সুন্দর সাহা ॥ শীতের হিমেল পরশ বুলিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি। পূর্বাকাশে রক্তিম আভা ছড়িয়ে উঁকি দিয়েছে নতুন বছরের প্রথম সূর্য। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে আলো আর আলো। আজকের সকালের সূর্য নিয়ে এসেছে নতুন বারতা। ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিন আজ। সুস্বাগতম ২০২০। নানা প্রাপ্তি আর ব্যর্থতার সাী হয়ে মহাকালের অতল গহ্বরে বিদায় নিয়েছে ২০১৯ সাল।
আজ নববর্ষ। নতুন বছর মানেই নতুন উদ্দীপনা, নতুন প্রেরণা নিয়ে এগিয়ে চলা। শুরু হলো খ্রিস্টিয় ২০২০ সালের পরিক্রমা। বিগত বছরের নানা ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন স্বপ্নে জীবন সাজানোর প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছে গোটা জাতি। উন্নয়নের সিড়িতে দেশকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে উন্মুখ দেশ গড়ার কারিগররা। তবে নতুন বছরে অর্থনীতি নিয়ে অনেক প্রত্যাশা থাকলেও রাজনীতিতে আছে নানা শঙ্কা। এমনিতেই রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতায় থমকে গেছে দেশের অগ্রযাত্রা। তাই নতুন বছরের সবারই আকাঙ্া-কাটুক রাজনীতির গুমোট, সচল হোক অর্থনীতির চাকা। বাড়ুক গণতন্ত্রের চর্চা, কেটে যাক সম্প্রদায়িক নির্যাতনের ষড়যন্ত্র ও জঙ্গি তৎপরতা। সুস্থ রাজনৈতিক পরিমন্ডলে সমৃদ্ধ হোক বাংলাদেশ। তারপরও কী হতে যাচ্ছে রাজনীতির মাঠে- তা নিয়ে সাধারণ মানুষও সংশয়ে রয়েছেন।
প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার প্রয়োজনে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করায় বছর শেষে যেমন বিগত দিনগুলোর হিসাব-নিকাশ, ঘটনাপঞ্জির স্মরণে সালতামামির বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায়, তেমনই নতুন বছরের কর্মপরিকল্পনাও করতে হয়। যোগাযোগ মাধ্যমের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ফলে সারা বিশ্ব এখন এক বিশাল অভিন্ন গ্রামে রূপান্তরিত। নানা দেশ ও জাতির সংস্কৃতির একটি মিথস্ক্রিয়ার প্রক্রিয়া ক্রমান্বয়েই প্রবল হয়ে উঠছে। ভালো কি মন্দ-সে প্রশ্ন ভিন্ন। তবে আমরাও এর প্রভাবমুক্ত নই। নতুন বছরে প্রিয়জনদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সুদৃশ্য কার্ড পাঠানোর রীতি বহু দিনের। সম্প্রতি মুঠোফোনের প্রচলন সুবিস্তৃত হওয়ায় নববর্ষের খুদে বার্তা পাঠানো হয় শুভেচ্ছা জানাতে। নতুন বছরে দেশবাসীর বুকজুড়ে প্রত্যাশা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, প্রত্যাশা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও মূল্যস্ফীতি হ্রাসসহ অর্থনৈতিক দূরাবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অফুরন্ত শক্তি। নতুন বছরের সূর্যের আলো এসব প্রত্যাশা পূরণের নিয়ামক হয়ে উঠুক, জ্বলে উঠুক শুভবোধের আলো, মঙ্গল ও কল্যাণের আলো। আগামী দিনের প্রত্যাশা, নতুন বছরে যেন কাউকে লিখতে না হয় নেতিবাচক কোনো ঘটনা। সরকারের দলীয়করণ আর ব্যর্থতার দিকে কেউ যেন আঙুল তুলতে না পারে। কারো যেন মৃত্যু না হয় কোনো গুপ্তঘাতকের হাতে।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আশা করে এসব হীন কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের শাস্তি দেয়া হোক। তাহলেই একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরও এগিয়ে যার আমরা। নতুন বছরের শুরুতেই গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা শোনা যাচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় সেভাবে বাড়েনি। এ অবস্থায় যদি আবার গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ে তাহলে সাধারণ জনগণের নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা হবে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য করতে গিয়ে আরও হিমশিম খেতে হবে তাদের। এর বাইরে নানা েেত্র দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, অগণতান্ত্রিক আচরণের করাল গ্রাস আগ্রাসী হয়ে বসে আছে। রাতারাতি অবস্থা পাল্টে ফেলা না গেলেও দেশের উন্নতির স্বার্থে এসব প্রতিরোধ জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুন বছর ২০২০ বাংলাদেশের মানুষের জন্য নতুন স্বপ্ন বয়ে নিয়ে এসেছে। সবাই আশা করছেন, প্রার্থনা করছেন, যেন বছরটি সবার ভালো যায়। পেছনে ফেলে আসা দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুন করে এগিয়ে যেতে চান সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। চান সাফল্য, স্বস্তি। প্রতিবছর পহেলা জানুয়ারি আসে যেমন আসে পহেলা বৈশাখ। এ দুটি বিশেষ দিনকেই আমরা বরণ করে নিই। একটির মধ্যে নিহিত রয়েছে আন্তর্জাতিকতা, অন্যটি আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে ধারণ করে বাঙালি হৃদয়ে আবর্তিত হয়। নতুন বছরে নতুন দিন আসে, আমরা জাগ্রত হই। নতুন জীবনের জয়গান গেয়ে অন্তত ওই দিন উজ্জীবিত হই। উল্লাসেও ফেটে পড়ি। আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি আমরা অঙ্গীকার করি, নতুন বছরে নতুনভাবে চলতে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীকারের মধ্যে প্রধান হয়ে ওঠে। ব্যক্তিচরিত্র বদলেরও অঙ্গীকার করি আমরা। এসবই বিগত বছরের ভুলত্র“টি শুধরে নিয়ে