লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ‘বুশফায়ার’ আগুনের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) এক ফেসবুক বার্তায় বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার করে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে কোনও বাংলাদেশি সাময়িক অসুস্থতায় আক্রান্ত হলে বা ধোঁয়া সংক্রান্ত চিকিৎসা সহযোগিতার প্রয়োজন হলে একদল চিকিৎসক ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে সেবা দিতে সম্মত হয়েছে বলেও ওই বার্তায় জানানো হয়। চিকিৎসকরা হচ্ছেন- ডা. হাসিবুল, ডা. সাথিলা, ডা. সৈয়দা তওসিফ, ডা. শেখ ওয়াহাব, ডা. মোশাররফ হোসেন, ডা. আবুল হোসেন সৈয়দ ও ডা. সাইদুল আনসারি। ওই বার্তায় বলা হয়, শনিবার দমকা বাতাসসহ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড অতিক্রম করতে পারে। এছাড়া ধোঁয়া ও ছাঁই গোটা ক্যানবেরাতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেখানকার বাতাসের অবস্থা স্বাভাবিক অবস্থার থেকে ৯ গুণ বেশি দূষিত বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় সবাইকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার অনুরোধ করেছে দূতাবাস।
আজকের রাশিফল
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করায় পাশ্চাত্য মতে আপনি মকর রাশির জাতব্যক্তি। আপনার ওপর আজ পরমযোগী গ্রহ শনি মহারাজ, দেবগুরু বৃহস্পতি ও প্রেমের দেবতা শুক্রাচার্যের প্রভাব বিদ্যমান। আপনার সঙ্গে মীন রাশির বন্ধুত্ব শুভফল প্রদান করবে। ভাইবোনদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কলহবিবাদের মীমাংসা হওয়ায় গোটা পরিবারে খুশির জোয়ার বইবে। দ্রুতগতির বাহন বর্জন করা শ্রেয় হবে।
মেষ [২১ মার্চ-২০ এপ্রিল] জীবনসাথী, শ্বশুরালয় ও বন্ধুবান্ধব থেকে ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতা পাবেন। ভাড়াটিয়া হলে মালিকের প্রতি সদ্ভাব বজায় রাখুন নচেৎ বাসাবাড়ি পাল্টানোর ঝামেলায় পড়তে হবে। দ্রুতগতির বাহন বর্জনীয়। মনোবল জনবল অর্থবলের সঙ্গে সঙ্গে সুনাম যশ প্রতিষ্ঠার গ্রাফ চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
বৃষ [২১ এপ্রিল-২০ মে] আয় বুঝে ব্যয় করুন নচেৎ সঞ্চয়ে হাত পড়বে। পরিবারের কোনো বয়স্ক লোকের শরীর-স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে পড়ায় তাদের নিয়ে হাসপাতালে চক্কর কাটতে হবে। এতদসত্ত্বেও মন সুর সংগীত ধর্ম আধ্যাত্মিকতা ও পরোপকারের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকবে। শুভাশুভ মিশ্রফল প্রদান করবে।
মিথুন [২১ মে-২০ জুন] শত্রু ও বিরোধীপক্ষের সব পরিকল্পনা নস্যাৎ করে আপনি দুর্বারগতিতে এগিয়ে চলবেন। প্রেম রোমান্স বিনোদন ভ্রমণ বিবাহ বিনিয়োগ বন্ধুত্ব শুভ তথা সুদূরপ্রসারী হবে। মনোবল জনবল অর্থবলের সঙ্গে সঙ্গে সুনাম যশ প্রতিষ্ঠার গ্রাফ চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
কর্কট [২১ জুন-২০ জুলাই] ব্যবসা-বাণিজ্যে মজুদ মালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণমুক্তি শুধু নয়, সঞ্চয় হবে প্রচুর। শিক্ষার্থীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষা করবে। পিতামাতার কাছ থেকে ভরপুর সাহায্য-সহযোগিতা প্রাপ্ত হবেন। ধন উপার্জনের সব পথ খুলে যাবে।
সিংহ [২১ জুলাই-২০ আগস্ট] শত্রু ও বিরোধীপক্ষ আপনার উন্নয়ন ও প্রভাব-প্রতিপত্তির বাড়বাড়ন্ত দেখে পিছু হটতে বাধ্য হবে। দীর্ঘদিনের সম্পত্তি সংক্রান্ত ঝামেলার অবসান ঘটবে। লটারি ফাটকা জুয়া রেস শেয়ার হাউজিং এড়িয়ে চলার আবশ্যকতা রয়েছে। ডাকযোগে চেক মানিঅর্ডার বিকাশ ফ্লেক্সিলোড প্রভৃতি আসতে পারে।
কন্যা [২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর] ব্যবসা-বাণিজ্যে মজুদ মালের দাম ফুলেফেঁপে উঠবে। জীবনসাথী, শ্বশুরালয় ও বন্ধুবান্ধব থেকে ভরপুর সহযোগিতা পাবেন। ভাড়াটিয়া হলে মালিকের প্রতি সদ্ভাব বজায় রাখুন নচেৎ বাসাবাড়ি পাল্টানোর ঝামেলায় পড়তে হবে। হাত বাড়ালেই সফলতাপ্রাপ্ত হবেন।
তুলা [২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর] সংকটকালে বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-পরিজন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ধরবে। লৌকিকতায় যেমন ব্যয় হবে তেমনি উপহারপ্রাপ্ত হবেন। ঘুষ উৎকোচ গ্রহণ নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন ক্রয়-বিক্রয় অস্ত্রশস্ত্র বহন ও অপপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা সমীচীন হবে।
বৃশ্চিক [২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর] বিদেশগমন ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দুটোই সমানতালে শুভফল প্রদান করবে। বিবাহযোগ্যদের বিবাহকার্য সুসম্পন্ন হবে তথা ওই বিবাহে প্রচুর উপার-উপঢৌকনও প্রাপ্ত হবেন। কর্ম অর্থ মোক্ষ সুনাম যশ প্রতিষ্ঠার গ্রাফ চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
