চিকিৎসকের অভিমত : শিক্ষকের নির্যাতনে সেই ছাত্রীর মস্তিষ্কবিকৃতি ঘটেছে

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ছুটিপুরে শিক্ষকদের নির্যাতনের শিকার হয়ে কওমি মাদ্রাসাছাত্রী ফাতেমা খাতুনের (১১) মস্তিষ্কবিকৃত ঘটেছে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ফাতেমা খাতুনকে চিকিৎসা দেয়ার পর যশোর মেডিকেল কলেজের সায়ক্রিয়াটিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আমিনুর রহমান এ তথ্য জানান। ডা. মো. আমিনুর রহমান দৈনিক লোকসমাজকে বলেন, তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে। তার মানসিক সমস্যার দুটো দিক থাকতে পারে। প্রথমত মারার কারণে হতে পারে আবার ভয়ের কারণে হতে পারে। মাথায় আঘাত বা ভয় পেলে শিশুদের এ ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। তবে শিশুর মস্তিষ্কের এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। ওষুধের মাধ্যমে অবস্থা কিছুটা কম মনে হচ্ছে। চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। দেখা যাক, কোন পর্যায়ে দাঁড়ায়। ফাতেমা খাতুন চৌগাছা উপজেলার পলুয়া গ্রামের শাহিনুর রহমানের কন্যা এবং ঝিকরগাছার ছুটিপুরে ফাতিমা হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী।
তার পিতা শাহিনুর রহমান ও মাতা ঝর্না বেগমের অভিযোগ, ৩ মাস আগে ওই মাদ্রাসার মহিলা শিক্ষক হাফেজা খাতুন ও ফুলজান ফাতেমা খাতুনকে বেদম প্রহার করে এবং দেয়ালের সাথে মাথায় আঘাত করে। নির্যাতনে তার সমস্ত শরীরে দাগ পড়ে যায়। একই সাথে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এক ঘন্টা ধরে মাথায় পানি ঢালার পর জ্ঞান ফিরে আসে ফাতেমার। সে সময় দায় এড়াতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দেয়। এরপর সরল পিতা-মাতা সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে নির্যাতন সহ্য করেন এবং মাদ্রাসা প্রধানের কাছে ধর্না দিয়ে পুনরায় ফাতেমাকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। এর এক মাস পর মাথায় সমস্যা দেখা দেয় ফাতেমার। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানোর পর আরোগ্য না হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।