নতুনভাবে, স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে পথচলার অঙ্গীকার। প্রাসঙ্গিক কারণেই প্রশ্ন ওঠে, আমরা কি আমাদের ব্যক্তিচরিত্র ঠিক করতে পারছি? আর ব্যক্তিচরিত্র ঠিক না হলে জাতীয় চরিত্র কীভাবে ঠিক হবে। নতুন বছরে দেশের প্রতিটি মানুষের জীবন সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক, দেশ ও জাতির সুনাম আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আরও বিস্তার লাভ করুক এ প্রত্যাশা আমাদের। আমরা চাই বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা, আবেগ ও অনুভূতিকে যথাযথ মূল্যায়ন করে দেশটির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ও রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে। আমরা গণতন্ত্র বিকাশ ও প্রতিষ্ঠার কথা মুখে বলে বলে ফেনা তুলি, কিন্তু গণতন্ত্রচর্চা করি না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি গণতন্ত্রচর্চায় বলিষ্ঠ ভূমিকা না থাকে, তবে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে কী করে। প্রত্যাশা করি, নতুন বছর হোক গণতন্ত্রচর্চার। দেশ ও জাতির মঙ্গলে তাদের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত দেশপ্রেম জাগ্রত হোক, খুলে যাক সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। এটাই হোক নতুন বছরের প্রত্যাশা। দেশের মানুষ যেন গেয়ে যেতে পারে গণতন্ত্রের জয়গান। শুভ নববর্ষ, হ্যাপি নিউ ইয়ার।
স্বাগত ২০২০
বিদায়ী বছরে যশোরে চাঞ্চল্যকর ১০ হত্যা
মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ বিদায়ী ২০১৯ সালে যশোর সদরে ঘটেছে কয়েকটি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। যার অধিকাংশের রহস্যও উদঘাটন করেছে আইন-শৃঙ্খলা রা বাহিনী। তবে কোন কোন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতরা আটক হলেও আবার অনেক খুনের পরিকল্পনাকারী ও মূল কিলাররা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই পরিকল্পনাকারী ও মূল কিলাররা আটক না হওয়ায় নিহতের স্বজনদের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরে সদর উপজেলায় ২৮ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। বছরের প্রথমদিনেই নৃশংসভাবে খুন হন ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম শাফা। আর বছরের শেষের দিকে খুন হন আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। চাঞ্চল্যকর ১০টি হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা উল্লেখ করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ী শাফি হত্যাকাণ্ড ঃ ২০১৯ সালের প্রথমদিনেই যশোরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মোটর পার্টস ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম শাফা। ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের ঈদগাহের পূর্ব পাশে মুজিব সড়কে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই খুনের পরিকল্পনাকারী ছিলেন আরেক ব্যবসায়ী আনোয়ার রেজা চৌধুরী ওয়াশিংটন। পাওয়া টাকা দাবি করায় ভাড়াটে কিলার দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। অবশ্য ডিবি পুলিশ পরবর্তীতে কিলার গং এবং পরিকল্পনাকারীকে আটক করতে সম হয়।
শিশু তৃষা ধর্ষণ ও হত্যা ঃ যশোর শহরতলীর খোলাডাঙ্গা গাজীপাড়ায় দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী কথা আফরিন তৃষা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড বিবেকমান মানুষের মনে প্রচন্ড নাড়া দিয়েছে। তারা হতবাক হয়েছেন মানুষরূপী হায়েনাদের এই নৃশংস কর্মকাণ্ডে। তৃষা যশোর সরকারি কারবালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলো। তার পিতা তরিকুল ইসলাম একজন ইজিবাইক চালক। খোলাডাঙ্গা গাজীপাড়ার (স্যালভেশন আর্মি পাড়া) একটি বাড়িতে তারা ভাড়া থাকতো। গত ৩ মার্চ বিকেলে আরবি পড়া শেষে খেলা করতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। পরদিন সন্ধ্যায় বাসার কাছে পাওয়া যায় তার মাটিচাপা লাশ। এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী শক্তি গাজীসহ কয়েকজন তাকে ধর্ষণ শেষে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষ হতভম্ব হয়ে পড়েন। ধর্ষক ও খুনিদের আটকের দাবিতে বিােভে ফেটে পড়েন সর্বস্তরের মানুষ। তার স্কুলের শিার্থীরা ছাড়াও এলাকার শ শ মানুষ মানববন্ধন পালন করেন। পরে এ ঘটনার সাথে জড়িত শামীম নামে এক যুবক কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। আরো এক যুবক আটকের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। কিন্তু এক পর্যায়ে কুখ্যাত শক্তি গাজীর হুমকির কারণে খোলাডাঙ্গা ছাড়তে বাধ্য হন তৃষার মা ও পিতা। যশোর ছেড়ে তারা চলে যান নড়াইলে।
ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি সাজু হত্যাকাণ্ড ঃ চাঁদার দাবিতে যশোর জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল আহম্মেদ জিসানের হাতে একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি খুনের ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত হয়। শহরের পুরাতন কসবা মিশন পাড়ার জয়নাল চৌধুরী স্বপনের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন ছাত্রলীগের ওই নেতা। কিন্তু তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় গত ১৩ মার্চ রাতে শহরের বিমান অফিসের সামনে তার ছোট ছেলে ওয়ল্ডিং মিস্ত্রি নয়ন চৌধুরী সাজুকে কাঠের রুল দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন জিসান। তার সঙ্গীরাও তাকে বেদম প্রহার করেন। সাজুর বুকের ওপর উঠে চটকানো হয়। পরদিন ১৪ মার্চ বিকেলে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাজু। এ ঘটনায় ছাত্রলীগহ নেতা জিসানসহ ৪ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রা বাহিনী আজো ছাত্রলীগ নেতা জিসানসহ মামলার অন্য আসামিদের আটক করতে পারেনি।
ইমরোজ হত্যাকাণ্ড ঃ যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামে মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইমরোজ হোসেন নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গত ২৪ জুলাই দুপুরে তাকে হত্যা করা হয়। ইমরোজ খুনের ঘটনায় ওই এলাকা উত্তাল হয়ে পড়ে। ঘটনার সাথে জড়িত জাতীয় শ্রমিক লীগের নেতা সেলিম রেজা পান্নুসহ কয়েকজনের বাড়িঘর ভাঙচুর হয়। সন্ত্রাসীদের আটকের দাবিতে চাঁচড়া ও যশোর শহরে পৃথক মানববন্ধনও পালন হয়। তবে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইমরোজ খুনের সাথে জড়িত কয়েকজনকে আটক করতে সম হয়। এছাড়া প্রধান আসামি সেলিম রেজা পান্নুসহ কয়েকজন পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে।
শীর্ষ সন্ত্রাসী শিশির বন্দুকযুদ্ধে খুন ঃ যশোরে আওয়ামী লীগের এমপি গ্র“প আশ্রিত শীর্ষ সন্ত্রাসী শিশির ঘোষ কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনা বিদায়ী বছরে আলোচিত ছিলো। বেশ কয়েক বছর আগে মুসলিম একজন স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, ধর্ষণ ও শাঁখা সিঁদুর দেওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ সংক্রান্ত মামলায় আদালতে তার ৪৬ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিলো। কিন্তু কয়েক বছর পর সে আইনের ফাঁক-ফোকর গলিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর তার খুন, চাঁদাবাজি ও নারীদের সম্ভ্রমহানির ঘটনায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। অবশেষে গত ৬ আগস্ট রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর শীর্ষ সন্ত্রাসী শিশির ঘোষের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
পরকীয়ার পরিশোধ নিতে ১৫ বছর পর হত্যা ॥ স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার পরিশোধ নিতে সদরের শালতা গ্রামে মিনারুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি খুনের ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়। গত ১৪ আগস্ট রাতে খুন হয়েছিলেন তিনি। ১৫ বছর আগে একই গ্রামের চাঁদ আলী মোল্লার ছেলে হাফিজুর রহমানের স্ত্রী সাবিনার সাথে মিনারুলের পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো। এ ঘটনায় হাফিজুর রহমান স্ত্রীকে তালাক দিলেও তাকে ভুলতে পারেননি। কারণ তিনি সাবিনাকে খুব ভালবাসতেন। ১৫ বছর ধরে তিনি প্রতিশোধের স্পৃহা লালন করে আসছিলেন। মিনারুলকে খুন করার মাধ্যমে স্ত্রীর সাথে পরীকায়ার প্রতিশোধ নেন তিনি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের হাতে আটকের পর প্রতিশোধ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন হাফিজুর রহমান।
গাড়িচালক জগলু হত্যাকাণ্ড ঃ ঝিনাইদহের এলজিইডি অফিসের গাড়িচালক হাসানুজ্জামান জগলু যশোরে খুন হওয়ার ঘটনা ছিলো আরেকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। স্ত্রীর পরকীয়ার বলি হন তিনি। গত ২৭ আগস্ট রাতে কৌশলে তার স্ত্রী ঝিনাইদহ থেকে যশোরে এনে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাকে হত্যা করেন। পরদিন যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের বারীনগর-চুড়ামনকাটির মাঝামাঝি সাকোর মাথা নামক স্থান থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কলেজছাত্র পল্লব হত্যাকাণ্ড ঃ যশোর সদর উপজেলার জঙ্গলবাধাল গ্রামে কলেজছাত্র পল্লব খুন এবং তার লাশ ঘরের মধ্যে এক মাস ধরে মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধ নিতে ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধু ঈশান ও অপূর্ব গত ১৪ অক্টোবর শ্বাসরোধে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এরপর অপূর্ব তার নানা আজিজার মাস্টারের একটি ঘরের ভেতর খুঁড়ে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রেখেছিলো। শুধু তাই নয়, মাটিচাপা দেয়া ঘরে কয়েকদিন রাতও কাটায় অপূর্ব। তবে শেষমেষ দুই বন্ধু ধরা পড়ে যায়। এরপর ৯ নভেম্বর মাটি খুঁড়ে পল্লবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
আইনজীবী আমিরের স্ত্রী হত্যাকাণ্ড ঃ যশোরে যৌনকর্মীর সাথে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া আইনজীবী আমির হোসেনের স্ত্রী সালেহা খাতুন সোনিয়া খুনের বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত ছিলো। গত ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় ডহেরপাড়ায় নিজ বাড়িতে আমির হোসেন তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আমির হোসেনকে আটকও করে। বর্তমানে আলোচিত ওই আইনজীবী কারাগারে আটক রয়েছেন। এছাড়া স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে যশোর আইনজীবী সমিতি তাকে শো-কজও করে।