ধনু [২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর] গৃহবাড়িতে নতুন আসবাবপত্র, বস্ত্রালঙ্কার ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর পসরা সাজবে। সপরিবারে কোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পারেন। বিবাহযোগ্যদের বিবাহ প্রেমিকযুগলের প্রেমের স্বীকৃতি এমনকি সম্ভাব্য ক্ষেত্রে পরিবারে ছোট্ট নতুন মুখের আগমন ঘটতে পারে।
মকর [২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি] ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা কর্মে হয়রানিমূলক দূরবদলি অপরদিকে দূর থেকে আসা কোনো অপ্রিয় সংবাদ মড়ার উপর খাঁড়ার ঘার সমান হবে। বাড়ির ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বৈদ্যুতিক মিটার জলের কল আসবাবপত্র ও যানবাহন মেরামতে শ্রম অর্থ দুটোই ব্যয় হবে।
কুম্ভ [২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি] সম্ভাব্য ক্ষেত্রে পরিবারে ছোট্ট নতুন মুখের আগমন ঘটতে পারে। গৃহবাড়ি অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে। যার ফলে আপনাকে সর্বদাই ব্যস্ত থাকতে হবে। ডাকযোগে চেক মানিঅর্ডার বিকাশ ফ্লেক্সিলোড প্রভৃতি আসতে পারে।
মীন [১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ] ভাগ্যলক্ষ্মী প্রসন্ন হওয়ায় সফলতা আপনার চরণ স্পর্শ করবে। নিত্যনতুন স্বপ্ন পূরণের জন্য দিনটি রেকর্ড হয়ে থাকবে। আজকের রোপণ করা বৃক্ষ ভবিষ্যতে ফুল ফল ও সংকটকালে ছায়া দিয়ে বাঁচাবে। প্রেমিকযুগলের প্রেম বিবাহের মাধ্যমে সমাজে স্বীকৃতি পাবে।
ইরাকে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরাকে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদের বাংলাদেশ দূতাবাস। শুক্রবার দূতাবাস থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইরাকের চলমান নিরাপদহীন ও অস্থিতিশীল পরিবেশের কথা বিবেচনা করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরাকের সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষ প্রয়োজনে কর্মস্থল ও বাসস্থান ছাড়া সভা সমাবেশস্থল, গোলযোগপূর্ণ পরিবেশ এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সেবা দেওয়ার জন্য দূতাবাসের সেবা ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। উল্লেখ্য, ইরাকের রাজধানী বাগদাদের বিমানবন্দরে মার্কিন হামলায় ইরান রেভ্যুলশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অভিজাত বাহিনী কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেমানি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ইরাকে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
যেকারণে যুদ্ধে সবার ক্ষতি হলেও ট্রাম্পের লাভ
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরানের সেনা প্রধান কাসিম সোলেইমানিকে হত্যা করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ফুঁসছে। প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন খামেনি। তাহলে কি যুদ্ধ অনিবার্য? ডোনাল্ড ট্রাম্প কি তাই চান? নিজের দেশে তিনি ভালো নেই। এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সিনেটে তার ইমপিচমেন্টের বিষয়টি আলোচনায় ওঠার কথা। তার আগে ইরাকে বিমান হামলায় জেনারেল কাসিম সোলেইমানিকে হত্যা করে নিজের দেশের সবার নজর অন্য দিকে ভালোভাবেই সরাতে পেরেছেন ট্রাম্প।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা প্রত্যাশিতভাবেই অন্যায় হামলায় এলিট বাহিনীর প্রধানকে হত্যার বদলা নিতে চেয়েছেন। অন্যদিকে সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর টুইটার অ্যাকাউন্টে মার্কিন পতাকা শেয়ার করে একরকম আনন্দই প্রকাশ করেছেন ‘অ্যামেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানের মাধ্যমে উগ্রতা, বিভেদ আর ঔদ্ধত্বের প্রবক্ত হয়ে ওঠা ট্রাম্প। ট্রাম্প যে ইচ্ছে করেই যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরি করেছেন তা বুঝতে বেশিদূর যেতে হবে না। দু’দিন আগেই নিজের টুইট বার্তায় লিখেছিলেন বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে ‘‘কোনো প্রাণহানি বা আমাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তার জন্য ইরানই দায়ী থাকবে। সেজন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। এটা কোনো সতর্কবার্তা নয়, এটা হুমকি।” আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার কড়া জবাব দিলেও মার্কিন দূতাবাস থেকে বিক্ষোভকারীরা সরে গিয়েছিল। তারপর তো পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হওয়ার কথা। ট্রাম্প চাইলে তাই হতো। কিন্তু কংগ্রেসকে কিছু না জানিয়ে তিনি হামলার নির্দেশ দিয়ে দিলেন পেন্টাগনকে। হামলার নির্দেশ দিয়ে আর ইরানের এলিট বাহিনীর প্রধান নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের একটা পতাকা টুইট করে ট্রাম্প আপাতত চুপ।
