মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেল একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকের শেষ বছরটি। নতুন দশক ও বর্ষে পদার্পণ করল বিশ্ব। শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হলো নতুন বছর। স্বাগত খ্রিস্টীয় নববর্ষ ২০২০। পুরনো বছরটি পেছনে ফেলে সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়ার দুরন্ত আহ্বানে মানুষ স্বাগত জানায় ভবিষ্যতকে। বিদায়ী বছরের ব্যর্থতাকে সরিয়ে রেখে নতুন বছরে নতুনভাবে শুরু হলো পথচলা। সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব পেছনে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিন হলো শুরু। পুরনো বছরের সংশয়, সঙ্কট, উদ্বেগ কাটিয়ে উঠে নতুন ভাবনা, নতুন আশায় নতুন করে দিন যাপনের শুরু আজ থেকে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পূর্ণ করে বাংলাদেশও পা ফেলল ৪৯ বর্ষে। নতুন বছর মানে নবযাত্রা। নতুন করে পুরনো সমস্যা মোকাবেলা করে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পালা। ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমাদের অগণিত পাঠক, লেখক, এজেন্ট, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। নতুন বছর সবার জীবনে শুভ হয়ে দেখা দেবে, এটাই কাম্য।
বাঙালী জীবনে গ্রেগরিয়ান নববর্ষ পালনের রেওয়াজ ব্রিটিশ শাসনামল থেকে অনুসৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি তা বেড়েছে পরিসরে। ইংরেজী নববর্ষ হিসেবে বাঙালীর কাছে পরিচিত দিবসটি পালনের ধরন সারা পৃথিবীতে প্রায় একই রকম। তবে, পশ্চিমা বিশ্বে এর আনন্দটা অনেক বেশি। পশ্চিমাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাঙালীও নতুন আনন্দে মেতে ওঠে তথ্যপ্রযুক্তির এই প্রাগ্রসর যুগে। বহু মানুষ এদিন শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শুভেচ্ছা কার্ড, এসএমএস, ফেসবুক, টুইটার, অ্যাপল এবং ই-মেইলে হাজার হাজার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। পুরনো বছর যেমনই কাটুক, নতুন বছর যেন ভাল কাটেÑসেই কামনা থাকে সবার মধ্যে।
নতুন বছরে, নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছে বাংলাদেশ। নতুন স্বপ্ন দেখে শান্তি, স্বস্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির। জাতি প্রত্যাশা করে, জঙ্গী, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক মুক্ত নির্ভেজাল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। বিনাশ চায় অগণতান্ত্রিক অপশক্তি, জঙ্গীবাদ, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা ও মিথ্যাচারের অপরাজনীতি। দেশবাসী প্রত্যাশা করে, সামাজিক সম্প্রীতি ও সমঝোতার রাজনৈতিক সংস্কৃতি। ধ্বংসাত্মক রাজনীতি যেমন কারো প্রত্যাশা না, তেমনি প্রত্যাশা করে না ক্ষমতার দাপটে তুচ্ছ জ্ঞান করা। জীবনের নিরাপত্তা, সহনীয় দ্রব্যমূল্য এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে আরও এগিয়ে নিতে সবাই মিলে কাজ করতে চায় সবাই। এ জন্য প্রত্যাশা করে রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সম্মান ও গণতাস্ত্রিক রীতিনীতি। সকল মানুষ চায় দেশকে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে আইনের শাসনের ভিত আরও মজবুত হোক। সব নাগরিক আইনের সুযোগ পাক। বিচার চায় নিরপেক্ষ। আমরা চাই এই আশাতেই শুরু হোক পথপরিক্রমা। শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য আর দেশের প্রতি অগাধ ভালবাসায় নতুন এক বাংলাদেশ হোক নতুন বছরের অঙ্গীকার। ২০২০ সালে উন্মোচিত হোক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। সুস্বাগত ২০২০।
অনেক প্রত্যাশায় স্বাগত ২০২০
বিদায়ী বছরে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান আলোচিত বিষয় ছিল ডেঙ্গু রোগ
বিএম আসাদ ॥ গত বছর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ডেঙ্গু ভাইরাস। এ রোগে সারা দেশে যেমন আলোড়ন ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল তেমনি এর প্রভাব পড়েছিল যশোরে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সংগঠনের উদ্যোগে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করেও ডেঙ্গু ভাইরাস নির্মূল করতে পারিনি। এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ডেঙ্গু রোগী। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ৪৮ বছরের ইতিহাসে তারা কঠিন সময় পার করেছে এডিস মশাবাহি ডেঙ্গু ভাইরাস নিয়ে। এ রোগে বিদায়ী বছরে শিশুসহ ৪ হাজার ১শ’ ৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। আক্রান্তদের ভেতর ১০ জনের মৃত্যু হলেও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ৬ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। কেশবপুর উপজেলার বরণডালি গ্রামের রুহুল কুদ্দুস (২৮) সহ জেলার অন্যান্য স্থানে মৃত্যুর তালিকা আমলে নেয়া হয়নি। শুধুমাত্র জেলার হাসপাতালগুলোতে মৃত ব্যক্তিদের নাম সরকারিভাবে দেখানো হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছেন, আক্রান্তদের ভেতর সবচেয়ে বেশি চিকিৎসা নিয়েছেন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। এ হাসপাতালে ১ হাজার ৮শ’ ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেন। রোগীর ভিড়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ ডেঙ্গু কর্নার খুলেছিলেন। ওই ওয়ার্ড ছাড়াও হাসপাতালের করিডোরে রেখে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দেয়া হয়। এ সময় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সতর্ক বার্তা দিয়ে লিফলেট ও হাসপাতালে রোগীদের নিরাপদ রাখতে মশারি বিতরণ করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগ, যশোর পৌরসভা এবং দু’একজন সংসদ সদস্য ডেঙ্গু রোগীদের সুচিকিৎসায় এগিয়ে আসেন। বিত্তবান লোকজনও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ছাড়াও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে একজন রোগী চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো চিকিৎধীন রয়েছেন। এ হাসপাতাল থেকে ৩শ’ ১৫ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাঘারপাড়া উপজেলায় চিকিৎসা নিয়েছেন ৩শ’ ৮৫ জন। অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন ৩শ’ ৪২ জন, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন ৫শ’ ৩০ জন। উপজেলা স্বাস্থ্য পর্যায়ে আক্রান্তের হার বেশি ছিল কেশবপুরে। অনুরূপভাবে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২শ’ ১০ জন, মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১শ’ ৩৯ জন, শার্শা উপজেলা কমপ্লেক্সে ৩৯ জন ও পুলিশ হাসপাতালে ১ জন পুলিশ সদস্য চিকিৎসা নেন। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে ৩শ’ ১৭ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের রোগ নির্ণয়ে প্রথম ভূমিকা পালন করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ‘ল্যাবস্ক্যান মেডিকেল সার্ভিসেস লিঃ, ল্যাব এই ডায়াগনস্টিক কনসালটেশন সেন্টার, ইবনেসিনা হাসপাতাল, কুইন্স হাসপাতাল, দড়াটানা হসপিটাল ও মডার্ন হসপিটাল। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছেন, গত বছরের ২১ জুলাই এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যশোরে হৈ-চৈ পড়ে। এরপর যশোর সিভিল সার্জন অফিস নড়েচড়ে বসে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও দৃষ্টি আসে যশোরের প্রতি। পরবর্তীতে ডেঙ্গু জ্বর ব্যাপক রূপ নেয়। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কারণে সাধারণের মধ্যে এ রোগ নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়।
বাঘারপাড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহেরকে ঢাকায় স্থানান্তর
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের বাঘারপাড়া বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের সিদ্দিকীকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় অ্যাপোলো হসপিটালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এআর অ্যাম্বুলেন্সযোগে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ থেকে ঢাকায় নেয়া হয়। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত থেকে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে দেন। অ্যাপোলে হাসপাতালের ১৫ নং মেডিসিন আইসিইউতে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বড় ভাই যশোর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক উপ-পরিচালক মো. সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে তার অবস্থা অনেকটা ভাল। তিনি আবু তাহের সিদ্দিকীর সুস্থতার জন্যে বাঘারপাড়াসহ যশোরবাসীর প্রতি দোয়া কামনা করেছেন। গত সপ্তাহে বাঘারপাড়ার মহিরণে নিজ বাসভবনে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে যশোর করোনারী কেয়ার ইউনিট ও পরে ইবনেসিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
যশোরে প্রাক্তন ছাত্রলীগের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর জেলা প্রাক্তন ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দুঃস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়েছে। সোমবার রাত ৯টায় জেলা পরিষদ চত্বর এই শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়। দুঃস্থদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুন্সী মহিউদ্দিন, ফারুক আহমেদ কচি, আব্দুস সবুর হেলাল প্রমুখ।
যশোর জেলায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে পাসের হার ৯৬.২৭, ইবতেদায়িতে ৯৬.৭৭