সাবেক চরমপন্থি হোসেন খুন ঃ যশোর সদর উপজেলার উত্তরাঞ্চলে হোসেন আলী তরফদার নামে একজন সাবেক চরমপন্থিকে অসংখ্য মানুষের সামনে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলো বিদায়ী বছরে। গত ৩০ নভেম্বর সকালে তাকে সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের হাশিমপুর বাজারে হত্যা করে প্রতিপ চরমপন্থিরা। হোসেন আলী তরফদার একসময় চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতি করতেন। এক পর্যায়ে তিনি সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণ করলে তাকে বিশেষ আনসার সদস্য পদে চাকরি দেয়া হয়। কিন্তু তিনি আত্মসমর্পণ করলেও চরমপন্থি রাজনীতির আদর্শ লালন করতেন। তাছাড়া স্থানীয় প্রতিপ সর্বহারা পার্টির ক্যাডারদের সাথে নানা কারণে তিনি বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এর জের ধরে তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে প্রতিপ চরমপন্থিরা। অবশ্য ডিবি পুলিশ খুনের সাথে জড়িত ৮ জনকে আটক করতে সম হয়েছে। এর মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তবে মূল কিলার জুয়েল ও মুন্নাকে আজো আটক করা যায়নি।
এছাড়া গত ৯ ফেব্র“য়ারি সন্ধ্যায় দিকে শহরতলীর শেখহাটি ভাটার জোড়া পুকুর এলাকায় প্রতিপরে ছুরিকাঘাতে খুন হন আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৪) নামে এক যুবক। ৮ এপ্রিল যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি সরদার বাগডাঙ্গা গ্রামের রিপা বেগম নামে একজন গৃহবধূর লাশ স্থানীয় একটি বিলের ধানতে থেকে উদ্ধার করা হয়। এর আগেরদিন ৭ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। ২০ এপ্রিল দুপুরে সদর উপজেলার বাহাদুর জেস গার্ডেন পার্কের পাশে খুন হন শহিদ কাজী (২৮) নামে এক মিল শ্রমিক। তিনি মাগুরার সদর উপজেলার হাজরাপুর গ্রামের লোকমান কাজীর ছেলে। ১৩ জুন মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের শংকরপুর সন্ন্যাসীর দিঘিরপাড়ে প্রতিপরে ছুরিকাঘাতে খুন হয় ফেরদৌস (২০) নামে এক যুবক। সে নাজির শংকরপুর সাদেক দারোগার মোড়ের আজাদ হোসেনের ছেলে। ১৯ জুন শংকরপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় প্রতিপ সন্ত্রাসীদের পিটুনিতে নিহত হয় সানি নামে এক যুবক। ২০ জুন সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের গ্যাসফিল্ডের পাশে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে খুন হয় মাদ্রাসা ছাত্র সাজেদুর রহমান স¤্রাট (১৬)। প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়। একইদিন সকালে শহরতলীর খোলাডাঙ্গা গাজীর বাজার এলাকার জনৈক সেতুর মটর গ্যারেজের পাশের একটি ড্রেন থেকে সিনবাদ (৩২) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি পুরাতন কসবা মানিকতলা এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে। চোরাই মোবাইল বেচাকেনা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপরা তাকে হত্যা করে। ১ আগস্ট সদর উপজেলার নওদাগ্রামে শ্বশুর বাড়িতে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় গৃহবধূ খুশি ওরফে খুশিলার (২২)। অভিযোগ উঠে, তাকে হত্যা করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন গলায় রশি দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। ২৮ আগস্ট রাতে যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের আগ্রাইল গ্রামে সৎ পিতার ছুরিকাঘাতে খুন হন প্রতিবন্ধী সুমি খাতুন (২৬)। ১৩ সেপ্টেম্বর শহরের ডিসি বাংলোর পূর্ব পাশের চারতলা ভবনের একটি বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে মাথায় পুরনো টেলিভিশন পড়ে নিহত হন শ্রমিক কুদ্দুস। এ ঘটনায় তার পরিবার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। ২২ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার কচুয়া গ্রামের শাহ আলম নামে একজন কৃষককে মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২১ অক্টোবর সকালে যশোর শহরের মোল্লাপাড়া মালোপাড়ায় ভৈরব নদের পাড়ের একটি ঘাসতে থেকে কলেজছাত্র সোহানুর রহমান সোহাগের (২০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগেরদিন রাতে মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীরা ডেকে এনে তাকে হত্যা করে। ৬ নভেম্বর সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামে দুই ভাইয়ের বিবাদ মেটাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের কোপে নিহত হন আরেক ভাই কাঠ মিস্ত্রি আকবর আলী (৩৫)।
গত ২৯ নভেম্বর রাতে যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর পোস্ট অফিস মোড়ে ভাইয়ের হাতে খুন হন এনজিও কর্মী মুক্তা খাতুন (৩৫)। ৯ ডিসেম্বর রাতে মাটি কেনাবেচা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর মোল্লাপাড়ায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন জনি হোসেন (২৬) নামে এক যুবক। ১৯ ডিসেম্বর রাতে বেজপাড়া তালতলা মোড় বাইলেনের প্রতিপ সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে রমজান নামে এক যুবককে। আর এ বছর যশোরে সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২১ ডিসেম্বর সকালে শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়ায়। জমি নিয়ে বিরোধে আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেন প্রতিবেশীরা। অবশ্য এ ঘটনায় ৮ জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা হলেও পুলিশ এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি।