মধ্যপ্রাচ্যের একাংশে নেমেছে শোকের ছায়া, বাড়ছে ক্ষোভ আর আতঙ্ক। তার প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়বে। তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। মার্কিন হামলায় সোলেইমানির সঙ্গে ইরাকি কমান্ডার আবু মাহদি আল মুহান্দিসসহ আরো চারজন নিহত হয়েছেন। তাই ইরাকও ক্ষুব্ধ। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদি ইতিমধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধ হলে সবচেয়ে বেশি লাভ হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। দেশে যে কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছিলেন সে অবস্থা হয়ত খানিকটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। আর লাভ অস্ত্রবিক্রেতাদের। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে ইরান আর ইরাকের। সেই দেশদুটোর সাধারণ মানুষের। আশির দশকে প্রায় আট বছর নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করেছে তারা। সেই যুদ্ধ শেষেও ইরাকের মানুষ বেশিদিন শান্তিতে থাকতে পারেনি। ১৯৯০ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত চলা উপসাগরীয় যুদ্ধের ক্ষত শুকানোর আগে ২০০৩ সালে আবার পড়ে যুদ্ধের খপ্পরে। আট বছরের সেই যুদ্ধে মেসোপটেমিয়া সভ্যতার দেশটি হয়ে যায় ধংসস্তূপ। যুদ্ধ হলে বাংলাদেশের জন্যও বিপদ। মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করছেন এমন বাংলাদেশীরা সংকটে পড়বেন। তার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তো পড়বেই। প্রাক মধ্যযুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ- যখন বিশ্বের যে প্রান্তে যত যুদ্ধ হয়েছে, তাতে আখেরে মানবতার ক্ষতিই হয়েছে। লক্ষ-কোটি মানুষ মরেছে। ধংস হয়েছে ভূখন্ড, ভেঙে পড়েছে অর্থনীতি। যুদ্ধের ধংসযজ্ঞ ট্রাম্প বা অন্য কোনো কোনো যুদ্ধবাজ চাইতে পারেন, আমরা চাই না। আমরা শান্তি চাই। ডয়চে ভেলে।
সোলেইমানি হত্যা : কেন এত বড় ঝুঁকি নিল ট্রাম্প? কী করতে পারে ইরান?
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পরিণতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ শুরু হয়েছে। তেহরান কঠোরতম প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামিনি বলেছেন, “অপরাধীদের জন্য ভয়াবহ প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে।” ইরানের সেনাবাহিনীর (ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রমজান শরিফ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ইরান এবং আমেরিকা তোমরা কড়া জবাবের জন্য অপেক্ষা করো।” দেশের বাইরে ইরান যে তার সামরিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে চলেছে তার পেছনে মূল ব্যক্তিটি ছিলেন কাসেম সোলেয়মানি। লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেনের মত দেশগুলোতে তেহরানপন্থী যে শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এখন পরাক্রমশালী হয়ে উঠেছে, তিনিই ছিলেন এর রূপকার। ফলে বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এক নম্বর টার্গেট ছিলেন ইরানি এই জেনারেল।
সংবাদদাতারা বলছেন, ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ বুশ এবং তারপর বারাক ওবামা পর্যন্ত তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেও পরিণতির কথা ভেবে পরে পিছপা হয়েছিলেন। এ কারণে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আগামি নির্বাচনে ডেমোক্রাটদের সম্ভাব্য প্রার্থী জো. বাইডেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘একটা বারুদের বাক্সে ডিনামাইট ছুঁড়ে দিয়েছেন।’ তিনি বলেছেন, “আমরা হয়তো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন বড় ধরনের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে চলে গেলাম।” এখন প্রশ্ন হচ্ছে কাসেম সোলেইমানি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সম্ভবত সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু হওয়া স্বত্বেও তার পূর্বসূরিরা যে ঝুঁকি নিতে চাননি, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কেন তা নিলেন? পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা হলো, কাসেম সোলেইমানি ইরাকে মার্কিন কূটনীতিক এবং সৈন্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল, সুতরাং আগে থেকেই তাকে হত্যা করে সেসব পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হলো। তবে এমন সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই হত্যাকাণ্ড ঘটালেন যখন কিছুদিন আগেই তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট অনুমোদন করেছে মার্কিন কংগ্রেস, এবং এক বছরের কম