বিদায়ী বছরে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান আলোচিত বিষয় ছিল ডেঙ্গু রোগ

বিএম আসাদ ॥ গত বছর সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ডেঙ্গু ভাইরাস। এ রোগে সারা দেশে যেমন আলোড়ন ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল তেমনি এর প্রভাব পড়েছিল যশোরে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সংগঠনের উদ্যোগে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করেও ডেঙ্গু ভাইরাস নির্মূল করতে পারিনি। এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ডেঙ্গু রোগী। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ৪৮ বছরের ইতিহাসে তারা কঠিন সময় পার করেছে এডিস মশাবাহি ডেঙ্গু ভাইরাস নিয়ে। এ রোগে বিদায়ী বছরে শিশুসহ ৪ হাজার ১শ’ ৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। আক্রান্তদের ভেতর ১০ জনের মৃত্যু হলেও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ৬ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। কেশবপুর উপজেলার বরণডালি গ্রামের রুহুল কুদ্দুস (২৮) সহ জেলার অন্যান্য স্থানে মৃত্যুর তালিকা আমলে নেয়া হয়নি। শুধুমাত্র জেলার হাসপাতালগুলোতে মৃত ব্যক্তিদের নাম সরকারিভাবে দেখানো হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছেন, আক্রান্তদের ভেতর সবচেয়ে বেশি চিকিৎসা নিয়েছেন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। এ হাসপাতালে ১ হাজার ৮শ’ ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেন। রোগীর ভিড়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ ডেঙ্গু কর্নার খুলেছিলেন। ওই ওয়ার্ড ছাড়াও হাসপাতালের করিডোরে রেখে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দেয়া হয়। এ সময় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সতর্ক বার্তা দিয়ে লিফলেট ও হাসপাতালে রোগীদের নিরাপদ রাখতে মশারি বিতরণ করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগ, যশোর পৌরসভা এবং দু’একজন সংসদ সদস্য ডেঙ্গু রোগীদের সুচিকিৎসায় এগিয়ে আসেন। বিত্তবান লোকজনও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ছাড়াও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে একজন রোগী চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো চিকিৎধীন রয়েছেন। এ হাসপাতাল থেকে ৩শ’ ১৫ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাঘারপাড়া উপজেলায় চিকিৎসা নিয়েছেন ৩শ’ ৮৫ জন। অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন ৩শ’ ৪২ জন, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন ৫শ’ ৩০ জন। উপজেলা স্বাস্থ্য পর্যায়ে আক্রান্তের হার বেশি ছিল কেশবপুরে। অনুরূপভাবে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২শ’ ১০ জন, মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১শ’ ৩৯ জন, শার্শা উপজেলা কমপ্লেক্সে ৩৯ জন ও পুলিশ হাসপাতালে ১ জন পুলিশ সদস্য চিকিৎসা নেন। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে ৩শ’ ১৭ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের রোগ নির্ণয়ে প্রথম ভূমিকা পালন করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ‘ল্যাবস্ক্যান মেডিকেল সার্ভিসেস লিঃ, ল্যাব এই ডায়াগনস্টিক কনসালটেশন সেন্টার, ইবনেসিনা হাসপাতাল, কুইন্স হাসপাতাল, দড়াটানা হসপিটাল ও মডার্ন হসপিটাল। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছেন, গত বছরের ২১ জুলাই এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যশোরে হৈ-চৈ পড়ে। এরপর যশোর সিভিল সার্জন অফিস নড়েচড়ে বসে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও দৃষ্টি আসে যশোরের প্রতি। পরবর্তীতে ডেঙ্গু জ্বর ব্যাপক রূপ নেয়। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কারণে সাধারণের মধ্যে এ রোগ নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়।

ভাগ