ঝিনাইদহ সীমান্তে টাকা পাচারকালে আটক ১
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ বাংলাদেশী টাকা ভারতে পাচারের সময় বিজিবির হাতে আটক হয়েছেন আমজাদ হোসেন নামে এক টাকা পাচারকারী। তিনি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার নতুন তেঁতুলিয়া গ্রামের জাহাবক্স মল্লিকের ছেলে। ৫৮ বিজিবির উপ-অধিনায়ক কামরুল হাসান মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ৫৮ বিজিবির অধীনস্ত কুসুমপুর বিওপির টহলদল গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃত্তিপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে আমজাদ হোসেনকে ৩৮ হাজার ৫০০ টাকাসহ হাতেনাতে আটক করে। আটক আসামিকে টাকা, মোবাইল ফোন, সিমকার্ডসহ জীবননগর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহে লাশ উদ্ধার ৪৭, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৭, ধর্ষণজনিত ডাক্তারি পরীক্ষা ১২৭
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় বিদায়ী বছরে (২০১৯) খুনসহ লাশ উদ্ধার হয়েছে ৪৭ জনের। এর মধ্যে পরকীয়া, দাম্পত্য কলহ ও নারীঘটিত কারণে খুন হয়েছেন ১২ জন নারী-পুরুষ। উপজেলাগুলোর মধ্যে খুনে শীর্ষে রয়েছে মহেশপুর। এক বছরে সেখানে ১৬ জন নারী-পুরুষ খুন হয়েছেন। মাদকের টাকা না পেয়ে মহেশপুরের নওদা গ্রামে মা মর্জিনা খাতুন ও নানি ছামসুন্নাহারকে খুন করে ইমরান নামে এক মাদকাসক্ত যুবক। সীমান্তে বিএসএফ কতৃক ও পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ৬ জন নিহত হন বিদায়ী বছরে। এছাড়া ঝিনাইদহ সদরে ১১ জন, কালীগঞ্জে ৬ জন, কোটচাঁদপুরে ১ জন, শৈলকুপায় ৮ জন ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ৫ জন খুনসহ লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে ধর্ষণজনিত ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২৭ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে ৮/১০ জনের ধর্ষণের অভিযোগ প্রমানিত হয়নি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন পুলিশ সদস্যসহ নিহত হয়েছেন ৫৭ জন। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় সবচে বেশি নিহত হয়েছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলায়। সদরের বিভিন্ন সড়কে ২২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কালীগঞ্জে ১৫ জন, কোটচাঁদপুরে ট্রেনে কাটা পড়াসহ ৩ জন, শৈলকুপায় ১০ জন, মহেশপুরে ৪ জন ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ৩ জন নিহত হন। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস জানান, ঝিনাইদহে সব খুনের কু ও মোটিভ উদ্ধারসহ আসামিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে ঝিনাইদহে পরকীয়ার কারণে কিছু খুনের ঘটনা ঘটেছে। পিতা-মাতার সাথে সন্তানের সুসম্পর্ক নেই। স্কুল-কলেজে জীবনমুখী নৈতিক শিক্ষা নেই। শিক্ষকদের নৈতিক অধঃপতন ঘটেছে। তারাও ছাত্রীদের ধর্ষণ ও হত্যা করছে। ফেসবুক ও ইউটিউবে অশ্লীল ভিডিও দেখে ছেলে-মেয়েরা বিপথগামী হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস বলেন, অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব রয়েছে। তারা ১৮ বছরের আগেই সন্তানের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছেন।
খুলনায় বছর জুড়ে শ্রমিক অসন্তোষ
মো.জামাল হোসেন,খুলনা ॥ বছরের শুরু থেকেই শিল্পনগরী খুলনায় শুরু হয় শ্রমিক আন্দোলন। থেমে থেমে এ আন্দোলন সারা বছর ধরেই চলে। ১১দফা দাবিতে খুলনা অঞ্চলের ৯ টি পাটকলের শ্রমিকদের আন্দোলন এখনও অব্যাহত রয়েছে। দাবি আদায়ে সভা-সমাবেশ, মিল গেটে বিক্ষোভ, ভুখা মিছিল,সড়ক অবরোধ,মানব বন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন শেষে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে আবার শুরু হয়েছে পাটকল শ্রমিকদের আমরণ গণঅনশন। এতে ২ শ্রমিকের মৃত্যু এবং প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। খুলনা অঞ্চলে মোট রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল রয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় রয়েছে সাতটি ও যশোরে রয়েছে দু’টি। পাটকলগুলো হলো ক্রিসেন্ট জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল, স্টার জুট মিল, আলিম জুট মিল, ইস্টার্ন জুট মিল, কার্পেটিং জুট মিল ও জেজেআই জুট মিল। এসব মিলে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক রয়েছে। বছরের শুরু থেকেই বকেয়া মজুরীর দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন শুরু হয় খুলনার শিল্পাঞ্চলে। দফায় দফায় সড়ক অবরোধ,বিক্ষোভ মিছিল আর সভা সমাবেশের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে আন্দোলন। পরবর্তীতে খুলনা এবং ঢাকায় কয়েক দফা বৈঠকের পর আন্দোলন স্থগিত করা হয়।