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাশের হার ৯৬ দশমিক ২৭। মোট ৩৯ হাজার ১৯৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩৭ হাজার ৬৯০ জন। অপরদিকে, ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার ৯৬ দশমিক ৭৭। ৬ হাজার ৮০৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬ হাজার ৫৭৮ জন। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৯ হাজার ১৮৬ জন। এর মধ্যে বালক ৪ হাজার ৯৯৬ এবং বালিকা ৫ হাজার ৬৭৭ জন। উভয় মিলে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৭ হাজার ৬৯০ জন। বালকের পাসের হার ৯৬ দশমিক ৬৫ এবং বালিকা পাসের হার ৯৫ দশমিক ৮৯। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৬২২, জিপিএ-৪ পেয়েছে ১২ হাজার ৫৭৭, জিপিএ ৩ দশমিক ৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৬৮০, জিপিএ-৩ পেয়েছে ৫ হাজার ৯৪২, জিপিএ-২ পেয়েছে ৫ হাজার ৮২৩ এবং জিপিএ ১ পেয়েছে ১ হাজার ৪৬ জন পরীক্ষার্থী। অপরদিকে, ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬ হাজার ৮০৯ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ হাজার ৫৭৮ জন। বালকের পাসের হার ৯৬ দশমিক ২৫ এবং ৯৫ দশমিক ৮৯। এর মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৬৫। জিপিএ-৪ পেয়েছে ১ হাজার ৪৫৭, জিপিএ ৩ দশমিক ৫ পেয়েছে ১ হাজার ২৮৪, জিপিএ-৩ পেয়েছে ১ হাজার ৩২৩, জিপিএ-২ পেয়েছে ১ হাজার ৮০৩ এবং জিপিএ-১ পেয়েছে ৫৫৬ জন।
চিকিৎসকের অভিমত : শিক্ষকের নির্যাতনে সেই ছাত্রীর মস্তিষ্কবিকৃতি ঘটেছে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুরে শিক্ষকদের নির্যাতনের শিকার হয়ে কওমি মাদ্রাসাছাত্রী ফাতেমা খাতুনের (১১) মস্তিষ্কবিকৃত ঘটেছে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ফাতেমা খাতুনকে চিকিৎসা দেয়ার পর যশোর মেডিকেল কলেজের সায়ক্রিয়াটিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আমিনুর রহমান এ তথ্য জানান। ডা. মো. আমিনুর রহমান দৈনিক লোকসমাজকে বলেন, তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে। তার মানসিক সমস্যার দুটো দিক থাকতে পারে। প্রথমত মারার কারণে হতে পারে আবার ভয়ের কারণে হতে পারে। মাথায় আঘাত বা ভয় পেলে শিশুদের এ ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। তবে শিশুর মস্তিষ্কের এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। ওষুধের মাধ্যমে অবস্থা কিছুটা কম মনে হচ্ছে। চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। দেখা যাক, কোন পর্যায়ে দাঁড়ায়। ফাতেমা খাতুন চৌগাছা উপজেলার পলুয়া গ্রামের শাহিনুর রহমানের কন্যা এবং ঝিকরগাছার ছুটিপুরে ফাতিমা হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী।
তার পিতা শাহিনুর রহমান ও মাতা ঝর্না বেগমের অভিযোগ, ৩ মাস আগে ওই মাদ্রাসার মহিলা শিক্ষক হাফেজা খাতুন ও ফুলজান ফাতেমা খাতুনকে বেদম প্রহার করে এবং দেয়ালের সাথে মাথায় আঘাত করে। নির্যাতনে তার সমস্ত শরীরে দাগ পড়ে যায়। একই সাথে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এক ঘন্টা ধরে মাথায় পানি ঢালার পর জ্ঞান ফিরে আসে ফাতেমার। সে সময় দায় এড়াতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দেয়। এরপর সরল পিতা-মাতা সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে নির্যাতন সহ্য করেন এবং মাদ্রাসা প্রধানের কাছে ধর্না দিয়ে পুনরায় ফাতেমাকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। এর এক মাস পর মাথায় সমস্যা দেখা দেয় ফাতেমার। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানোর পর আরোগ্য না হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ যশোরে ছাত্রদলের দিনব্যাপী কর্মসূচি
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে যশোর জেলা ছাত্রদল। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- লালদিঘির পাড়স্থ দলীয় কার্যালয়ে সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে গরিব দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে কারবালা কবরস্থানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামসহ প্রয়াত নেতৃবৃন্দ ও শহীদ ছাত্রনেতাদের কবর জিয়ারত এবং দুপুর ২টায় দলীয় কার্যালয় চত্বরে বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ছাত্র-গণজমায়েত। কর্মসূচিতে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন যশোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাজিদুর রহমান সাগর, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান বাপ্পি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজ ইমরান।
