যশোরের চৌগাছায় আঙুর চাষে চমক: প্রথম বছরেই অর্ধকোটি টাকার বিক্রির হাতছানি

0
যশোরের চৌগাছায় আঙুর চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন চাষি রুহুল আমিন। এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত 'বাইকুনার' জাতের আঙুর থেকে প্রথম বছরেই প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন এই সফল উদ্যোক্তা।। ছবি: লোকসমাজ গ্রাফিক্স

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় আঙুর চাষ করে ব্যাপক সাফল্যের মুখ দেখছেন স্থানীয় ফল চাষি রুহুল আমিন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও স্বপ্ন পূরণের পথে তিনি এখন বিক্রির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন। রুহুল আমিনের আশা, কোনো বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে প্রথম বছরেই তিনি অন্তত অর্ধকোটি টাকার আঙুর বিক্রি করতে পারবেন।

চৌগাছা পৌরসভার বেলেমাঠ গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিনের মূল পেশা কৃষিকাজ। গত ৫-৬ বছর ধরে তিনি আধুনিক ফল চাষে মনোনিবেশ করেন। এর আগে কুল, পেয়ারা ও ড্রাগন চাষে লাভবান হওয়ার পর তিনি পরীক্ষা-মূলকভাবে এক বিঘা জমিতে ‘বাইকুনার’ জাতের আঙুর চাষ শুরু করেন। রোপণের দুই বছর পর গত বছর গাছে ফল এলেও শিলাবৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। তবে হাল ছাড়েননি রুহুল আমিন। চলতি মৌসুমে তার বাগানে বাম্পার ফলন হয়েছে এবং দু-এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি আঙুর বিক্রি শুরু করবেন।

গতকাল রুহুল আমিনের আঙুর বাগান পরিদর্শনে যান উপজেলা কৃষি অফিসার মুসাব্বির হুসাইন। বাগান ঘুরে দেখা যায়, থোকায় থোকায় ঝুলে আছে পরিপক্ক আঙুর। রুহুল আমিন জানান, ইউটিউব দেখে তিনি আঙুর চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। বর্তমানে তার এক বিঘা জমিতে আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ মণ আঙুর উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি আঙুরের পাইকারি দর প্রায় ২৫০ টাকা। ইতোমধ্যে ব্যাপারীরা বাগান পরিদর্শন শুরু করেছেন, দরদাম সন্তোষজনক হলেই তিনি বিক্রি শুরু করবেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মুসাব্বির হুসাইন বলেন, “রুহুল আমিন আঙুর চাষ করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। চৌগাছার মাটিতে যে সব ধরণের বিদেশি ফল হওয়া সম্ভব, তার বড় উদাহরণ এই আঙুর বাগান। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি যাতে এই অঞ্চলের কৃষকরা আধুনিক ও লাভজনক ফসল চাষে আরও আগ্রহী হন।”