ত সময় এবং স্থানের জন্য অপেক্ষা করবে।” তিনি বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমনকি পশ্চিম আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকাতেও মার্কিন স্বার্থ এবং নাগরিকরা হামলার মুখে পড়তে পারে, এবং এই ঘটনা বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে। “ইরান এমন একটি বার্তা দিতে চাইবে যে আমেরিকানরা কোথাও নিরাপদ নয়।” বিবিসি।
সোলেইমানি হত্যা : কেন এত বড় ঝুঁকি নিল ট্রাম্প? কী করতে পারে ইরান?
অশনি সঙ্কেতের পায়ের আওয়াজ
তৈমূর আলম খন্দকার
লোকে বলে, বাংলাদেশের মাটিতে সোনা ফলে। সুজলা, সুফলা এমন দেশ, যে দেশের ছয় ঋতু পৃথিবীর সব দেশের নাগরিকদের কাছে সমভাবে অনেক প্রিয়। দু’টি সমুদ্রসৈকত পৃথিবীর যেকোনো সৈকতের চেয়ে আলাদা, রয়েছে বিশ্বের সেরা বনাঞ্চল, রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। আন্দোলনের মাধ্যমে মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষায় উন্নীত করা এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করার গৌরব এ দেশবাসীর রয়েছে। আরো রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মোকাবেলা করে বেঁচে থাকার অদম্য সাহস। আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে অনেক রাষ্ট্র স্বাধীন হয়েছে বটে, কিন্তু যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার দৃষ্টান্ত বিরল। সরকারের ভাষ্যমতে, উন্নয়নের গতি এখন জোরালো পক্ষান্তরে রয়েছে স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ। কিন্তু যে বিষয়টির অভাব জনগণ গভীরভাবে অনুভব করে, তা হলো গণতন্ত্র তথা নির্ভয়ে কথা বলা এবং নিজ চাহিদামতো প্রার্থীকে ভোট দেয়ার স্বাধীনতা। অন্য দিকে শাসকদের নির্যাতনের আতঙ্ক, যে কারণে জনগণ হক কথা বলা বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করা অতীব ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। পুলিশ ও মিথ্যা মামলাই যেন সরকার রক্ষার রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। উন্নয়নের গলাবাজির পাশাপাশি গণতন্ত্রের নির্বাসন প্রকটভাবে দৃশ্যমান।
ক্ষমতাসীনদের মূল প্রতিপক্ষ বিএনপিকে কোণঠাসা করে সরকার আপাতত নিশ্চিতে থাকলেও কোথায় যেন ‘ফাঁকা’ পড়ে আছে, যা ডায়াগনসিস করতে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এর মূল কারণ সরকারের একমাত্র টার্গেট বিএনপি। তাই অন্য কোনো দিকে সরকারের এজেন্সিগুলো মনোযোগ দেয়ার ফুরসত পাচ্ছে না। শয়নে স্বপনে সরকার যদি বিএনপিকে একমাত্র টার্গেট করে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে থাকে, তবে দেশ রক্ষায় নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় এজেন্সিগুলোর অন্য দিকে মনোযোগ দেয়ার অবকাশ থাকে কিভাবে? বিডিআর সদর দফতর পিলখানার সেনাকর্মকর্তা হত্যাযজ্ঞ, হোলে আর্টিজানের জঙ্গি হামলা অথবা রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশাল গণজমায়েতের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটছে, যে সম্পর্কে সরকারের কাছে কোনো পূর্বাভাস ছিল না। সরকারি গোয়েন্দারা শুধু পূর্বাভাস পাচ্ছেন, কখন কোথায় বিএনপি-জামায়াত রয়েছে, যা দিয়ে পুলিশ ‘গায়েবি’ বা ভুয়া মামলা সৃজনের নিমিত্তে এজাহারের পাণ্ডুলিপি তৈরি করে উপরতলার কর্মকর্তাদের খুশি রাখে। পুলিশের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান। সরকার পুলিশনির্ভর হলেও আখের গুছাতে তারা (পুলিশ) যত ব্যস্ত, সে অনুপাতে পক্ষপাতিত্বহীন আইনের সঠিক প্রয়োগে কতটুকু আত্মনিয়োজিত বা নিষ্ঠাবান?
সম্প্রতি কিছু ঘটনা সম্পর্কে সরকারের আগাম তথ্য নেই বলেই প্রতীয়মান। অন্য দিকে আগাম তথ্য জানা থাকলেও সরকারের ভূমিকা কী? নাকি সরকারের ভেতর থেকেই ঘুণে ধরার ভূমিকা পালিত হচ্ছে? আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রদ্রোহিতা। কিন্তু অত লম্ফঝম্পের পরেও তো এর কোনো বিচার বা কোনো প্রকার অ্যাকশন পরিলক্ষিত হলো না। ১৮ জুলাই ২০১৯ সালে পত্রিকান্তরে প্রকাশ যে, ‘আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনা মৃত সংঘ’ (ইস্কন) চট্টগ্রামের বেশ কিছু স্কুলে ফুড ফর লাইফ কর্মসূচির অধীনে শিক্ষার্থীদের ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, রাম হরে রাম, রাম রাম হরে হরে, মাতাজি প্রসাদ কি জয় প্রভৃতি ধ্বনি দিয়ে খাদ্য বিতরণ করেছে। স্কুলে সব ধর্মের ছাত্রছাত্রী রয়েছে। সেখানে একটি বিশেষ ধর্মের সেøাগান দিয়ে খাদ্য বিতরণকে চট্টগ্রামবাসী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উসকানি মনে করে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে ১৮ জুলাই ২০১৯ চট্টগ্রামে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি অসাম্প্রদায়িক। ক্ষমতার দাপটে যারা হিন্দুর সম্পত্তি বা দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করেছে, দেশের গণমানুষ তাদের পছন্দ করে না, কিন্তু বন্ধুরাষ্ট্র ভারত, মিয়ানমার, নেপালে এর ভিন্ন চিত্র।