সময়ের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ফলে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি দেখতে শুরু করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের সাংবাদিক জুলিয়ান বার্গার লিখেছেন, নভেম্বরে নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে সোলেইমানিকে হত্যার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি মনে করছেন, ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার যে ঘটনা বারাক ওবামার দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রচারণায় প্রধান একটি বিষয় হয়ে উঠেছিল, ট্রাম্প হয়তো সেরকমই কিছু করতে চেয়েছেন। বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন বলছেন, অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করে আমেরিকানরা এখন কেন এই ‘ট্রিগার’ টিপলো, তার কারণ হয়তো প্রেডিসন্ট ট্রাম্প মনে করেছেন এই হত্যাকাণ্ডের যে ঝুঁকির মাত্রা তার চেয়ে সুবিধার পাল্লা ভারি। “তিনি (প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প) হয়তো মনে করেছেন অব্যাহত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় ইরান দুর্বল-একঘরে হয়ে পড়েছে। দেশের ভেতরে যে প্রচণ্ড অসন্তোষ শুরু হয়েছে তাতে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া হলেও, ইরান বড় কোনো হুমকি তৈরি করতে পারবে না।”
কি করতে পারে ইরান : ‘দুর্বল ইরান’ তেমন কিছু করতে পারবে না বলে ট্রাম্প হয়তো যে ভরসা করছেন, বাস্তবে তা হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিবিসির জেরেমি বোয়েন। “কূটকৌশল বা পরিকল্পনাকারী হিসেবে সোলেইমানি ছিলেন খুবই ক্ষুরধার। সুতরাং তাকে কখনো হত্যা করা হলে, কি করতে হবে তেমন পরিকল্পনাও হয়তো তিনিই করে গেছেন। ইরান যে তার হত্যার একটা জবাব দেবে, তা নিশ্চিত। সোলেইমানি এতদিন ধরে দেশের বাইরে ইরানের যে প্রভাব প্রতিপত্তি তৈরি করেছেন, তা টিকিয়ে রাখার সর্বোত চেষ্টা ইরান করবে।” ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে একটা যুদ্ধ লেগে যেতে পারে, এই শঙ্কা সন্দেহ গত বছর খানেক ধরে চলছিল, কিন্তু সেই সাথে যুদ্ধ এড়ানোর একটা চেষ্টাও তলে তলে চলছিল। ফ্রান্স এই দুই শত্রুর মধ্যে একটা মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিস ডুসেট মনে করছেন, সোলেইমানি এবং ইরাকি একটি শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীর (পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্স) প্রধান আবু মাহদি আল মোহানদিসকে হত্যার পর যুদ্ধ এড়ানোর সেই চেষ্টা ধসে পড়বে সন্দেহ নেই। কিন্তু কিভাবে ইরান প্রতিশোধ নেবে – পরিষ্কার করে অনুমান করা শক্ত। তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিলের জরুরী বৈঠক হচ্ছে। সেখান থেকেই হয়তো একটা ছক তৈরি হবে। লিস ডুসেট মনে করেন, ‘বদলা নেওয়ার নানা রাস্তা এবং উপায় ইরানের রয়েছে।’
ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক একজন সদস্য কার্সটেন ফনটেনরোজকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান পত্রিকা লিখছে, ইরানের এই বদলা হয়তো দীর্ঘমেয়াদী এবং নানামুখী হবে। তিনি বলছেন ইরাকে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়ারা হয়ত তাৎক্ষণিকভাবে কিছু হামলা চালাবে, কিন্তু ইরান হয়তো “উপযুক্ত সময় এবং স্থানের জন্য অপেক্ষা করবে।” তিনি বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমনকি পশ্চিম আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকাতেও মার্কিন স্বার্থ এবং নাগরিকরা হামলার মুখে পড়তে পারে, এবং এই ঘটনা বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে। “ইরান এমন একটি বার্তা দিতে চাইবে যে আমেরিকানরা কোথাও নিরাপদ নয়।” বিবিসি।
অশনি সঙ্কেতের পায়ের আওয়াজ
তৈমূর আলম খন্দকার
লোকে বলে, বাংলাদেশের মাটিতে সোনা ফলে। সুজলা, সুফলা এমন দেশ, যে দেশের ছয় ঋতু পৃথিবীর সব দেশের নাগরিকদের কাছে সমভাবে অনেক প্রিয়। দু’টি সমুদ্রসৈকত পৃথিবীর যেকোনো সৈকতের চেয়ে আলাদা, রয়েছে বিশ্বের সেরা বনাঞ্চল, রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। আন্দোলনের মাধ্যমে মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষায় উন্নীত করা এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করার গৌরব এ দেশবাসীর রয়েছে। আরো রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মোকাবেলা করে বেঁচে থাকার অদম্য সাহস। আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে অনেক রাষ্ট্র স্বাধীন হয়েছে বটে, কিন্তু যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার দৃষ্টান্ত বিরল। সরকারের ভাষ্যমতে, উন্নয়নের গতি এখন জোরালো পক্ষান্তরে রয়েছে স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ। কিন্তু যে বিষয়টির অভাব জনগণ গভীরভাবে অনুভব করে, তা হলো গণতন্ত্র তথা নির্ভয়ে কথা বলা এবং নিজ চাহিদামতো প্রার্থীকে ভোট দেয়ার স্বাধীনতা। অন্য দিকে শাসকদের নির্যাতনের আতঙ্ক, যে কারণে জনগণ হক কথা বলা বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করা অতীব ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। পুলিশ ও মিথ্যা মামলাই যেন সরকার রক্ষার রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। উন্নয়নের গলাবাজির পাশাপাশি গণতন্ত্রের নির্বাসন প্রকটভাবে দৃশ্যমান।