দাবিসমূহ : ১১ দফার মধ্যে বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও পাটকল শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত মজুরি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এ মূহুর্তে আন্দোলনরত শ্রমিকদের মূল দাবী। এছাড়া পাটের মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী পাট কেনার জন্য মিলগুলোকে পযাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া, পাটকলে বর্তমানে কার্যকর পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা বাতিল করা, বদলি শ্রমিকদের স্থায়ী করা, টার্মিনেশন ও বরখাস্ত সব শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বহাল করা, পিচ রেট (ঘণ্টা অনুযায়ী মজুরি) শ্রমিকদের গড় মজুরি দেওয়া, অবসর ও মৃত্যু বীমার পাওনা পরিশোধ করা ( পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকাসহ), নিজ নিজ মিলের পিএফ ফান্ডের টাকা আবার ওই ফান্ডে ফেরত দেওয়া, শ্রম আদালত ও আপিল ট্রাইবুনালের যে কোনো রায় পুনর্বহাল রাখা, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে শ্রমিকদের কাজ বন্টন করা এবং মিলে কর্মচারী নিয়োগ করার ক্ষমতা আবার মিল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা,সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের সিদ্ধান্ত বাতিল ও অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকা প্রদান,পাটকলগুলো আধুনিকীকরণের মাধ্যমে লাভজনক শিল্পে পরিণত, পিপিপি’র প্রকল্পে নয় সরকারী উদ্যোগে পাটকলের মেশিন পত্র আধুনিকীকরণসহ উৎপাদন বৃদ্ধি করার দাবীও জানাচ্ছে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানান,সরকারি কর্মচারীদের জন্য পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন হয়েছে ২০১৫ সাল থেকে। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের শ্রমিকদের জন্য মজুরি কমিশন ঘোষণা হয়েছে ২০১৫ সালে। এমনকি চিনি, খাদ্য, শিল্পসহ অন্যান্য সেক্টরে তা বাস্তবায়ন হয়েছে। কিন্তু,উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পাটকল শ্রমিকদের ২০১৫ সালে ঘোষিত মজুরি কমিশনের রোয়েদাদ এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। সর্বশেষ ১১ দফা দাবিতে গত ১৭ নভেম্বর ৬ দিনের কর্মসূচির ঘোষণা দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ। ভুখা মিছিল, মিল গেটে প্রতীকী অনশন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। গেট সভা ও শপথগ্রহণ এবং ১০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে নিজ নিজ মিল গেটে আমরণ গণঅনশন শুরু করে তারা।
উল্লেখ্য, কেবল খুলনা অঞ্চলেই রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের শ্রমিকদের ১০ থেকে ১১ সপ্তাহের মজুরি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চার মাসের বেতন বাবদ ৫৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। বিজেএমসি কর্মকর্তারা বলছেন, কার্যকরী মূলধন না থাকায় কাঁচা পাটের মজুদ নেই। ফলে উৎপাদনও কমেছে। বর্তমানে মিলগুলোয় উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার করা হচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে তাদের লোকসানের পরিমাণ বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান জানান, অনশন কর্মসূচি চলাকালে এ পর্যন্ত দুজন শ্রমিক মারা গেছেন। কর্মসূচির চতুর্থ দিন শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) অসুস্থ ১ শ্রমিকের মৃত্যু এবং প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মারা যাওয়া প্লাটিনাম জুটমিলের মৃত শ্রমিক আব্দুস সাত্তারের জানাজা জানাযা শেষে খুলনা বিভাগীয় শ্রম কর্মকর্তা মিজানুর রহমান নগদ ৫০হাজার টাকা তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
পরবর্তিতে গত (১৫ ডিসেম্বর) প্লাটিনাম জুট মিলের ম্যাকানিক্যাল বিভাগের শ্রমিক সোহরাব খুমেক হাশপাতালে মারা যায়। সে অনশন ধর্মঘট কালে অসুস্থ হয়ে মনিষা কিনিকে ভর্তি হয়। সুস্থ্য হয়ে কাজে যোগ দেয়। নিউজপ্রিন্ট মিল গেটের বাসায় থাকা অবস্থায় অসুস্থ হলে তাকে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা অবস্থায় সে মারা যায়।
পাটকল শ্রমিক আন্দোলনের বিষয় নিয়ে ১৫ ডিসেম্বর বিজেএমসিতে শ্রমিক নেতাদের সাথে পাট মন্ত্রী,শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও বিজেএমসির চেয়ারম্যানের বৈঠকে হয়েছে। এ বৈঠকে মন্ত্রী ২২ ডিসেম্বর পযর্ন্ত সময় নিয়েছেন। শ্রমিক নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ২২ ডিসেম্বর পযর্ন্ত তারা ঢাকায় অবস্থান করবেন। চুড়ান্ত খবর না নিয়ে স্ব স্ব মিলে ফিরবেন না। সর্বশেষ গত ২৭ ডিসেম্বর তৃতীয় দফায়বৈঠকে খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম মুন্নজান সুফিয়ানসহ পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিজেএমসি’র চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পাটকল শ্রমিক লীগ এবং সিবিএ-ননসিবিএ উপস্থিতে আলোচনা ফলপ্রসু না হওয়ায় আবারও আমরণ অনশনে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সাবেক সিবিএ সভাপতি মোঃ মুরাদ হোসেন বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। সভায় এক মাসের সময় চাওয়া হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের পে ওই সময় দেওয়া সম্ভব নয়। শ্রমিকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে তাই আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। শ্রমিকদের এখন মাত্র একটিই চাওয়া আর তা হলো মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন। তাঁদের সেই দাবি পূরণ না হলে তাঁরা কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য। পাটকল শ্রমিক নেতারা জানায়, গত ১৩ ডিসেম্বর রাতে খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তিনদিনের জন্য আমরণ অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন শ্রমিকরা। ভালো কিছু সংবাদের অপোয় ঢাকায় থাকা শ্রমিক নেতাদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন পাটকলের শ্রমিকরা। কিন্তু তাঁদের জন্য ভালো কোনো বার্তা আসেনি। এমন প্রেক্ষিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে খুলনায় থাকা পাটকল শ্রমিকদের মধ্যে। প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন বলেন, ২৯ ডিসেম্বর থেকে আবারও জুট মিলের শ্রমিকরা প্যান্ডেল করে কাঁথা বালিশ নিয়ে ফের আমরণ গণঅনশনে বসেছে। কর্মসূচি পালন করতে শ্রমিকদরা প্রস্তুত আছে। শ্রমিকরা এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত উঠবো না।
লোহাগড়ায় ১২০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ
লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা ॥ নড়াইলের লোহাগড়া থানার পুলিশ ১২০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে। মঙ্গলবার সকালে লীপাশার চৌরাস্তা বাজারে বিক্রিকালে এই পলিথিন জব্দ করা হয়। সকাল ১১ টার দিকে চৌরাস্তা বাজারে নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রিকালে পুলিশের এসআই মিল্টন সেগুলো জব্দ করেন। পলিথিন বিক্রেতা পাঁচুড়িয়া গ্রামের মসিয়ার মোল্যার ছেলে সজিব মোল্যা বলেন, পলিথিনগুলো তার ভাই আরিফ মোল্যার গোডাউন থেকে আনা হয়েছে। তবে আরিফ মোল্যা বলেন, পলিথিনের মূল মালিক ব্যবসায়ী হরিচান বিশ^াস। এ ব্যাপারে জানার জন্য হরিচান বিশ^াসের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। লোহাগড়া থানা পুলিশের ওসি আলমগীর হোসেন জানান, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, হরিচান বিশ^াস গত কয়েক মাস আগে প্রায় ৭০ হাজার টাকার পলিথিনসহ ধরা পড়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে জরিমানা করা হয়।
মহেশপুরে ৮ কেজি গাঁজাসহ আটক
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা ॥ ঝিনাইদহের মহেশপুরে ৮ কেজি গাঁজাসহ একব্যক্তিকে আটক করেছে মহেশপুর থানার পুলিশ। সোমবার রাত নয়টার দিকে মহেশপুর উপজেলার সামন্তা গ্রাম থেকে গাঁজাসহ হায়েত আলী (৪৫) নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মহেশপুর থানায় মামলা হয়েছে।
বছর জুড়ে সড়কে মৃত্যুর হানা দুর্ঘটনায় যশোরে নিহত ৭৬
মাসুদ রানা বাবু ॥ বিদায়ী বছরে যশোরের আলোচিত বিষয় ছিল সড়ক দুর্ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই মানুষ দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে লাশের মিছিল। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী এ বছর যশোরে ৭৬ জন নিহিত এবং শ’ শ’ নারী-পুরুষ আহত হয়েছে। যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ও সড়কে শৃঙ্খলা না থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কগুলো এখন হয়ে উঠেছে মৃত্যুর ফাঁদ। দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ হলো, ওভার লডিং ওভার টেকিং, অদক্ষ চালক, নিষিদ্ধ যানের বেপরোয়া চলাচল। উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে ১৫ জানুয়ারি যশোর-মাগুরা মহাসড়কের খাজুরায় বাসচাপায় স্কুলছাত্রী ফাতিমা খাতুন নিহত হয়। পরদিন চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের বাটিকুমারি এলাকায় ট্রলি চাপায় হৃদয় আহমেদ নামের ওপর এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাউলিয়া গ্রামে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়। ১১ মার্চ যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের সানতলা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আশরাফ হোসেন নিহত হন। একই দিন সন্ধ্যায় যশোর শহরের তেঁতুলতলা এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে এমএম কলেজ শিক্ষার্থী সবুজ হোসেন নিহত হন। ২২ অক্টোবর খয়েরতলা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সামনে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মহিদুল ইসলাম লিয়ন (৭) নামের এক স্কুলছাত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। ১৯ অক্টোবর যশোর শহরের মুড়লি জোড়া মন্দির এলাকায় জ্বালানি তেলবাহী লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে শিক্ষক আব্দুর রশিদ (৬০) ঘটনাস্থলে নিহত হন। ২ নভেম্বর কেশবপুরের আলাপোলে আলমসাধুর ধাক্কায় স্কুলছাত্র এনামুল হক রনি (১৫) নিহত হয়। ১৪ নভেম্বর যশোর-নড়াইল মহাসড়কের বাঘারপাড়া ভিটাবল্যা বাজারে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী একরামুল হোসেন (২৬) নিহত হন। ২৪৫ নভেম্বর বেনাপোলের ছোটআঁচড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় যুবক শহর আলী (২৭) নিহত হন। ১৭ ডিিেসম্বর হাইকোর্ট মোড়ে ট্রাক চাপায় কলেজ (১৯) ছাত্র হাসিবুল হোসেন নিহত হন। ৫ ডিসেম্বর ঝিকরগাছার