সম্প্রতি ভোলায় ঘটে যাওয়া ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতায় মানুষের প্রাণহানি, বুয়েটে আবরার হত্যা, অতি সম্প্রতি ‘মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চ’ কর্তৃক ডাকসু কার্যালয়ে এর নির্বাচিত ভিপিকে মারধর, প্রভৃতি অঘটনে অন্তর্নিহিত শক্তির উসকানি আছে কি না তাও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নজরে সরকার দেখতে পাচ্ছেন কি না, এটা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। স্বপদে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর সরকারি দলের মুখপাত্র ও সাধারণ সম্পাদক এবং মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংখ্যালঘুরা ভারত থেকে ফেরত এলে তাদের জায়গা দেয়া হবে। এ কথায় তিনি বাংলাদেশকে কোন বাস্তবতার মুখে ঠেলে দিচ্ছেন তা পরিষ্কার নয়। ভারত থেকে মুসলিম বিতাড়িত করায় মোদি সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং বাস্তবতার মধ্যে কোনো সঙ্গতি নেই। মন্ত্রী বলছেন, ভারতে এনআরসি হওয়ার কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, অথচ পত্রিকান্তরে প্রকাশ, প্রতিনিয়তই ভারত থেকে মুসলমানদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কথায় প্রতীয়মান হয়, তিনি মোদির এনআরসি প্রকল্পকেই পক্ষান্তরে সমর্থন দিয়েছেন। সরকারের মুখপাত্র জনাব ও. কাদের জাতীয় পার্টির কাউন্সিলে বলেছেন, ‘গণতন্ত্রে সরকারি দল একা শক্তিশালী হলে হবে না। গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে হলে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন।’ সরকারি দলের মুখপাত্র যদি ‘স্টেজ ফিটিং’ হিসেবে এ কথা বলে থাকেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি মোতাবেক, তিনি কোনো ভুল করেছেন বলে কেউ মনে করবে না। কিন্তু সরকার যদি গণতন্ত্র অর্থবহ করাকে সঠিক মনে করতেন তবে ‘গৃহপালিত’ বিরোধী দল সৃষ্টিতে ব্যস্ত না থেকে প্রকৃত বিরোধী দলকে নীতিগতভাবে স্পেস দিতেন। রাষ্ট্রের উচ্চ আসনে বসে কে কখন সত্য বলেন বা কে কখন অসত্য কথা বলেন, তা আঁচ করা বর্তমান সমাজব্যবস্থায় খুবই কঠিন বটে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় যখন মানুষ মিথ্যা কথা বলে তখন সত্যের মতোই মনে হয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় অর্থে গাড়ি বাড়ি ব্যবহারকারীদের মঞ্চের বক্তৃতা বাস্তবে যখন ১০০ শতাংশ গরমিল হয়, তখনই রাজনীতির প্রতি গণমানুষের শ্রদ্ধাবোধ ও আস্থা আর থাকে না। সে থেকেই শুরু হয়েছে রাজনীতির প্রতি হতাশা, রাজনীতিবিদদের ওপর আস্থাহীনতা এবং জাতির জন্য তা একটা গুরুতর অশনি সঙ্কেত।
প্রতিপক্ষকে দুর্বল করলে নিজেই দুর্বল বা গুরুত্বহীন হয়ে যাওয়ার প্রবাদটি আজকের নয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্ব কমে যাওয়া বা না যাওয়া দু’টিই নির্ভর করে সরকারের নিজ আচরণের ওপরে। সরকার বিনা ভোটে কথিত নির্বাচিত এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলা ও লাঠির জোরে দাবিয়ে রাখার যে অভিযোগ তা খণ্ডানোর জোরালো যুক্তি সরকার আন্তর্জাতিক দরবারে দাঁড় করাতে পেরেছে কি? বরং সরকার চেষ্টা করেও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে পাঠানোর বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি, যা পেরেছে সুদূর আফ্রিকার ছোট দেশ গাম্বিয়া। অবশ্য বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে যা দৃষ্টান্তমূলক এবং সমর্থনের দাবি রাখে। পত্রিকান্তরে প্রকাশ, গত চার বছরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৪৫২ জন বাংলাদেশী অভিবাসী নিহত হয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিষয়টি কর্মকর্তারা দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্যোগ তুলে ধরার ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আরব বিশ্ব, মালয়েশিয়াসহ যেখানে শ্রমবাজার রয়েছে, সেসব রাষ্ট্র প্রতিনিয়তই শ্রমজীবী বাংলাদেশীদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে। তবুও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সৃষ্টিতে বা রক্ষার্থে বাংলাদেশ সরকার কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারছে না। এ ব্যর্থতার দায় কার ওপর বর্তাবে? বৈদেশিক ঋণে উন্নয়নে যদি আন্তর্জাতিক ঋণের বোঝা বাড়ে তবে এ ঋণ কাকে পরিশোধ করতে হবে? নাকি এ ঋণ পরিশোধের কোনো প্রয়োজন হবে না? সরকারের চাহিদা পূরণের জন্য নানাভাবে ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়েছে, যথা- ভ্যাট, পৌর ট্যাক্স, ভূমি ট্যাক্স, অধিকন্তু ইনকাম ট্যাক্স তো রয়েছেই। ইনকাম ট্যাক্স অফিসের কর্মচারী-কর্মকর্তারা এখন নিজেরাই দালালি করছেন। অন্য দিকে আইনজীবীর দায়িত্ব তারাই পালন করছেন, ফলে ন্যায্য ট্যাক্স প্রদান করতে সরকারি ট্যাক্সের চেয়ে ঘুষের পরিমাণ বেশি নির্ধারিত হয় বলে অভিযোগ উঠছে। Income Tax Office এর নাম শুনলেই জনগণ আঁতকে ওঠে। সে অফিসে ঘুষ ‘সহনীয়’ মাত্রায় থাকলে জনগণ ট্যাক্স প্রদানে অধিক উৎসাহ বোধ করত। হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি পাওয়ায় বাসা ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃদ্ধি পাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য। যুব সমাজের বিরাট একটি অংশ মাদকে জড়িয়ে পড়ায় প্রতিপাড়া ও মহল্লায় গড়ে উঠেছে গ্যাং স্টার। বর্ডার সুরক্ষিত না থাকার কারণে মিয়ানমার থেকে অহরহ আসছে মাদকদ্রব্য, যার সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছে। পিতামাতা কর্তৃক সন্তান হত্যা, সন্তান কর্তৃক পিতামাতা হত্যা ঘটনা এর আগে এত প্রকট আকার ধারণ করেনি, যা বর্তমানে ঘটছে অভাবের তাড়নায়, এছাড়া রয়েছে মাদকের প্রভাব। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। এ প্রচণ্ড শীতেও রাজপথে খোলা আকাশের নিচে ছিন্নমূল মানুষদের ঘুমাতে হয়। ক্ষুধা নিবারণের জন্য এখনো অসহায় মানুষদের কাঠের নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে সাগরে ডুবে মরতে হয়। বর্তমান সরকারের সাবেক মন্ত্রী, নৌকা মার্কায় নির্বাচিত এমপি, ১৪ দলের অন্যতম নেতা ও নীতিনির্ধারক স্বীকার করেছেন, বিগত ১০ বছরে ৯ লাখ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। বিষয়গুলো জাতির সমাজ চৈতন্যবোধ ও সংস্কৃতির বিকাশে কী সঙ্কেত প্রদান করছে?