ক্ষমতাসীনদের মূল প্রতিপক্ষ বিএনপিকে কোণঠাসা করে সরকার আপাতত নিশ্চিতে থাকলেও কোথায় যেন ‘ফাঁকা’ পড়ে আছে, যা ডায়াগনসিস করতে সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এর মূল কারণ সরকারের একমাত্র টার্গেট বিএনপি। তাই অন্য কোনো দিকে সরকারের এজেন্সিগুলো মনোযোগ দেয়ার ফুরসত পাচ্ছে না। শয়নে স্বপনে সরকার যদি বিএনপিকে একমাত্র টার্গেট করে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে থাকে, তবে দেশ রক্ষায় নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় এজেন্সিগুলোর অন্য দিকে মনোযোগ দেয়ার অবকাশ থাকে কিভাবে? বিডিআর সদর দফতর পিলখানার সেনাকর্মকর্তা হত্যাযজ্ঞ, হোলে আর্টিজানের জঙ্গি হামলা অথবা রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশাল গণজমায়েতের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটছে, যে সম্পর্কে সরকারের কাছে কোনো পূর্বাভাস ছিল না। সরকারি গোয়েন্দারা শুধু পূর্বাভাস পাচ্ছেন, কখন কোথায় বিএনপি-জামায়াত রয়েছে, যা দিয়ে পুলিশ ‘গায়েবি’ বা ভুয়া মামলা সৃজনের নিমিত্তে এজাহারের পাণ্ডুলিপি তৈরি করে উপরতলার কর্মকর্তাদের খুশি রাখে। পুলিশের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান। সরকার পুলিশনির্ভর হলেও আখের গুছাতে তারা (পুলিশ) যত ব্যস্ত, সে অনুপাতে পক্ষপাতিত্বহীন আইনের সঠিক প্রয়োগে কতটুকু আত্মনিয়োজিত বা নিষ্ঠাবান?
সম্প্রতি কিছু ঘটনা সম্পর্কে সরকারের আগাম তথ্য নেই বলেই প্রতীয়মান। অন্য দিকে আগাম তথ্য জানা থাকলেও সরকারের ভূমিকা কী? নাকি সরকারের ভেতর থেকেই ঘুণে ধরার ভূমিকা পালিত হচ্ছে? আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রদ্রোহিতা। কিন্তু অত লম্ফঝম্পের পরেও তো এর কোনো বিচার বা কোনো প্রকার অ্যাকশন পরিলক্ষিত হলো না। ১৮ জুলাই ২০১৯ সালে পত্রিকান্তরে প্রকাশ যে, ‘আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনা মৃত সংঘ’ (ইস্কন) চট্টগ্রামের বেশ কিছু স্কুলে ফুড ফর লাইফ কর্মসূচির অধীনে শিক্ষার্থীদের ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, রাম হরে রাম, রাম রাম হরে হরে, মাতাজি প্রসাদ কি জয় প্রভৃতি ধ্বনি দিয়ে খাদ্য বিতরণ করেছে। স্কুলে সব ধর্মের ছাত্রছাত্রী রয়েছে। সেখানে একটি বিশেষ ধর্মের সেøাগান দিয়ে খাদ্য বিতরণকে চট্টগ্রামবাসী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উসকানি মনে করে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে ১৮ জুলাই ২০১৯ চট্টগ্রামে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি অসাম্প্রদায়িক। ক্ষমতার দাপটে যারা হিন্দুর সম্পত্তি বা দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করেছে, দেশের গণমানুষ তাদের পছন্দ করে না, কিন্তু বন্ধুরাষ্ট্র ভারত, মিয়ানমার, নেপালে এর ভিন্ন চিত্র।
সম্প্রতি ভোলায় ঘটে যাওয়া ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতায় মানুষের প্রাণহানি, বুয়েটে আবরার হত্যা, অতি সম্প্রতি ‘মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চ’ কর্তৃক ডাকসু কার্যালয়ে এর নির্বাচিত ভিপিকে মারধর, প্রভৃতি অঘটনে অন্তর্নিহিত শক্তির উসকানি আছে কি না তাও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নজরে সরকার দেখতে পাচ্ছেন কি না, এটা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। স্বপদে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর সরকারি দলের মুখপাত্র ও সাধারণ সম্পাদক এবং মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংখ্যালঘুরা ভারত থেকে ফেরত এলে তাদের জায়গা দেয়া হবে। এ কথায় তিনি বাংলাদেশকে কোন বাস্তবতার মুখে ঠেলে দিচ্ছেন তা পরিষ্কার নয়। ভারত থেকে মুসলিম বিতাড়িত করায় মোদি সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং বাস্তবতার মধ্যে কোনো সঙ্গতি নেই। মন্ত্রী বলছেন, ভারতে এনআরসি হওয়ার কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, অথচ পত্রিকান্তরে প্রকাশ, প্রতিনিয়তই ভারত থেকে মুসলমানদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কথায় প্রতীয়মান হয়, তিনি মোদির এনআরসি প্রকল্পকেই পক্ষান্তরে সমর্থন দিয়েছেন। সরকারের মুখপাত্র জনাব ও. কাদের জাতীয় পার্টির কাউন্সিলে বলেছেন, ‘গণতন্ত্রে সরকারি দল একা শক্তিশালী হলে হবে না। গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে হলে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন।’ সরকারি দলের মুখপাত্র যদি ‘স্টেজ ফিটিং’ হিসেবে এ কথা বলে থাকেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি মোতাবেক, তিনি কোনো ভুল করেছেন বলে কেউ মনে করবে না। কিন্তু সরকার যদি গণতন্ত্র অর্থবহ করাকে সঠিক মনে করতেন তবে ‘গৃহপালিত’ বিরোধী দল সৃষ্টিতে ব্যস্ত না থেকে প্রকৃত বিরোধী দলকে নীতিগতভাবে স্পেস দিতেন। রাষ্ট্রের উচ্চ আসনে বসে কে কখন সত্য বলেন বা কে কখন অসত্য কথা বলেন, তা আঁচ করা বর্তমান সমাজব্যবস্থায় খুবই কঠিন বটে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় যখন মানুষ মিথ্যা কথা বলে তখন সত্যের মতোই মনে হয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় অর্থে গাড়ি বাড়ি ব্যবহারকারীদের মঞ্চের বক্তৃতা বাস্তবে যখন ১০০ শতাংশ গরমিল হয়, তখনই রাজনীতির প্রতি গণমানুষের শ্রদ্ধাবোধ ও আস্থা আর থাকে না। সে থেকেই শুরু হয়েছে রাজনীতির প্রতি হতাশা, রাজনীতিবিদদের ওপর আস্থাহীনতা এবং জাতির জন্য তা একটা গুরুতর অশনি সঙ্কেত।
প্রতিপক্ষকে দুর্বল করলে নিজেই দুর্বল বা গুরুত্বহীন হয়ে যাওয়ার প্রবাদটি আজকের নয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্ব কমে যাওয়া বা না যাওয়া দু’টিই নির্ভর করে সরকারের নিজ আচরণের ওপরে। সরকার বিনা ভোটে কথিত নির্বাচিত এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলা ও লাঠির জোরে দাবিয়ে রাখার যে অভিযোগ তা খণ্ডানোর জোরালো যুক্তি সরকার আন্তর্জাতিক দরবারে দাঁড় করাতে পেরেছে কি? বরং সরকার চেষ্টা করেও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে পাঠানোর বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি, যা পেরেছে সুদূর আফ্রিকার ছোট দেশ গাম্বিয়া। অবশ্য বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে যা দৃষ্টান্তমূলক এবং সমর্থনের দাবি রাখে। পত্রিকান্তরে প্রকাশ, গত চার বছরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৪৫২ জন বাংলাদেশী অভিবাসী নিহত হয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিষয়টি কর্মকর্তারা দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্যোগ তুলে ধরার ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আরব বিশ্ব, মালয়েশিয়াসহ যেখানে শ্রমবাজার রয়েছে, সেসব রাষ্ট্র প্রতিনিয়তই শ্রমজীবী বাংলাদেশীদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে। তবুও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সৃষ্টিতে বা রক্ষার্থে বাংলাদেশ সরকার কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারছে না। এ ব্যর্থতার দায় কার ওপর বর্তাবে? বৈদেশিক ঋণে উন্নয়নে যদি আন্তর্জাতিক ঋণের বোঝা বাড়ে তবে এ ঋণ কাকে পরিশোধ করতে হবে? নাকি এ ঋণ পরিশোধের কোনো প্রয়োজন হবে না? সরকারের চাহিদা পূরণের জন্য নানাভাবে ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়েছে, যথা- ভ্যাট, পৌর ট্যাক্স, ভূমি ট্যাক্স, অধিকন্তু ইনকাম ট্যাক্স তো রয়েছেই। ইনকাম ট্যাক্স অফিসের কর্মচারী-কর্মকর্তারা এখন নিজেরাই দালালি করছেন। অন্য দিকে আইনজীবীর দায়িত্ব তারাই পালন করছেন, ফলে ন্যায্য ট্যাক্স প্রদান করতে সরকারি ট্যাক্সের চেয়ে ঘুষের পরিমাণ বেশি নির্ধারিত হয় বলে অভিযোগ উঠছে। Income Tax Office এর নাম শুনলেই জনগণ আঁতকে ওঠে। সে অফিসে ঘুষ ‘সহনীয়’ মাত্রায় থাকলে জনগণ ট্যাক্স প্রদানে অধিক উৎসাহ বোধ করত। হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি পাওয়ায় বাসা ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃদ্ধি পাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য। যুব সমাজের বিরাট একটি অংশ মাদকে জড়িয়ে পড়ায় প্রতিপাড়া ও মহল্লায় গড়ে উঠেছে গ্যাং স্টার। বর্ডার সুরক্ষিত না থাকার কারণে মিয়ানমার থেকে অহরহ আসছে মাদকদ্রব্য, যার সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ জড়িত থাকার অভিযোগ উঠছে। পিতামাতা কর্তৃক সন্তান হত্যা, সন্তান কর্তৃক পিতামাতা হত্যা ঘটনা এর আগে এত প্রকট আকার ধারণ করেনি, যা বর্তমানে ঘটছে অভাবের তাড়নায়, এছাড়া রয়েছে মাদকের প্রভাব। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। এ প্রচণ্ড শীতেও রাজপথে খোলা আকাশের নিচে ছিন্নমূল মানুষদের ঘুমাতে হয়। ক্ষুধা নিবারণের জন্য এখনো অসহায় মানুষদের কাঠের নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে সাগরে ডুবে মরতে হয়। বর্তমান সরকারের সাবেক মন্ত্রী, নৌকা মার্কায় নির্বাচিত এমপি, ১৪ দলের অন্যতম নেতা ও নীতিনির্ধারক স্বীকার করেছেন, বিগত ১০ বছরে ৯ লাখ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। বিষয়গুলো জাতির সমাজ চৈতন্যবোধ ও সংস্কৃতির বিকাশে কী সঙ্কেত প্রদান করছে?