বাঁকড়া এলাকায় নসিমন-করিমন সংঘর্ষে মসজিদের ইমাম মাওলানা কোমর উদ্দিন গাজী (৬০) নিহত হন। ৭ ডিসেম্বর যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের চুড়ামনকাটি এলাকায় গড়াই পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় দিনমজুর নাসিরুদ্দিন (৩৮) নিহত হন। ১৪ ডিসেম্বর যশোর শহরের মুজিব সড়কের রেলগেটে পরিবহনের ধাক্কায় রনজিত রায় (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। একই দিন ধর্মতলা-ছুটিপুর সড়কের পতেঙ্গালী এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মারুফ হোসেন (৫৫) ও শার্শায় ট্রাকের ধাক্কায় ইয়াকুব আলী (৭০) নিহত হন। ১৭ ডিসেম্বর যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের চুড়ামনকাটি বাজারে পিকআপের ধাক্কায় আবুল হোসেন সরদার (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হন। পরদিন যশোর-খুলনা মহাসড়কের অভয়নগর আকিজ জুটমিল এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় জামাল হোসেন (৪৪) নিহত হন। ২২ ডিসেম্বর যশোরের খাজুরা বাজার থেকে তেঁতুলতলা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনয় মোটরসাইকেলচালক সাবদুল হোসেন (৪০) নিহত হন। এর আগে ১১ ডিসেম্বর ঝিকরগাছার মোহাম্মদপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী কলেজছাত্র রিমন হোসেন (২২) নিহত হন। ২০ মার্চ যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নাভারণে দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যান কেড়ে নেয় মেধাবী শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত নিপারার প্রাণ। ৩০ নভেম্বর অভয়নগরে ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষে আহত হন ৬ জন। ১৩ নভেম্বর যশোরের বিভিন্ন পল্লীতে দুর্ঘটনায় আহত হন ৬ জন, ১১ ডিসেম্বর যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছার মল্লিকপুরে বাস উল্টে অর্ধ শতাধিক যাত্রী আহত হন। ২২ ডিসেম্বর রাজারহাট-মনিরামপুর সড়কের বেগারিতলায় বাস-মহেন্দ্র সংঘর্ষে ৭ যাত্রী আহত হন।
শরণখোলায় পাঁচটি অবৈধ করাতকল সিলগালা
বাগেরহাট সংবাদদাতা ॥ সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঁচটি অবৈধ করাতকল ভ্রাম্যমাণ আদালত সিলগালা করে দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ ও শরণখোলা উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে গড়ে তোলা এসব করাতকল সিলগালা করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে করাতকল স্থাপন করে সুন্দরী কাঠসহ বিভিন্ন ধরনের কাঠ চেরাই করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা অভিযান চালিয়ে পাঁচটি করাত কলকে সিলগালা করেছি। এ সময় সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের বন সংরক্ষক বলেন, এরপরেও যদি কোন করাতকল সংরক্ষিত এলাকায় থাকে সেগুলোর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বকুলতলা ও তাফালবাড়ি গ্রামের তরিকুল ইসলাম, আব্দুল গণি দফাদার, দেলোয়ার হোসেন, আলাউল হাসান সেলিম, নুরুল হক আকণের করাতকল সিলগালা করা হয়েছে।
মুখে দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ অর্জন লিতুন জিরার
স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর (যশোর)॥ যশোরে দুই হাত-পা ছাড়াই জন্ম নেয়া লিতুন জিরা মুখে ভর দিয়ে লিখেই এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। লিতুন জিরা মণিরামপুর উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে। সে খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। লিতুন জিরার বাবা হাবিবুর রহমান ও মা জাহানারা বেগম জানান, জন্মের পর মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতের তারা। এখন মেয়ের মেধা তাদের আশার সঞ্চার করছে। লিতুন জিরা আর দশজন শিশুর মতো স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া-দাওয়া, গোছল সব কিছুই করতে পারে। মুখ দিয়েই লিখে সে। তার চমৎকার লেখা যে কারো দৃষ্টি কাড়বে। লিতুনের একটাই ইচ্ছা, পর নির্ভরশীল না হয়ে লেখা পড়া শিখে সে নিজেই কিছু করতে চায়।
খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুন জানান, ২৯ বছর শিক্ষকতা জীবনে তিনি লিতুন জিরার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর দেখা পাননি। শুধু লেখা-পড়ায় না, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অন্যদের থেকে অনেক ভাল সে। তিনি জানান, দুই হাত-পা ছাড়া জন্ম নেয়া লিতুন জিরা প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর মেধার বিকাশে মুখ দিয়ে লিখেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। লিতুনের পিতা কলেজ শিক হাবিবুর রহমান জানান,লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহী লিতুন জিরা হুইল চেয়ারে করে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। একমাত্র চলাচলের বাহন হুইল চেয়ারটি একপর্যায়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়ে লিতুনের যাওয়াআসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম দেখা দেয়। ১৭ বছর যাবত কলেজে চাকুরি করলেও আজও এমপিওভূক্তি হয়নি ওই প্রতিষ্ঠানটি। ফলে অর্থনৈতিক অনটনের জন্য মেয়ের চাহিদা মিটাতে হিমশিম খান হাবিবুর রহমান।