লেখক : কলামিস্ট ও আইনজীবী (অ্যাপিলেট ডিভিশন)
E-mail : taimuralamkhandaker@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চিঠি লিখে যে হুমকি দিয়েছিলেন সুলেইমানি
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় শুক্রবার ভোরে নিহত হয়েছেন ইরানের এলিট কুদস বাহিনীর প্রধান কাসেম সোলাইমানি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই শীর্ষ পর্যায়ের এই ইরানী জেনারেলকে হত্যা করা হয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে সরাসরি মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরে চিঠি লিখে তিনি বলেছিলেন, ‘ভুলে যাবেন না, এই ভূখণ্ডে এখনো কাসিম সুলেইমানি আছেন। তিনি শুধু ইরান নয়, ইরাক, লেবানন, ইরাক এবং সিরিয়ার পররাষ্ট্র নীতিও দেখভাল করেন। গাজা, ফিলিস্তিন পর্যন্ত তার যাতায়াত আছে। ২০০৮ সালেই যুক্তরাষ্ট্র কাসিমকে ‘সব চেয়ে বড় শয়তান’ বলে চিহ্নিত করে। কাসিম সুলেইমানিকে হত্যা করতে পারা আমেরিকার সাময়িক জয় তো বটেই৷ বহু দিন ধরেই তিনি মার্কিন লক্ষ্য ছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাব বাড়াতে পারবে কি?
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, অদূর ভবিষ্যতে কী হবে বলা মুশকিল। তবে সুলেইমানির হত্যা সহজে ভুলবে না ইরান এবং পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলির ইরান প্রভাবিত গোষ্ঠীগুলি। আমেরিকার বিরুদ্ধে এর বদলা তারা নেবেই। যা আর প্রক্সি যুদ্ধ নয়, বড় সড় যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক কূটনীতি তা কী ভাবে থামাতে পারে, সেটাই এখন দেখার। এই হত্যার কারণ সম্পর্কে পেন্টাগনের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জেনারেল সোলাইমানি আমেরিকান কূটনীতিক এবং ইরাকি কর্মকর্তাদের উপর হামলার পরিকল্পনা করে ছিলেন। এছাড়া সোলাইমানি এবং তার এলিট কুদস বাহিনীর বিরুদ্ধে কয়েকশো আমেরিকান ও জোটের সেনা সদস্যকে হত্যা এবং কয়েক হাজার সদস্যকে আহত করার অভিযোগ ছিলো।’ পেন্টাগনের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই ড্রোন হামালার উদ্দেশ্য ভবিষ্যতের ইরানি হামলার পরিকল্পনা রোধ করা। বিশ্বজুড়ে যেখানেই হোক না কেন যুক্তরাষ্ট্র তার জনগণ ও দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরু হয়ে ছিলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কিন্তু সেটা এখন সামরিক অঙ্গনে সরে এসেছে। এদিকে আনাদুলোর খবরে বলা হয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরেই ইরানের এলিট কুদস বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন সুলাইমানি। ২০ হাজার সদস্য নিয়ে ঘটিত কুদস বাহিনীকে ২০০৭ সালে সন্ত্রাসবাদী দল ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কতার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সোলেমানি বলে ছিলেন, ওয়াশিংটন যদি তেহরানকে হুমকি দেয়, তাহলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।’ শুক্রবার ভোরে সোলাইমানি হত্যার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের টুইটার পেইজে ক্যাপশন ছাড়া একটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার ছবি পোষ্ট করেছেন।
খালেদা জিয়ার সাথে স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না : রিজভী
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ কারা তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ১৯ দিন ধরে স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নানা টালবাহানা শেষে ৩১ দিন পর গত ১৬ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলেন তার স্বজনরা। কিন্তু আজ ১৯ দিন অতিবাহিত হলেও তার সাথে স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না। যা কারাবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং কর্তৃত্ববাদী শাসকের মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। এমনকি আন্তর্জাতিক আইনেরও লঙ্ঘন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাকে মানসিক শান্তি না দিতেই স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না। খালেদা জিয়ার জীবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক। সাধারণ বন্দীদের সাথে সাত দিন পর পর দেখা করার সুযোগ থাকলেও বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তাদের প্রতিফলিত হচ্ছে না। দেশনেত্রী বর্তমান সরকারের চরম নিপীড়নের শিকার। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, অধ্যাপক ড. শাহিদা রফিক প্রমুখ।
মানুষ চায় সরকার পতনের জন্য বিরোধী দল আন্দোলন করুক : মান্না
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের মানুষ এখন এক বাক্যে এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। রাজনৈতিক আন্দোলন শিল্পের মতো উল্ল্যেখ করে তিনি বলেন, মানুষ চায় সরকার পতনের জন্য বিরোধী দল আন্দোলন করুক। আপনাদের বোঝা দরকার, কখন কোথায় কিভাবে আন্দোলন শুরু করবেন। যারা আন্দোলন গড়ে তুলবেন, তাদের সামগ্রিক বিষয়টা বুঝতে হবে, তা না হলে হবে না।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার হরণ এবং খালেদা জিয়ার জামিন প্রতিহিংসার বিচারে অবরুদ্ধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ক্ষমতাসীনরা প্রায়ই বলেন বিএনপি কি আন্দোলন করবে, বিএনপির আন্দোলনের কি বুঝে। কিভাবে আন্দোলন করতে হয় তা আমরা জানি। আওয়ামী লীগ জানে… তাহলে ছয় দফা দেওয়ার পরে তিন বছর বসেছিলেন কেন। শেখ মুজিবকে তাহলে বার বার কারাগারে যেতে হয়েছে কেন। আন্দোলন তো আওয়ামী লীগ করে শেখ মুজিবকে কারাগার থেকে বের করেনি। অত বড় নেতা শেখ মুজিবুর রহমান মারা গিয়েছিলেন তারপর তো আওয়ামী লীগ আন্দোলন করতে পারেনি। কেন তারা বার বার বলে তাহলে আমরা আন্দোলন করতে জানি? আর কেউ জানেনা। এইবার আমি সবাইকে ঐরকম একটা আন্দোলন করে তুলবার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ওদেরকে শিখিয়ে দেন, তোমরা আন্দোলন ভাঙতে জানো, আন্দোলন করতে জানি আমরা।
সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিজিবি মহাপরিচালক বলেছেন ওরা সবাই বাংলাদেশী, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু এখন স্বীকার করেছেন, ওখান থেকে ওরা আসছে। আমি জানতে চাই মোট কতজন বাংলাদেশে ঢুকেছে? এরা কবে ভারতে গিয়েছিল, এখন ঢুকলো কেন, কোথায় আছেন তারা এখন? সাংবাদিকরা যেন সেই লিস্ট ধরে কথা বলতে পারেন। আমি জানতে চাই, মানুষ জানতে চায় যে, তারা সত্যি সত্যি বাংলাদেশের ছিল কিনা। বর্তমান সরকারকে অবৈধ মন্তব্য করে মান্না বলেন, ‘একটাই কথা, তোকে আর চাই না। তুই অবৈধ। ক্ষমতায় যে আছে সেটা কোন নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, তাহলে মানবো কেন তাকে আমি। মানবো না বলেই তাঁর পদত্যাগ চাই। তিনি ব্যর্থ, তিনি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না। তার উন্নয়নের সব বাতাস এখন ঝড়ের মত মনে।’
‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশি হামলা বেআইনি ঘোষণা করতে হবে’
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে দুষ্টের দমন আর শিষ্ঠের লালন করা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘সেই পুলিশ যখন শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিংয়ে কোনও উসকানি ছাড়া হামলা করে, তার মানে তারা সংবিধান লঙ্ঘন করছে। এই সমাবেশ থেকে বলতে চাই, কোনও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশের হামলাকে বেআইনি ঘোষণা করতে হবে।’ শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশি জুলুম-নির্যাতন বন্ধের দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, ‘দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না বর্তমান সরকারের অধীনে কোনও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হবে। তাই আজকে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া বাস্তবে আর কোনও পথ নাই।’ নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব। অসাংবিধানিক কাজ করে সরকারের পক্ষে ভূমিকা রাখতে গিয়ে পুরো নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। নির্বাচন কমিশনের ওপরে সাধারণ মানুষের ন্যূনতম যে বিশ্বাসটুকু ছিল, সেটা উনারা ধ্বংস করেছেন। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাড়ার কোনও ক্লাবের নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ক্ষমতাও এই কমিশনের নাই।’ ভারতের কাছে সরকার আত্মসমর্পণ করেছে মন্তব্য করে সাইফুল হক বলেন, ‘বিজিবি বলেছে, গত দুই সপ্তাহে চারশ’র বেশি মানুষ ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। এটাতো হিসাবের কথা, বেহিসাবে কতজন আসছে সেটা জানি না। এই সরকারের যেহেতু সাধারণ মানুষের সমর্থন নাই, তাই ভারত সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে নতজানু নীতি নিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে তারা বিপন্ন করছে।’ সরকারকে পরাজিত করতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই সরকারের কাছে মানুষের ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা কোনও কিছুই আজকে নিরাপদ নয়। তাই এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরাজিত করতে হবে।’
বাণিজ্যমেলার তৃতীয় দিনেও অব্যবস্থাপনা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার তৃতীয় দিন পার হলেও অব্যবস্থাপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক স্টল-প্যাভিলিয়নে পুরোদমে চলছে নির্মাণ কাজ। আবার বেশকিছু পড়ে আছে ফাঁকা। অলিতে-গলিতে পড়ে রয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার হলেও জমজমাট ছিল না মেলা প্রাঙ্গণ। মেলা ঘুরে দেখা গেছে, সকালের দিকে লোকসমাগম কম থাকলেও, বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলে দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়তে থাকে। প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে এমন স্টল-প্যাভিলিয়নে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দর্শনার্থীরা ঘুরে দেখছেন স্টলগুলো। কেউ কেউ কেনাকাটাও করেছেন। এদিকে দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দিলেও এই অব্যবস্থাপনার দায় নিতে চায় না ইপিবি ও পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানের কেউই।
মেলাজুড়ে স্টল-প্যাভিলিয়ন সাজানো গোছানোর নিরন্তর চেষ্টা চলছে। এখনও কেন প্রস্তুত নয়? এমন প্রশ্নে তারা বলছেন, দেরিতে কাজ বুঝে পাওয়ার কথা। তারা বলেন, কাল দোকান পেয়েছে কালই কাজ শুরু হয়েছে। মেলা শুরুর পর কম দামে দোকান পাওয়া যায়। আগে কাজ পেলে আগে কাজ শেষ করতে পারতাম। এসব কিছু যেমন সাজানো গোছানো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমস্যার কারণ, তেমনি দর্শনার্থীদের চোখেও দৃষ্টকটু। এমন কাজকর্ম ও নোংরা পরিবেশ, দৃষ্টিনন্দনভাবে সেজে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি ও প্রচারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে জানালেন স্টল কর্মকর্তারা। তারা বলেন, আমরা ভালো থাকলে কি হবে? চারপাশ তো নোংরা। সেল করতে সমস্যা। এদিকে মেলার সিলভার জুবলি উদযাপনের এই বছরে- আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইপিবির প্রস্তুতিও ভালো। কমানো হয়েছে স্টল-প্যাভিলিয়নের সংখ্যা, বাড়ানো হয়েছে টিকিটের দাম। তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও উন্নয়নের নানা চিত্র। তবে কেন প্রতিবছরের অব্যবস্থাপনার পুনরাবৃত্তি এবছরেও? এর কোন সঠিক উত্তর না থাকলেও দায় নিতে চান না মেলার বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা ইপিবির কর্মকর্তারা।
এদিকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার হলেও বৃষ্টিতে জনশূন্য ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার তৃতীয় দিন। এদিন ভোর থেকেই হালকা বৃষ্টি হওয়ায় দর্শনার্থী ও ক্রেতা সাধারণের মেলায় আসতে বেগ পেতে হয়। ওয়ালটন প্লাজায় কর্মরত বিক্রয় ব্যবস্থাপক আব্দুল হিমেল বলেন, বুঝেছিলাম আজ দর্শনার্থীদের সংখ্যা কম হবে। তবুও আমাদের তো আসতে হয়। তবে দিনের শুরুতে ক্রেতাশূন্য হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থী বাড়ছে বলে তারা জানান। দর্শনার্থী সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ঢাকায় ছিলাম। আজই বাড়ি যাচ্ছি। ভেবেছিলাম আজ মেলা ঘুরে যাবো। এমনিতে শেষের দিকে প্রচুর ভিড় থাকে। তাই ভাবলাম শুরুর দিকে মেলা ঘুরে যাই। ফাঁকা স্টলে ‘কাড়াকাড়ি অফারের’ ব্যানার: প্রতিবারই বাণিজ্য মেলায় ক্রেতাদের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়ে থাকে বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এবারও ব্যতিক্রম নয়। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার শুরুতেই ছাড় দিচ্ছে অনেক বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান। তবে মেলার তৃতীয় দিনেও একটি স্টলের ব্যানারে ‘কাড়াকাড়ি অফার’ এর উল্লেখ থাকলেও সেখানে দেখা মেলেনি কোনো পণ্যের। মেট্রো শপিং বিডি নামের ওই স্টলের ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘কাড়াকাড়ি অফার এক সেট ৩৫০ টাকা, তিন সেট ৯৯৯ টাকা’। মেলার প্রধান গেট দিয়ে ঢুকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে গেলেই স্টলটি দেখা যাবে। এমনকি স্টলটিতে কোনো মানুষের আনাগোনাও দেখা যায়নি। তবে স্টলটির ভেতরে ও বাইরে কিছু কাঠের র্যাক পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ফাঁকা স্টলে এমন অফার ঝুলিয়ে রাখায় মেলার দর্শনার্থীদের অনেককে বিরক্তি প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। রাইদা নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ‘স্টলে কোনো কিছু নেই। অথচ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে কাড়াকাড়ি অফার। এ থেকেই বোঝা যায় এ স্টলের পণ্যের মান কত ভালো হবে।’
৩০% ছাড়ে ইতালিয়ানোর পণ্য: মেলার শুরুতেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড় দিচ্ছে দেশের বৃহৎ প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান আরএফএল। মেলায় প্রতিষ্ঠানটির ইতালিয়ানো ব্র্যান্ডের প্যাভিলিয়নে যেকোনো পণ্য কিনলেই থাকছে নিশ্চিত ১০ শতাংশ ছাড়। তবে এ ব্র্যান্ডের ডিনারসেট, প্লেট, বাটি এবং গ্লাস কিনলেই মিলছে ৩০ শতাংশ মূল্যছাড়।
মেলায় ইতালিয়ানোর প্যাভিলিয়নটি ঘুরে দেখা গেছে, এক ছাদের নিচেই রাখা হয়েছে কিচেন, ক্লিনারসহ বিভিন্ন স্টেশনারি পণ্য। একই সঙ্গে রয়েছে মেলামাইনের বাহারি সব পণ্য। গ্রাহকদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ প্যাকেজও। ছাড়ে অর্থাৎ কম দামে বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করতে ভিড় করছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা।
ইসলামী ব্যাংকের নান্দনিক প্যাভিলিয়ন: মেলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করা হয়েছে। মেলার ৫৯ নম্বর প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়নটি উদ্বোধন করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. মাহবুব উল আলম। মেলার মূল ফট?ক দিয়ে প্রবে?শ করলেই হাতের বাম পা?শে চোখে পড়বে ইসলামী ব্যাংকের প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন। যেখানে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
প্যাভিলিয়ন বিদেশি ভেতরে বাংলাদেশি!: বিদেশি প্যাভিলিয়ন কিন্তু ভেতরে সবই বাংলাদেশি। বিদেশিরা প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ নিয়ে বাংলাদেশিদের কাছে স্টল বিক্রি করেছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই সেসব স্টলে বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশি পণ্য। অন্যদিকে, মেলায় অংশ নেওয়া অনেক বিদেশি স্টলেও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। অর্থাৎ বিদেশ থেকে এসে মেলায় কেউ অংশ নেননি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো সদুত্তর দিতে পারেনি। গতকাল শুক্রবার মেলার তৃতীয় দিনে গিয়ে এসব চিত্রই পাওয়া গেল। এবার মেলায় বাংলাদেশসহ ২১টি দেশ অংশ নিয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসেবে, বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৭টি, বিদেশি মিনি প্যাভিলিয়ন ১১টি এবং বিদেশি প্রিমিয়ার স্টলের সংখ্যা ১৭টি।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোর মধ্যে পাকিস্তানি প্যাভিলিয়নের একটি স্টলে সেই দেশেরই কর্মীর দেখা মেলে। আর ভারত প্যাভিলিয়নে ভারতের দুটি স্টলে ভারতীয় কর্মীর দেখা মিলেছে। এছাড়া বিদেশি আর কোনো প্যাভিলিয়নে গিয়ে বিদেশি কর্মীর দেখা মেলেনি। বিদেশি প্যাভিলিয়ন ৬। এটি বরাদ্দ নিয়েছেন বিদেশিরা। সেখানে ৪টি স্টল রয়েছে। বাকি স্টলগুলো নির্মাণের কাজ চলছে। কিন্তু ৪টি স্টলেই বাংলাদেশি পণ্যে সয়লাব। এই প্যাভিলিয়নের ফ্রেন্ডস গিফট কর্নারে সব বাংলাদেশি পণ্য। বিদেশি প্যাভিলিয়নে কেন বাংলাদেশি পণ্য জানতে চাইলে স্টলটির বিক্রয় কর্মী সাদাদ বলেন, এই প্যাভিলিয়ন বিদেশিরা বরাদ্দ নিয়ে বাংলাদেশিদের কাছে স্টল বিক্রি করেছেন। তাই তারা বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি করছেন। প্যাভিলিয়ন-৫ ভুটান প্যালেস। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি স্টলে রয়েছে সব বাংলাদেশি। সেখানকার বিক্রয় কর্মীরাও বাংলাদেশি। তাদেরও একই বক্তব্য, বিদেশিরা প্যাভিলিয়ন নিয়ে বাংলাদেশিদের কাছে বিক্রি করেছে। তাই তারা বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি করছেন। প্যাভিলিয়ন ১৫, দক্ষিণ কোরিয়া। সেখানে গিয়েও দেখা মিলেছে বাংলাদেশি পণ্য আর বাংলাদেশি বিক্রয়কর্মীদের। এখানেও যেমন নেই বিদেশি কর্মীর তেমনি বিক্রিও হচ্ছে না বিদেশি কোনো পণ্যের। থাইল্যান্ড প্যাভিলিয়নে গিয়ে ওই দেশের পণ্যের দেখা মিললেও কোনো বিদেশি কর্মীর দেখা মিললো না। পাকিস্তানি প্যাভিলিয়নে গিয়ে একজন পাকিস্তানি কর্মীর দেখা মিললেও বাকি স্টলগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীর দেখা মেলে। কয়েকটি স্টলে পাকিস্তানি শাড়ি, থ্রিপচ রয়েছে। আর বাকি স্টলে বাংলাদেশি পণ্যে সয়লাব। এখানকার পাকিস্তানি কর্মীরাও কথা বলতে রাজি হননি। এদিকে, বিদেশি অন্যান্য প্যাভিলিয়নগুলো ঘুরেও বিদেশি কোনো কর্মীর দেখা মেলেনি। বিদেশি পণ্যের দেখা মেলাও দায়। সব স্টলেই বাংলাদেশি পণ্য থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আয়োজনকারীরা জানান, মেলা আগামী ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। এ বছর প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য টিকিটের দাম বাড়িয়ে ৪০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২০-এ যেসব কীর্তির সামনে লিওনেল মেসি
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি তার বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারে জিতেছেন অনেক কিছুই। গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। বার্সেলোনার জার্সিতে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক ‘খুদে জাদুকর’। সর্বাধিক ছয়বার বর্ষসেরা পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারও তিনি। ৩২ বছর বয়সী এ ফুটবল জাদুকরের প্রাপ্তির খাতায় নেই আবার অনেক কিছুই। জাতীয় দলের হয়ে এখনো শিরোপা অধরাই রয়ে গেছে মেসির। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও সেরা হতে পারেননি। এরকম ১২টি চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে লিওনেল মেসির সামনে।
এক দলের হয়ে পেলের গড়া সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড
৬৩৪ গোল করে কোনো এক দলের সর্বোচ্চ গোলের মালিক ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী পেলে।
স্বদেশি ক্লাব সান্তোসের জার্সি গায়ে এ রেকর্ড গড়েন ফুটবলের ‘কালোমানিক’। পেলেকে ছাড়িয়ে যেতে মেসির প্রয়োজন আর ২৫ গোল। বার্সেলোনার জার্সিতে ৬১৮ গোল রয়েছে মেসির।
পঞ্চম চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়
লিওনেল মেসি তার চার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপার সর্বশেষটি জিতেছেন ২০১৫ সালে। ৬টি ইউরোপীয়ান শিরোপা জিতে সবার ওপরে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ফ্রান্সিসকো গান্তো। আর একটি শিরোপা জিতলে গান্তোর কাছে চলে আসবেন বার্সা সুপারস্টার।
একাদশ লীগ শিরোপা
এখানেও মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী গান্তো। সবচেয়ে বেশি ১২টি লীগ শিরোপা জিতেছেন তিনি। লা লিগার ট্রফি ১০ বার জয় করে দ্বিতীয় স্থানে মেসি। চলতি মৌসুমে লা লিগার শিরোপা দৌড়ে সবার উপরে মেসির বার্সেলোনা।
কাপে সর্বোচ্চ ট্রফি জয়ের রেকর্ড
ছয়টি করে কাপ ট্রফি জিতে যৌথভাবে একনম্বরে অগাস্টিন পিরু ও মারিয়া বেলাওস্তে। গত মৌসুমে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে হেরে তাদের রেকর্ডে ভাগ বসানো হয়নি মেসির। ক্যারিয়ারে পাঁচটি কাপ শিরোপা জিতে সম্ভাবনা ধরে রেখেছেন মেসি।
সপ্তম ব্যালন ডি’অর
সর্বাধিক ছয়বার ব্যালন ডি’অর জয়ী একমাত্র ফুটবলার লিওনেল মেসি। সংখ্যাটা সাতে নিতে পারলে আরো একধাপ উপরে উঠবেন তিনি।
টানা ৪র্থ ইউরোপীয় গোল্ডেন বুট জয়
লিওনেল মেসির মতো ধারাবাহিক গোল করার রেকর্ড নেই আর কারও। ছয়বার জিতেছেন ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলের খেতাব ‘গোল্ডেন বুট’। ইতিমধ্যে হ্যাটট্রিকও করেছেন। এবার টানা চতুর্থটির সামনে।
সর্বোচ্চ গোলদাতার পিচিচি ট্রফি
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কিংবদন্তির স্প্যানিয়ার্ড স্ট্রাইকার তেলমো জারা ও লিওনেল মেসি যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছয়বার স্প্যানিশ লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরষ্কার পিচিচি ট্রফি জিতেছেন। এবারো সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে এগিয়ে মেসি।
বার্সার জার্সিতে সবচেয়ে বেশি এল ক্লাসিকো
২০১৯-এর ডিসেম্বরে সর্বশেষ এল ক্লাসিকো খেলতে নেমে ছুঁয়েছেন জাভি হার্নান্দেজকে (৪২ ম্যাচ)। এবার জাভিকে পেছনে ফেলে কাতালানদের হয়ে সবচেয়ে বেশি এল ক্লাসিকো খেলার রেকর্ডের অপেক্ষায় মেসি।
বার্সার জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ
ইনজুরিতে না পড়লে বার্সার জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটাও দখলে নেবেন মেসি (৭০৫ ম্যাচ)। স্প্যানিশ কিংবদন্তী মিডফিল্ডার জাভি খেলেছেন সর্বাধিক ৭৬৭ ম্যাচ।
এক দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ট্রফি জয়ের রেকর্ড
রায়ান গিগস ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে জিতেছেন ৩৪টি ট্রফি। বার্সেলোনার প্রাণভোমরা মেসি আর একটি ট্রফি জিতলেই ছাড়িয়ে যাবেন ওয়েলশ কিংবদন্তীকে।
চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতা
চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (১২৮ গোল)। আসরে রোনালদোর চেয়ে ১৪ গোলে পিছিয়ে মেসি।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শিরোপা
জাতীয় দলের হয়ে একটি ট্রফিও জেতা হয়নি লিওনেল মেসির। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল, কোপা আমেরিকা ২০১৫ ও ২০১৬তে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে ব্যর্থ হন তিনি। চলতি বছর আরো একবার কোপা আমেরিকা জয়ের সুযোগ পাচ্ছেন লিওনেল মেসি। কলম্বিয়ার সঙ্গে ২০২০ কোপা আমেরিকা আসরের সহ-আয়োজক আর্জেন্টিনা।