লেখক : কলামিস্ট ও আইনজীবী (অ্যাপিলেট ডিভিশন)
E-mail : taimuralamkhandaker@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চিঠি লিখে যে হুমকি দিয়েছিলেন সুলেইমানি
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় শুক্রবার ভোরে নিহত হয়েছেন ইরানের এলিট কুদস বাহিনীর প্রধান কাসেম সোলাইমানি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই শীর্ষ পর্যায়ের এই ইরানী জেনারেলকে হত্যা করা হয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে সরাসরি মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরে চিঠি লিখে তিনি বলেছিলেন, ‘ভুলে যাবেন না, এই ভূখণ্ডে এখনো কাসিম সুলেইমানি আছেন। তিনি শুধু ইরান নয়, ইরাক, লেবানন, ইরাক এবং সিরিয়ার পররাষ্ট্র নীতিও দেখভাল করেন। গাজা, ফিলিস্তিন পর্যন্ত তার যাতায়াত আছে। ২০০৮ সালেই যুক্তরাষ্ট্র কাসিমকে ‘সব চেয়ে বড় শয়তান’ বলে চিহ্নিত করে। কাসিম সুলেইমানিকে হত্যা করতে পারা আমেরিকার সাময়িক জয় তো বটেই৷ বহু দিন ধরেই তিনি মার্কিন লক্ষ্য ছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাব বাড়াতে পারবে কি?
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, অদূর ভবিষ্যতে কী হবে বলা মুশকিল। তবে সুলেইমানির হত্যা সহজে ভুলবে না ইরান এবং পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলির ইরান প্রভাবিত গোষ্ঠীগুলি। আমেরিকার বিরুদ্ধে এর বদলা তারা নেবেই। যা আর প্রক্সি যুদ্ধ নয়, বড় সড় যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক কূটনীতি তা কী ভাবে থামাতে পারে, সেটাই এখন দেখার। এই হত্যার কারণ সম্পর্কে পেন্টাগনের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জেনারেল সোলাইমানি আমেরিকান কূটনীতিক এবং ইরাকি কর্মকর্তাদের উপর হামলার পরিকল্পনা করে ছিলেন। এছাড়া সোলাইমানি এবং তার এলিট কুদস বাহিনীর বিরুদ্ধে কয়েকশো আমেরিকান ও জোটের সেনা সদস্যকে হত্যা এবং কয়েক হাজার সদস্যকে আহত করার অভিযোগ ছিলো।’ পেন্টাগনের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই ড্রোন হামালার উদ্দেশ্য ভবিষ্যতের ইরানি হামলার পরিকল্পনা রোধ করা। বিশ্বজুড়ে যেখানেই হোক না কেন যুক্তরাষ্ট্র তার জনগণ ও দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরু হয়ে ছিলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কিন্তু সেটা এখন সামরিক অঙ্গনে সরে এসেছে। এদিকে আনাদুলোর খবরে বলা হয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরেই ইরানের এলিট কুদস বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন সুলাইমানি। ২০ হাজার সদস্য নিয়ে ঘটিত কুদস বাহিনীকে ২০০৭ সালে সন্ত্রাসবাদী দল ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কতার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সোলেমানি বলে ছিলেন, ওয়াশিংটন যদি তেহরানকে হুমকি দেয়, তাহলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।’ শুক্রবার ভোরে সোলাইমানি হত্যার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের টুইটার পেইজে ক্যাপশন ছাড়া একটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার ছবি পোষ্ট করেছেন।
খালেদা জিয়ার সাথে স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না : রিজভী
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ কারা তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ১৯ দিন ধরে স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নানা টালবাহানা শেষে ৩১ দিন পর গত ১৬ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলেন তার স্বজনরা। কিন্তু আজ ১৯ দিন অতিবাহিত হলেও তার সাথে স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না। যা কারাবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং কর্তৃত্ববাদী শাসকের মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। এমনকি আন্তর্জাতিক আইনেরও লঙ্ঘন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাকে মানসিক শান্তি না দিতেই স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না। খালেদা জিয়ার জীবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক। সাধারণ বন্দীদের সাথে সাত দিন পর পর দেখা করার সুযোগ থাকলেও বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তাদের প্রতিফলিত হচ্ছে না। দেশনেত্রী বর্তমান সরকারের চরম নিপীড়নের শিকার। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, অধ্যাপক ড. শাহিদা রফিক প্রমুখ।
মানুষ চায় সরকার পতনের জন্য বিরোধী দল আন্দোলন করুক : মান্না