স্ত্রীর চাকরির আবেদনে স্বামীর ঠিকানা ব্যবহারের শর্ত নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিবাহিত নারী প্রার্থীর স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে স্বামীর ঠিকানা ব্যবহারের শর্ত জুড়ে দেওয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই পদে নিয়োগের এই শর্ত বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর মঙ্গলবার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। জনপ্রশাসন সচিব, অর্থ সচিব, বাণিজ্যসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনর ও সংস্থাটির মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আইনুন্নাহার সিদ্দিকা। রাষ্ট্রপে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গত ১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘সহকারী পরিচালক (জেনারেল)’ পদে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে ১৪ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে, ‘বিবাহিত মহিলা প্রার্থীদের েেত্র স্বামীর স্থায়ী ঠিকানাকে প্রার্থীর স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।’ এ নিয়ে নারী অধিকারকর্মীরা সমালোচনায় মুখর হন। গণমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আসে। নারী অধিকারকর্মীরা এমন নিয়মকে সংবিধানের সমতার লঙ্ঘন উল্লেখ করে বলেন, এই নিয়মটি যেমন অপ্রাসঙ্গিক, তেমনি বাস্তবসম্মত নয়। কারণ যারা চাকরিদাতা তারা প্রার্থী যোগ্য কি না সেটি দেখবে। কোন প্রার্থী কোন ঠিকানা দেবে, সেটি একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার। প্রয়োজনে কোনো নারী তার শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করবে না হলে বাবার বাড়ির ঠিকানা লিখবে। এর প্রতিকার পেতে সম্প্রতি জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও নারীপ। রিট আবেদনের পে শুনানিকারী অ্যাডভোকেট আইনুন্নাহার সিদ্দিকা বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে তা সংবিধানের সমতার েেত্র লঙ্ঘন। কেননা সংবিধানে বলা আছে, কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না এবং কোনো নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের েেত্র অযোগ্য হবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে সিডও সনদসহ যত ধরনের কনভেনশন রয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির এই শর্ত তা লঙ্ঘন করেছে। নারীর প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি করে না, সে ধরনের বিজ্ঞপ্তি জারি করার নির্দেশনা চেয়ে এই রিট আবেদনটি করা হয়। আদালত রুল দিয়েছে।’
বর্ষবরণের প্রথম উৎসব নিউজিল্যান্ডে
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করে নিল নিউজিল্যান্ড। বিশ্বের বড় নগরীগুলোর মধ্যে অকল্যান্ড সর্বপ্রথম আলো জমকালো আতশবাজিতে মুখরিত হয়ে উঠে। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানায়, ইংরেজি নতুন বছর ও নতুন দশককে বরণ করে নিতে অকল্যান্ডে ভিড় করেন লাখও মানুষ। শহরটির স্কাই টাওয়ারে আতশবাজি, লেজার লাইট ও এনিমেশনযুক্ত আলো জমকালো উৎসবে আয়োজন করা হয়। ৩২৮ মিটার সুউচ্চ টাওয়ারটি ঘিরে আশপাশে প্রচুর মানুষ এই উৎসবে অংশ নেয় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। নববর্ষ উপলে শহরটিতে দেশি-বিদেশি প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটেছে শহরটিতে।
সিরিয়ার যে শহরে মানুষের চেয়েও বিড়ালের সংখ্যা বেশি
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার কাফর নাবল শহরে এখন মানুষের চেয়ে বিড়ালের সংখ্যাই বেশি। মাসের পর মাস সিরীয় ও রুশ সেনাদের বোমাবর্ষণের পর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত কাফর নাবল এখন ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়ে গিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সাংবাদিক মাইকেল টমসন গিয়েছিলেন ভুতুড়ে নগরীটিতে। তিনি বলেন, ‘কঠিন এই দুঃসময়ে কাফর নাবলের অবশিষ্ট মানুষ এবং বিড়ালেরা পরস্পরকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।’ তিনি যেদিন সেখানে ছিলেন, সেদিন আরেক দফা বোমা হামলা শুরু হয় শহরটিতে। শহরের বাসিন্দা ৩২ বছরের সালাহ জার বাঁচার জন্য তার বাড়ির ইট-পাথরের টুকরো ভর্তি বেসমেন্টের কোনায় একটি টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন । তার সঙ্গে একই টেবিলের তলে তাকে ঘিরে ছিল ৬-৭টি বিড়াল। সালাহর মতো তারাও ছিল আতঙ্কিত ও ভীত সন্ত্রস্ত। সালাহ বললেন, ‘বিড়ালগুলো সঙ্গে থাকলে কিছুটা ভরসা পাই। বোমা যখন শুরু হয় ভয় যেন একটু কম লাগে।’ বিবিসি বাংলা জানায়, কাফর নাবলে একসময় ৪০ হাজার লোকের বসবাস ছিল। এখন সেই সংখ্যা কমতে কমতে বড় জোর ১০০। সেখানে এখন বিড়ালের সংখ্যা মানুষের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। শহরটিতে বিড়ালের সংখ্যা কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার বলে ধারণা করা হয়। সালাহ জানান, মানুষ আছে এমন প্রতিটি বাড়িতে এখন কমপে ১৫টি করে বিড়াল রয়েছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা আর বর্বরতার মধ্যে সিরিয়ার এই শহরে মানুষ এবং এই পশুগুলোর মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তা সহজে ভাঙার নয়।