মার্কিন হামলায় জেনারেল সোলাইমানি নিহত
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডের এলিট শাখা কুদ্স ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ নির্দেশের মাধ্যমে বছরের শুরুতেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় নিয়ে গেলেন তিনি। সোলাইমানি ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন। সাধারণত লাইমলাইট থেকে দূরে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধির কারিগর ধরা হয় তাকে। অনেকে তাকে দেশটির পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হওয়ার প্রতিযোগিতায়ও এগিয়ে রেখেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। সুলাইমানির ওপর মার্কিন হামলার প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়ে, বিধ্বংসী প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আল খোমেনি তার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, অপরাধীদের জন্য কঠিন প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অনুসারে, বৃহস্পতিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন সামরিক বাহিনীর চালানো এক হামলায় নিহত হন সোলাইমানি। ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে বিক্ষোভকারীদের হামলার একদিন পর এই হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রাষ্ট্র পরিচালিত গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হেলিকপ্টার দিয়ে চালানো হামলায় জেনারেল সুলাইমানি ও ইরাকি মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল-মুহানদিস সহ আটজন নিহত হয়েছেন।
যেভাবে মারা গেলেন সুলেইমানি: সামপ্রতিক সময়ে একাধিকবার বাগদাদে সফর করেছিলেন সুলাইমানি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন সফরই সোলাইমানির মৃত্যু ডেকে আনে। ইউএস ইন্সটিটিউট অব পিস এর স্কলার রামজি মারদিনি বলেন, সুলাইমানি বাগদাদে এমনভাবে চলাফেরা করতেন যেন তিনি অস্পৃশ্য। তার এই চিন্তা ভুল ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের প্রশাসনগুলো তার ওপর হামলার মতো সিদ্ধান্ত নিতো না। তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের বিশাল নেটওয়ার্ক ধরে রাখার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন সোলাইমানি। তার মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্য ডেইলি মেইল জানিয়েছে, হামলার দিন সবেমাত্র সিরিয়া থেকে বাগদাদে পৌঁছেছিলেন সোলাইমানি। সেখান থেকে তাকে নিয়ে আসতে যায় ইরাকের পপুলার মোবালাইজেশন ফোর্সেস এর মিলিশিয়ারা। স্থানীয় সময় বৃহসপতিবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা ৩৪ মিনিটে বাগদাদ পৌঁছেন তিনি। বাগদাদের বিমানবন্দর থেকে মিলিশিয়াদের সঙ্গে ফেরার সময় একটি মার্কিন ড্রোন থেকে চালানো চারটি ক্ষেপণাস্ত্রে ধ্বংস হয়ে যায় তাকে ও মিলিশিয়াদের বহনকারী দু’টি গাড়ি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোলাইমানির ওপর হামলার দায় স্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে বলেছে, তাকে হত্যার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। বিবৃতিতে বলা হয়, সুলাইমানি ইরাক সহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। এমনকি ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে বিক্ষোভকারীদের হামলার পেছনেও জড়িত ছিলেন তিনি। আরো বলা হয়, বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন কর্মীদের রক্ষা করতে এ নিষ্পত্তিকারী প্রতিরক্ষা পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের ভবিষ্যৎ হামলা প্রতিরোধে এই হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন নাগরিকরা বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় আমাদের জনগণ ও স্বার্থ রক্ষায় সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া অব্যাহত রাখবে। সোলাইমানি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের পরপরই নিজের টুইট একাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পতাকার ছবি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। তার এ নির্দেশ অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শত্রু বধ হলো।
প্রতিশোধের হুমকি: জেনারেল সোলাইমানি ইরানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের একজন। তার নেতৃত্বাধীন কুদ্স ফোর্স সরাসরি দেশটির সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খোমেনির কাছে জবাবদিহি করে। দেশটিতে জাতীয় বীর হিসেবে পরিচিত তিনি। অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের শক্তি বৃদ্ধিতে তার ভূমিকা অনবদ্য। তার মৃত্যুর যথাযথ জবাব দেয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটির নেতারা। রেভ্যুলুশনারি গার্ডসের সাবেক এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জানিয়েছে, খুবই কুৎসিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। কঠোর জবাব দেবে ইরান। ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ বলেছেন, এই হামলার মাধ্যমে চরম মাত্রায় বিপজ্জনক ও বেকুবি করে উত্তেজনা বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। এটা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ। এই অপরাধের জন্য মার্কিন প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ইরান তাদের সকল রাজনৈতিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা প্রয়োগ করবে। সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খোমেনি বলেছেন, আমার সব বন্ধু ও শত্রুরা এটা জেনে রাখুন- বিদ্রোহের জিহাদ এখন নতুন উদ্দীপনায় চলবে। যোদ্ধাদের জন্য রহমতের এ পথে জয় অপেক্ষা করছে। আমাদের প্রিয় জেনারেলের মৃত্যু তিক্ততার। কিন্তু আমাদের অবিরাম লড়াই ও জয় তার হত্যাকারী ও অপরাধীদের জন্য অধিকতর তিক্ত হবে।
নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন বুদ্ধিজীবীরা
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ নানা শঙ্কা ভোটের মাঠে। ভোটারদের শঙ্কা কেন্দ্রে যেতে পারবেন তো? বিরোধী প্রার্থীদের শঙ্কা-বাঁধাহীনভাবে প্রচারণা চালাতে পারবেন তো? নাকি গত জাতীয় নির্বাচনের মতো তারা পদে পদে বাধাগ্রস্ত হবেন। ভোটার, প্রার্থীর পাশাপাশি দেশের বিশিষ্টজনরা ভাবছেন বিষয়টি নিয়ে। তাদের কেউ বলেছেন, ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি, অনিচ্ছা তৈরি হয়েছে। কেউ আশা করছেন কেন্দ্রে ভোটাররা যাবেন। আবার কেউ বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।
এবার ভোটাররা কেন্দ্রে যাবে: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ.আ.ম.স. আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, এবার আশা করি ভোটার’রা ভোট কেন্দ্র যাবে। এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তারা তাদের অধিকার নিয়ে আগ্রহী। তবে আমি বিএনপির প্রতি আশা রাখবো, তারা যেনো শেষ পর্যন্ত ভোটে লড়াই করে। বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখেছি বিএনপি মাঝপথে এসে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়ে যায়। ফলে ভোটার’রা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। প্রত্যাশা রাখি বিএনপি এই জায়গা থেকে সরে আসবে। এবারের সিটি নির্বাচনে আমার কাছে যা মনে হয়েছে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে আগাচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে।
ভোটারদের মধ্যে অনিচ্ছা তৈরি হয়েছে: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, গত জাতীয় নির্বাচনের পরে ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি, হতাশা, অনিচ্ছা তৈরি হয়েছ। এর পরে আমরা দেখেছি কিছু স্থানীয় নির্বাচন হয়েছে সেখানে ভোটারদের একটা মারাত্বক অনুপস্থিতি দেখতে পেয়েছি। ভোটার’রা তখনই আশ্বাস পায়, যখন দেখে দুই পক্ষের সমান প্রচারনা, মিছিল , সমাবেশের সুযোগ পায়। তখন আমার মনে হয় আস্থা পুরুদ্ধার হতে পারে বা ফিরে আসতে পারে। এবার সিটি নির্বাচনের নতুন সংযোজন ইভিএম। গত নির্বাচনে আমি এমনো ভোটার পেয়েছি যাদের ভোট কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে বলা হয়েছে বিশেষ মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য। যতটুকু জানি, ভোটারদের আঙ্গুলের ছাপ না মিললে ইভিএমের ক্ষেত্রে ২৫ পার্সেন্ট ভোট দিতে পারে প্রিজাইডিং অফিসার’রা। ইভিএম-এ কারচুপি মুক্ত হবে কিনা এই নিয়ে ভোটরাদের মধ্যে একটা বিরাট অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এসমস্ত অনিশ্চয়তা দূর করতে পারলে ভোটার’রা ভোট কেন্দ্রে যাবে। আমার একটা আশংকা আছে। বিগত পাঁচ বছরের নির্বাচনগুলোতে সরকার কারচুপি করে একটা মডেল তৈরি করেছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে তারা নৈশ নির্বাচন করেছে। আমার আরো একটা আশংকা কাজ করছে, আগামী সাধারন নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে কারচুপি করার একটা টেষ্ট কেস হিসেবে নেয় কিনা। এটা শুধু আমার আশংকা নয় ,এটা প্রায় অনেক মানুষেরই আশংকা। সরকারি দল থেকে সবসময়ই বলা হয় বিএনপির কোনো জনপ্রিয়তা নেই, জনগনের আস্থা নেই। তাহলে একটা স্বচ্ছ নির্বাচন দিয়ে দেখাক। তাহলে তো বোঝা যাবে।
জনগণের আস্থা ফিরানোর জন্য এটাই তাদের শেষ সুযোগ: লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশনের আন্ডারে বেশ কয়েকটা নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু কোনো নির্বাচনে জনগণ বা বিরোধী প্রার্থীদের তারা আস্থা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে প্রশাসনও তারা তাদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। যার কারনে জনগণ ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার ইচ্ছে হারিয়ে ফেলছে। সেই জায়গা থেকে সরে আসতে চাইলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরপেক্ষ কাজ করতে হবে।আমি মনে করি, নির্বাচন কমিশন যদি তারা তাদের সংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে তাহলে এধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে না। জনগণের আস্থা ফিরানোর জন্য এটাই তাদের শেষ সুযোগ।
প্রশ্ন কেনো উঠছে সেটিই আমার প্রশ্ন: অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ৮১ সালে স্বদেশে ফিরলেন তখন তিনি বলেছিলেন, মানুষকে তিনি ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিবেন। এছাড়াও তিনি অনেক অঙ্গিকার করেছেন। সব অঙ্গিকারই তিনি রেখেছেন। কিন্তু ভোটের অধিকারটা তিনি ফিরিয়ে দিতে পারেননি। এটা খুব দুঃখজনক। গত জাতীয় নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। প্রশ্ন কেনো উঠলো সেটিই আমার প্রশ্ন। কারণ প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই বলেছেন তিনি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চান না। কিন্তু গত কয়েকটি নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো। যার ফলে ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করার আগ্রহ হারিয়েছে। এখন নির্বাচন হলেও ভোট দিতে যেতে চায় না সাধারন ভোটার’রা। তাহলে কি দাঁড়ালো সঠিক গণতন্ত্র চর্চাটা কিন্তু হচ্ছে না। এর দায় কোনো ভাবে নির্বাচন কমিশন এড়াতে পারে না। একটি নির্বাচন কমিশন যদি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে তাহলে এমন কোনো প্রশ্ন ওঠতো না। কারন নির্বাচন কমিশন শতভাগ স্বাধীন। এখন নির্বাচন কমিশনই পারে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যেতে।