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের মানুষ এখন এক বাক্যে এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। রাজনৈতিক আন্দোলন শিল্পের মতো উল্ল্যেখ করে তিনি বলেন, মানুষ চায় সরকার পতনের জন্য বিরোধী দল আন্দোলন করুক। আপনাদের বোঝা দরকার, কখন কোথায় কিভাবে আন্দোলন শুরু করবেন। যারা আন্দোলন গড়ে তুলবেন, তাদের সামগ্রিক বিষয়টা বুঝতে হবে, তা না হলে হবে না।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার হরণ এবং খালেদা জিয়ার জামিন প্রতিহিংসার বিচারে অবরুদ্ধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ক্ষমতাসীনরা প্রায়ই বলেন বিএনপি কি আন্দোলন করবে, বিএনপির আন্দোলনের কি বুঝে। কিভাবে আন্দোলন করতে হয় তা আমরা জানি। আওয়ামী লীগ জানে… তাহলে ছয় দফা দেওয়ার পরে তিন বছর বসেছিলেন কেন। শেখ মুজিবকে তাহলে বার বার কারাগারে যেতে হয়েছে কেন। আন্দোলন তো আওয়ামী লীগ করে শেখ মুজিবকে কারাগার থেকে বের করেনি। অত বড় নেতা শেখ মুজিবুর রহমান মারা গিয়েছিলেন তারপর তো আওয়ামী লীগ আন্দোলন করতে পারেনি। কেন তারা বার বার বলে তাহলে আমরা আন্দোলন করতে জানি? আর কেউ জানেনা। এইবার আমি সবাইকে ঐরকম একটা আন্দোলন করে তুলবার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ওদেরকে শিখিয়ে দেন, তোমরা আন্দোলন ভাঙতে জানো, আন্দোলন করতে জানি আমরা।
সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিজিবি মহাপরিচালক বলেছেন ওরা সবাই বাংলাদেশী, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। যেহেতু এখন স্বীকার করেছেন, ওখান থেকে ওরা আসছে। আমি জানতে চাই মোট কতজন বাংলাদেশে ঢুকেছে? এরা কবে ভারতে গিয়েছিল, এখন ঢুকলো কেন, কোথায় আছেন তারা এখন? সাংবাদিকরা যেন সেই লিস্ট ধরে কথা বলতে পারেন। আমি জানতে চাই, মানুষ জানতে চায় যে, তারা সত্যি সত্যি বাংলাদেশের ছিল কিনা। বর্তমান সরকারকে অবৈধ মন্তব্য করে মান্না বলেন, ‘একটাই কথা, তোকে আর চাই না। তুই অবৈধ। ক্ষমতায় যে আছে সেটা কোন নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, তাহলে মানবো কেন তাকে আমি। মানবো না বলেই তাঁর পদত্যাগ চাই। তিনি ব্যর্থ, তিনি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না। তার উন্নয়নের সব বাতাস এখন ঝড়ের মত মনে।’
‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশি হামলা বেআইনি ঘোষণা করতে হবে’
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে দুষ্টের দমন আর শিষ্ঠের লালন করা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘সেই পুলিশ যখন শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিংয়ে কোনও উসকানি ছাড়া হামলা করে, তার মানে তারা সংবিধান লঙ্ঘন করছে। এই সমাবেশ থেকে বলতে চাই, কোনও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশের হামলাকে বেআইনি ঘোষণা করতে হবে।’ শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশি জুলুম-নির্যাতন বন্ধের দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, ‘দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না বর্তমান সরকারের অধীনে কোনও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হবে। তাই আজকে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া বাস্তবে আর কোনও পথ নাই।’ নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব। অসাংবিধানিক কাজ করে সরকারের পক্ষে ভূমিকা রাখতে গিয়ে পুরো নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। নির্বাচন কমিশনের ওপরে সাধারণ মানুষের ন্যূনতম যে বিশ্বাসটুকু ছিল, সেটা উনারা ধ্বংস করেছেন। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাড়ার কোনও ক্লাবের নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ক্ষমতাও এই কমিশনের নাই।’ ভারতের কাছে সরকার আত্মসমর্পণ করেছে মন্তব্য করে সাইফুল হক বলেন, ‘বিজিবি বলেছে, গত দুই সপ্তাহে চারশ’র বেশি মানুষ ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। এটাতো হিসাবের কথা, বেহিসাবে কতজন আসছে সেটা জানি না। এই সরকারের যেহেতু সাধারণ মানুষের সমর্থন নাই, তাই ভারত সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে নতজানু নীতি নিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে তারা বিপন্ন করছে।’ সরকারকে পরাজিত করতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই সরকারের কাছে মানুষের ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা কোনও কিছুই আজকে নিরাপদ নয়। তাই এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরাজিত করতে হবে।’










